সংবাদ

সিজেপি-র এক্স অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা!


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৯:১৩ এএম

সিজেপি-র এক্স অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা!

ভারতে আবারও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে বড় বিতর্ক সামনে এল। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল দেশজুড়ে ব্লক করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

২১ মে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশের পরই ভারতে এই এক্স অ্যাকাউন্টটি ব্লক করে দেওয়া হয়। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা আইবি’র একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে, যেখানে এই অ্যাকাউন্টকে ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯(এ) ধারা প্রয়োগ করে এক্স কর্তৃপক্ষকে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এই আইনের অধীনে সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি সম্পর্ক কিংবা জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে যেকোনো অনলাইন তথ্য বা অ্যাকাউন্টে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিতে পারে।

তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিজিৎ দিপকে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বসবাসকারী এই ৩০ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতার দাবি, এই পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। তিনি আদালতের কাছে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে সামনে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ জানিয়েছেন, অ্যাকাউন্টটি জনপ্রিয় হওয়ার পর থেকেই তিনি একাধিক হুমকি পাচ্ছেন এবং ভারতে থাকা তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। তাঁর কথায়, এই প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত, তাই তাঁর পরিবারের ওপর কোনো ঝুঁকি আসুক তিনি চান না।

এই ঘটনার মধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টের আরেকটি সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে—উমর খালিদকে ৩ দিনের অন্তর্র্বতী জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। ফলে একইসঙ্গে আবারও সামনে এসেছে বিচারব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল প্রশ্নগুলি।

সব মিলিয়ে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র এক্স হ্যান্ডেল ব্লক হওয়া এবং তা ঘিরে আইনি লড়াই এখন শুধু একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের প্রশ্ন নয়—এটি হয়ে উঠেছে জাতীয় নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিস্বাধীনতার এক বড় বিতর্ক। এখন নজর দিল্লি হাইকোর্টের দিকে—এই মামলার রায় ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল পরিসরে মতপ্রকাশের সীমারেখা কতটা বিস্তৃত বা সংকুচিত হবে, তা অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


সিজেপি-র এক্স অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা!

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

ভারতে আবারও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে বড় বিতর্ক সামনে এল। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল দেশজুড়ে ব্লক করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

২১ মে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশের পরই ভারতে এই এক্স অ্যাকাউন্টটি ব্লক করে দেওয়া হয়। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা আইবি’র একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে, যেখানে এই অ্যাকাউন্টকে ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯(এ) ধারা প্রয়োগ করে এক্স কর্তৃপক্ষকে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এই আইনের অধীনে সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি সম্পর্ক কিংবা জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে যেকোনো অনলাইন তথ্য বা অ্যাকাউন্টে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিতে পারে।

তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিজিৎ দিপকে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বসবাসকারী এই ৩০ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতার দাবি, এই পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। তিনি আদালতের কাছে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে সামনে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ জানিয়েছেন, অ্যাকাউন্টটি জনপ্রিয় হওয়ার পর থেকেই তিনি একাধিক হুমকি পাচ্ছেন এবং ভারতে থাকা তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। তাঁর কথায়, এই প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত, তাই তাঁর পরিবারের ওপর কোনো ঝুঁকি আসুক তিনি চান না।

এই ঘটনার মধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টের আরেকটি সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে—উমর খালিদকে ৩ দিনের অন্তর্র্বতী জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। ফলে একইসঙ্গে আবারও সামনে এসেছে বিচারব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল প্রশ্নগুলি।

সব মিলিয়ে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র এক্স হ্যান্ডেল ব্লক হওয়া এবং তা ঘিরে আইনি লড়াই এখন শুধু একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের প্রশ্ন নয়—এটি হয়ে উঠেছে জাতীয় নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিস্বাধীনতার এক বড় বিতর্ক। এখন নজর দিল্লি হাইকোর্টের দিকে—এই মামলার রায় ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল পরিসরে মতপ্রকাশের সীমারেখা কতটা বিস্তৃত বা সংকুচিত হবে, তা অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত