বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা (যা ই-রিকশা বা ইজি-বাইক নামে পরিচিত) চলাচল করছে। বিশেষ করে ঢাকার মতো শহরগুলোতে এই যানবাহনগুলো লাখো মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। যানবাহনের সংখ্যাটি বিশাল হলেও, এই খাতটি এখনো বড় অংশ অনিয়ন্ত্রিত রয়ে গেছে। ফলে এর ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে।
ধারণা করা হয়, বাংলাদেশের ৪০ লাখ ব্যাটারিচালিত
রিকশার প্রায় সবকটিতেই বর্তমানে লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রস্তুতকারক
থেকে শুরু করে কিছু সরকারি উদ্যোগও স্বীকার করে যে, এই খাতে লিড-অ্যাসিড ব্যাটারিই
প্রধান প্রযুক্তি।
বাংলাদেশে ই-রিকশায় লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি
ব্যবহারের মূল কারণ হলো এগুলো তুলনামূলক সস্তা এবং সহজলভ্য। দেশের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো
স্বল্পমূল্যের রিকশাগুলোর জন্য এটিই সবচেয়ে ব্যবহারিক পছন্দ। যদিও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির
মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে অনেক সুবিধা রয়েছে, তবুও কম প্রাথমিক খরচ এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর
কারণে লিড-অ্যাসিড ব্যাটারিই আধিপত্য বজায় রেখেছে।
সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আয়ু লিড-অ্যাসিড
ব্যাটারির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, প্রায় ৩ থেকে ৪ গুণ। লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির
আয়ু সাধারণত ৩-৫ বছর হলেও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ১০ বছর বা তার বেশি সময় স্থায়ী হতে
পারে।
তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ই-রিকশার লিড-অ্যাসিড
ব্যাটারির আয়ু সাধারণত ২ বছরেরও কম হয়। এর পেছনে প্রতিকূল অপারেটিং পরিবেশ, ত্রুটিপূর্ণ
চার্জিং ব্যবস্থা এবং নিম্নমানের ব্যাটারি দায়ী। একটি ই-রিকশায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি
ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। যদি আমরা লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির গড় আয়ু ৪ বছর ধরি এবং রিকশা প্রতি
৪টি ব্যাটারি হিসাব করি, তবে বছরে প্রায় ৪০ লাখ ব্যাটারি অকেজো হয়ে পড়ছে। বাস্তবে এই
সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি।
লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং বা পুনর্প্রক্রিয়াজাতকরণের
চিত্রটি আরও উদ্বেগজনক। পিওর আর্থ এবং ইউনিসেফ-এর ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে
ব্যবহৃত লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির মাত্র ৩০ শতাংশ আনুষ্ঠানিক বা বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে
রিসাইকেল করা হয়। বাকি ৭০ শতাংশই অনিয়ন্ত্রিত এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে কোনো ধরনের
নিরাপত্তা মান না মেনেই প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।
যখন ব্যাটারিগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে রিসাইকেল
করা হয়, তখন এর প্রায় সবটুকু সীসা ধূলিকণা, ধোঁয়া এবং দূষিত বর্জ্যের মাধ্যমে পরিবেশে
ছড়িয়ে পড়ে, যা মারাত্মক দূষণ ঘটায়। বিপরীতে, নিয়ন্ত্রিত ও বৈধ উপায়ে রিসাইক্লিং করলে
৯৫ শতাংশের বেশি সীসা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, যা দূষণের হার ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনে।
ইউনিসেফ-এর মতে, বাংলাদেশে আনুমানিক ৩ কোটি
৬০ লাখ শিশুর রক্তে সীসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম এর বেশি, যা অনুমোদিত
সীমার ওপরে। অনিরাপদ ব্যাটারি রিসাইক্লিং থেকে সৃষ্ট সীসা দূষণকে এই সংকটের অন্যতম
প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর অধীনে সুনির্দিষ্ট
বিধিমালা এবং এসআরও (SRO) জারি করা হলেও এর প্রয়োগ অত্যন্ত দুর্বল। স্থানীয় সরকারগুলোর
কাছে প্রায়ই এই অনিবন্ধিত রিকশাগুলো নিয়ন্ত্রণ করার বা অবৈধ রিসাইক্লিং কার্যক্রমের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সক্ষমতা বা আইনি ম্যান্ডেট থাকে না। এছাড়া একটি কেন্দ্রীয়
তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাটারি বর্জ্য নিরাপদে সংগ্রহ ও অপসারণ নিশ্চিত করা প্রায়
অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সীসা দূষণ কেবল জনস্বাস্থ্য সমস্যাই নয়, এটি
একটি বড় অর্থনৈতিক বোঝাও বটে। ইউনিসেফ ও পিওর আর্থ-এর তথ্যমতে, সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে
বার্ষিক প্রায় ১৫.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়, যার মূল কারণ উৎপাদনশীলতা হ্রাস
এবং চিকিৎসা ব্যয়ের বৃদ্ধি। আনুষ্ঠানিক রিসাইক্লিং ব্যবস্থা, নিরাপদ ব্যাটারি বিকল্প
এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সীসা দূষণ রোধ করা গেলে তা কেবল স্বাস্থ্যই রক্ষা করবে
না, বরং বিশাল অর্থনৈতিক সুফলও দেবে।
ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত প্রসারের ফলে সৃষ্ট
সীসা দূষণ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রথমত, ক্ষতিকর ও অবৈধ রিসাইক্লিং বন্ধে
বিদ্যমান ব্যাটারি অপসারণ বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি নজরদারি ও জরিমানার
পরিমাণ বাড়ানো জরুরি।
দ্বিতীয়ত, সকল ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিবন্ধনের
আওতায় এনে পৌরসভা বা স্থানীয় সরকার পর্যায়ে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে জবাবদিহিতা
নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার
বিভাগের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিক ও নিরাপদ রিসাইক্লিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের
দাবি।
চতুর্থত, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি কমাতে
লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মতো আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির
ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে।
সবশেষে, রিকশা মালিক, চালক এবং ব্যাটারি বিক্রেতাদের
মাঝে সীসা দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালাতে
হবে, যাতে একটি জনবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
ই-রিকশার উত্থান মানুষের যাতায়াত সহজ করেছে
এবং অনেকের জীবিকার সংস্থান করেছে, কিন্তু এটি একই সাথে একটি নীরব স্বাস্থ্য জরুরি
অবস্থা তৈরি করেছে। এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে, যে যানবাহনটি আমাদের সাশ্রয়ী যাতায়াতের
কথা ছিল, সেটিই হয়তো আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বিষ হয়ে দাঁড়াবে।

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা (যা ই-রিকশা বা ইজি-বাইক নামে পরিচিত) চলাচল করছে। বিশেষ করে ঢাকার মতো শহরগুলোতে এই যানবাহনগুলো লাখো মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। যানবাহনের সংখ্যাটি বিশাল হলেও, এই খাতটি এখনো বড় অংশ অনিয়ন্ত্রিত রয়ে গেছে। ফলে এর ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে।
ধারণা করা হয়, বাংলাদেশের ৪০ লাখ ব্যাটারিচালিত
রিকশার প্রায় সবকটিতেই বর্তমানে লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রস্তুতকারক
থেকে শুরু করে কিছু সরকারি উদ্যোগও স্বীকার করে যে, এই খাতে লিড-অ্যাসিড ব্যাটারিই
প্রধান প্রযুক্তি।
বাংলাদেশে ই-রিকশায় লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি
ব্যবহারের মূল কারণ হলো এগুলো তুলনামূলক সস্তা এবং সহজলভ্য। দেশের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো
স্বল্পমূল্যের রিকশাগুলোর জন্য এটিই সবচেয়ে ব্যবহারিক পছন্দ। যদিও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির
মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে অনেক সুবিধা রয়েছে, তবুও কম প্রাথমিক খরচ এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর
কারণে লিড-অ্যাসিড ব্যাটারিই আধিপত্য বজায় রেখেছে।
সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আয়ু লিড-অ্যাসিড
ব্যাটারির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, প্রায় ৩ থেকে ৪ গুণ। লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির
আয়ু সাধারণত ৩-৫ বছর হলেও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ১০ বছর বা তার বেশি সময় স্থায়ী হতে
পারে।
তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ই-রিকশার লিড-অ্যাসিড
ব্যাটারির আয়ু সাধারণত ২ বছরেরও কম হয়। এর পেছনে প্রতিকূল অপারেটিং পরিবেশ, ত্রুটিপূর্ণ
চার্জিং ব্যবস্থা এবং নিম্নমানের ব্যাটারি দায়ী। একটি ই-রিকশায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি
ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। যদি আমরা লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির গড় আয়ু ৪ বছর ধরি এবং রিকশা প্রতি
৪টি ব্যাটারি হিসাব করি, তবে বছরে প্রায় ৪০ লাখ ব্যাটারি অকেজো হয়ে পড়ছে। বাস্তবে এই
সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি।
লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং বা পুনর্প্রক্রিয়াজাতকরণের
চিত্রটি আরও উদ্বেগজনক। পিওর আর্থ এবং ইউনিসেফ-এর ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে
ব্যবহৃত লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির মাত্র ৩০ শতাংশ আনুষ্ঠানিক বা বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে
রিসাইকেল করা হয়। বাকি ৭০ শতাংশই অনিয়ন্ত্রিত এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে কোনো ধরনের
নিরাপত্তা মান না মেনেই প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।
যখন ব্যাটারিগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে রিসাইকেল
করা হয়, তখন এর প্রায় সবটুকু সীসা ধূলিকণা, ধোঁয়া এবং দূষিত বর্জ্যের মাধ্যমে পরিবেশে
ছড়িয়ে পড়ে, যা মারাত্মক দূষণ ঘটায়। বিপরীতে, নিয়ন্ত্রিত ও বৈধ উপায়ে রিসাইক্লিং করলে
৯৫ শতাংশের বেশি সীসা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, যা দূষণের হার ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনে।
ইউনিসেফ-এর মতে, বাংলাদেশে আনুমানিক ৩ কোটি
৬০ লাখ শিশুর রক্তে সীসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম এর বেশি, যা অনুমোদিত
সীমার ওপরে। অনিরাপদ ব্যাটারি রিসাইক্লিং থেকে সৃষ্ট সীসা দূষণকে এই সংকটের অন্যতম
প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর অধীনে সুনির্দিষ্ট
বিধিমালা এবং এসআরও (SRO) জারি করা হলেও এর প্রয়োগ অত্যন্ত দুর্বল। স্থানীয় সরকারগুলোর
কাছে প্রায়ই এই অনিবন্ধিত রিকশাগুলো নিয়ন্ত্রণ করার বা অবৈধ রিসাইক্লিং কার্যক্রমের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সক্ষমতা বা আইনি ম্যান্ডেট থাকে না। এছাড়া একটি কেন্দ্রীয়
তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাটারি বর্জ্য নিরাপদে সংগ্রহ ও অপসারণ নিশ্চিত করা প্রায়
অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সীসা দূষণ কেবল জনস্বাস্থ্য সমস্যাই নয়, এটি
একটি বড় অর্থনৈতিক বোঝাও বটে। ইউনিসেফ ও পিওর আর্থ-এর তথ্যমতে, সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে
বার্ষিক প্রায় ১৫.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়, যার মূল কারণ উৎপাদনশীলতা হ্রাস
এবং চিকিৎসা ব্যয়ের বৃদ্ধি। আনুষ্ঠানিক রিসাইক্লিং ব্যবস্থা, নিরাপদ ব্যাটারি বিকল্প
এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সীসা দূষণ রোধ করা গেলে তা কেবল স্বাস্থ্যই রক্ষা করবে
না, বরং বিশাল অর্থনৈতিক সুফলও দেবে।
ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত প্রসারের ফলে সৃষ্ট
সীসা দূষণ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রথমত, ক্ষতিকর ও অবৈধ রিসাইক্লিং বন্ধে
বিদ্যমান ব্যাটারি অপসারণ বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি নজরদারি ও জরিমানার
পরিমাণ বাড়ানো জরুরি।
দ্বিতীয়ত, সকল ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিবন্ধনের
আওতায় এনে পৌরসভা বা স্থানীয় সরকার পর্যায়ে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে জবাবদিহিতা
নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার
বিভাগের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিক ও নিরাপদ রিসাইক্লিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের
দাবি।
চতুর্থত, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি কমাতে
লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মতো আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির
ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে।
সবশেষে, রিকশা মালিক, চালক এবং ব্যাটারি বিক্রেতাদের
মাঝে সীসা দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালাতে
হবে, যাতে একটি জনবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
ই-রিকশার উত্থান মানুষের যাতায়াত সহজ করেছে
এবং অনেকের জীবিকার সংস্থান করেছে, কিন্তু এটি একই সাথে একটি নীরব স্বাস্থ্য জরুরি
অবস্থা তৈরি করেছে। এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে, যে যানবাহনটি আমাদের সাশ্রয়ী যাতায়াতের
কথা ছিল, সেটিই হয়তো আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বিষ হয়ে দাঁড়াবে।

আপনার মতামত লিখুন