সংবাদ

বৃষ্টিতে ভিজেই শোলাকিয়ায় মুসল্লিদের ঈদুল আজহার নামাজ আদায়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

বৃষ্টিতে ভিজেই শোলাকিয়ায় মুসল্লিদের ঈদুল আজহার নামাজ আদায়

মুষলধারে বৃষ্টি মধ্যেই কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহার জামাত। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই জামাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মুসল্লি খোলা মাঠে ভিজে ভিজেই নামাজ আদায় করেন।

১৮২৮ সালে শুরু হওয়া শোলাকিয়ার ঈদ জামাতের ধারাবাহিকতায় এবার অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

শোলাকিয়া মাঠের শতবর্ষের ঐতিহ্য অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে তিনটি, ৫ মিনিট আগে দুটি এবং ১ মিনিট আগে একটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে জামাত ও খুতবা শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদ জামাতে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ায় আসেন। মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করে। এর একটি ময়মনসিংহ থেকে এবং অন্যটি ভৈরব থেকে ছেড়ে আসে। জামাত শেষে ট্রেন দুটি মুসল্লিদের নিয়ে পুনরায় নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়।

শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, এবারের জামাতে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ হাজার মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহার জামাতে সাধারণত মুসল্লির উপস্থিতি কিছুটা কম হয়ে থাকে, কারণ অনেকেই কোরবানির প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

ঈদ জামাতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ খান সোহেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খান বাহাদুর ১৮২৮ সালে কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশ নেওয়ায় মাঠটির নাম হয় সোয়া লাখি মাঠ। পরবর্তীতে উচ্চারণের বিবর্তনে সেটিই শোলাকিয়া নামে পরিচিতি পায়।

প্রায় সাত একর আয়তনের এ ঐতিহাসিক ঈদগাহ মাঠে একসঙ্গে দুই লাখেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মাঠটিতে রয়েছে ২৬৫টি কাতার।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


বৃষ্টিতে ভিজেই শোলাকিয়ায় মুসল্লিদের ঈদুল আজহার নামাজ আদায়

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

মুষলধারে বৃষ্টি মধ্যেই কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহার জামাত। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই জামাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মুসল্লি খোলা মাঠে ভিজে ভিজেই নামাজ আদায় করেন।

১৮২৮ সালে শুরু হওয়া শোলাকিয়ার ঈদ জামাতের ধারাবাহিকতায় এবার অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

শোলাকিয়া মাঠের শতবর্ষের ঐতিহ্য অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে তিনটি, ৫ মিনিট আগে দুটি এবং ১ মিনিট আগে একটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে জামাত ও খুতবা শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদ জামাতে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ায় আসেন। মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করে। এর একটি ময়মনসিংহ থেকে এবং অন্যটি ভৈরব থেকে ছেড়ে আসে। জামাত শেষে ট্রেন দুটি মুসল্লিদের নিয়ে পুনরায় নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়।

শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, এবারের জামাতে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ হাজার মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহার জামাতে সাধারণত মুসল্লির উপস্থিতি কিছুটা কম হয়ে থাকে, কারণ অনেকেই কোরবানির প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

ঈদ জামাতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ খান সোহেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খান বাহাদুর ১৮২৮ সালে কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশ নেওয়ায় মাঠটির নাম হয় সোয়া লাখি মাঠ। পরবর্তীতে উচ্চারণের বিবর্তনে সেটিই শোলাকিয়া নামে পরিচিতি পায়।

প্রায় সাত একর আয়তনের এ ঐতিহাসিক ঈদগাহ মাঠে একসঙ্গে দুই লাখেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মাঠটিতে রয়েছে ২৬৫টি কাতার।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত