সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার মানুষ আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। নামাজ শেষে অনেকেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি সম্পন্ন করেছেন।
ভোলা, দিনাজপুর, বগুড়া, চাঁদপুর, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝিনাইদহ, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ধামরাই, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভোলা জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সুরেশ্বরী ও সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী প্রায় ৫ হাজার মানুষ ঈদ উদযাপন করছেন। সকাল ৯টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের পঞ্চায়েত বাড়ির দরজায় তাদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে চাঁদপুর জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে ঐতিহ্যবাহী সাদ্রা দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে আগাম ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, যেখানে সকাল ৮টায় সাদ্রা দরবার শরীফ মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দিনাজপুরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টারে সকাল ৮টায় একটি প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নারী ও শিশুসহ প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। এছাড়া জেলার চিরিরবন্দর, কাহারোল, বোচাগঞ্জ, বিরল ও বিরামপুর উপজেলাতেও ঈদের জামাত হয়েছে।
বগুড়ার গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলীতে এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো এভাবে আগাম ঈদ উদযাপন করা হলো। তবে আবহাওয়া বৈরী থাকায় এবং বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর মসজিদের ভেতরে এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলার সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার কিছু স্থানেও আগাম ঈদ উদযাপিত হয়েছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার অন্তত ১৬টি গ্রামের মানুষ ঈদ উদযাপন করছেন। এর মধ্যে ইসলামপুরের রামভদ্রা এলাকায় বৃষ্টির কারণে সকাল সাড়ে ৮টায় আলতাফুর রহমানের বাড়িতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সনমান্দি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার গিরদান পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন হানাফি (রা.) মাযহাবের অনুসারীরা। সেখানে প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
এছাড়া সাদিপুর, বারদী ও জামপুর ইউনিয়নের ২৩টি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার নিত্যানন্দনপুর স্কুল মাঠ মসজিদে সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টির কারণে মুসল্লিরা এবার মাঠে না পড়ে মসজিদে নামাজ আদায় করেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদীতেও একদিন আগেই ঈদের নামাজ ও পশু কোরবানি করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও গোমস্তাপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সকালে জামায়াতে ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি সম্পন্ন হয়। ঢাকার ধামরাই সদর ইউনিয়নের শরীফ ভাগ এলাকায় সকাল ৭ টায় নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ৫০ জন মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন।
মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকার একটি বাসায় সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নামাজে ইমামতি করেন পির সাহেব উজান্ডি আব্দুল মাওফিক চৌধুরী। কুড়িগ্রামের রৌমারী ও ফুলবাড়ী উপজেলাসহ জেলার অন্তত ছয়টি গ্রামে আহলে হাদিস অনুসারী মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করে কোরবানি দেন, যেখানে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার ছিল।
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর মুসলিম জামে মসজিদে সকাল ৮টার দিকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন স্থানীয় বাসিন্দা রহিম গাজী। তবে এই জামাতে মুসল্লির উপস্থিতি ছিল খুবই কম, যেখানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মাত্র পাঁচজন অংশ নেন। সাতক্ষীরার বাওখোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৯টায় আহলে হাদিস মতাদর্শের একাংশের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামে একটি ভবনের ছাদে সকাল সাড়ে ৯টায় ২১ জন মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন, যেখানে ইমামতি ও খুতবা পাঠ করেন হাফেজ রেজওয়ান ইসলাম আকন্দ।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার মানুষ আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। নামাজ শেষে অনেকেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি সম্পন্ন করেছেন।
ভোলা, দিনাজপুর, বগুড়া, চাঁদপুর, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝিনাইদহ, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ধামরাই, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভোলা জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সুরেশ্বরী ও সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী প্রায় ৫ হাজার মানুষ ঈদ উদযাপন করছেন। সকাল ৯টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের পঞ্চায়েত বাড়ির দরজায় তাদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে চাঁদপুর জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে ঐতিহ্যবাহী সাদ্রা দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে আগাম ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, যেখানে সকাল ৮টায় সাদ্রা দরবার শরীফ মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দিনাজপুরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টারে সকাল ৮টায় একটি প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নারী ও শিশুসহ প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। এছাড়া জেলার চিরিরবন্দর, কাহারোল, বোচাগঞ্জ, বিরল ও বিরামপুর উপজেলাতেও ঈদের জামাত হয়েছে।
বগুড়ার গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলীতে এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো এভাবে আগাম ঈদ উদযাপন করা হলো। তবে আবহাওয়া বৈরী থাকায় এবং বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর মসজিদের ভেতরে এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলার সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার কিছু স্থানেও আগাম ঈদ উদযাপিত হয়েছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার অন্তত ১৬টি গ্রামের মানুষ ঈদ উদযাপন করছেন। এর মধ্যে ইসলামপুরের রামভদ্রা এলাকায় বৃষ্টির কারণে সকাল সাড়ে ৮টায় আলতাফুর রহমানের বাড়িতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সনমান্দি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার গিরদান পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন হানাফি (রা.) মাযহাবের অনুসারীরা। সেখানে প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
এছাড়া সাদিপুর, বারদী ও জামপুর ইউনিয়নের ২৩টি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার নিত্যানন্দনপুর স্কুল মাঠ মসজিদে সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টির কারণে মুসল্লিরা এবার মাঠে না পড়ে মসজিদে নামাজ আদায় করেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদীতেও একদিন আগেই ঈদের নামাজ ও পশু কোরবানি করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও গোমস্তাপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সকালে জামায়াতে ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি সম্পন্ন হয়। ঢাকার ধামরাই সদর ইউনিয়নের শরীফ ভাগ এলাকায় সকাল ৭ টায় নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ৫০ জন মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন।
মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকার একটি বাসায় সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নামাজে ইমামতি করেন পির সাহেব উজান্ডি আব্দুল মাওফিক চৌধুরী। কুড়িগ্রামের রৌমারী ও ফুলবাড়ী উপজেলাসহ জেলার অন্তত ছয়টি গ্রামে আহলে হাদিস অনুসারী মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করে কোরবানি দেন, যেখানে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার ছিল।
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর মুসলিম জামে মসজিদে সকাল ৮টার দিকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন স্থানীয় বাসিন্দা রহিম গাজী। তবে এই জামাতে মুসল্লির উপস্থিতি ছিল খুবই কম, যেখানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মাত্র পাঁচজন অংশ নেন। সাতক্ষীরার বাওখোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৯টায় আহলে হাদিস মতাদর্শের একাংশের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামে একটি ভবনের ছাদে সকাল সাড়ে ৯টায় ২১ জন মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন, যেখানে ইমামতি ও খুতবা পাঠ করেন হাফেজ রেজওয়ান ইসলাম আকন্দ।

আপনার মতামত লিখুন