সবুজে ঘেরা চা-বাগান, পাহাড় আর ইতিহাসের মিশেলে অনন্য এক জনপদ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট। প্রকৃতি এখানে ঋতুভেদে ভিন্ন ভিন্ন রূপে ধরা দেয়। বর্ষায় চা-বাগানের সজীবতা আর শীতে লাল শাপলার মায়াবী রূপ সব মিলিয়ে বছরজুড়েই এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি; উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে এখন ভ্রমণপিয়াসী মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
চুনারুঘাটের প্রধান আকর্ষণ এর বিশাল চা-বাগানগুলো। 'দুটি পাতা একটি কুঁড়ি'র এই চাদরে ঘেরা বাগানগুলোতে ছায়াবৃক্ষগুলো যেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে। এখানকার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও দেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন রেমা-কালেঙ্গা যেন প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া এক লীলাভূমি। পাহাড় আর বনের শীতল হাওয়া মুহূর্তেই জুড়িয়ে দেয় পর্যটকদের প্রাণ।
উপজেলার দেউন্দি চা-বাগানের ভেতর অবস্থিত লাল শাপলার বিল এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘শাপলা রাজ্য’ নামে পরিচিত। শরৎ থেকে শীতের শেষ পর্যন্ত ভোরের আলোয় লাল শাপলায় রঙিন হয়ে ওঠে পুরো বিল। পাহাড় আর কুয়াশার আড়ালে শাপলার এই রূপ দেখতে প্রতিদিন ভোরে ভিড় করেন শত শত দর্শনার্থী।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি চুনারুঘাটে রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। মাধবপুর সীমান্তবর্তী তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সামরিক সদর দপ্তর বা হেডকোয়ার্টার। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এখানেই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুদ্ধ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইতিহাসের টানে সারা দেশ থেকে দেশপ্রেমিক মানুষ এখানে ছুটে আসেন।
চুনারুঘাটের মিরাশী গ্রামটি ‘স্বর্ণপ্রসবিনী’ হিসেবে খ্যাত। এখানে ১৮টি জমিদার পরিবারের ইতিহাস, সেক্টর কমান্ডার সিআর দত্তের বাড়ি এবং আসাম সরকারের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী প্রমোদ রঞ্জন দত্তের বাংলো রয়েছে। এ ছাড়া ১৩০০ শতকের তরফ পরগনার ঐতিহ্য বহন করছে মুড়ারবন্দের ১২০ আউলিয়ার দরগা। উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্মও এই চুনারুঘাটে। তার স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো দেখতেও আসেন সংস্কৃতিমনা মানুষ।
সারাদেশের সঙ্গে চুনারুঘাটের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। পর্যটকদের জন্য জেলা শহর ও এর আশপাশে আধুনিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, চুনারুঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও আধুনিকায়ন ও পর্যটনবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল বলেন, "চুনারুঘাটের প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্পটগুলোকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।"

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
সবুজে ঘেরা চা-বাগান, পাহাড় আর ইতিহাসের মিশেলে অনন্য এক জনপদ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট। প্রকৃতি এখানে ঋতুভেদে ভিন্ন ভিন্ন রূপে ধরা দেয়। বর্ষায় চা-বাগানের সজীবতা আর শীতে লাল শাপলার মায়াবী রূপ সব মিলিয়ে বছরজুড়েই এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি; উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে এখন ভ্রমণপিয়াসী মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
চুনারুঘাটের প্রধান আকর্ষণ এর বিশাল চা-বাগানগুলো। 'দুটি পাতা একটি কুঁড়ি'র এই চাদরে ঘেরা বাগানগুলোতে ছায়াবৃক্ষগুলো যেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে। এখানকার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও দেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন রেমা-কালেঙ্গা যেন প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া এক লীলাভূমি। পাহাড় আর বনের শীতল হাওয়া মুহূর্তেই জুড়িয়ে দেয় পর্যটকদের প্রাণ।
উপজেলার দেউন্দি চা-বাগানের ভেতর অবস্থিত লাল শাপলার বিল এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘শাপলা রাজ্য’ নামে পরিচিত। শরৎ থেকে শীতের শেষ পর্যন্ত ভোরের আলোয় লাল শাপলায় রঙিন হয়ে ওঠে পুরো বিল। পাহাড় আর কুয়াশার আড়ালে শাপলার এই রূপ দেখতে প্রতিদিন ভোরে ভিড় করেন শত শত দর্শনার্থী।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি চুনারুঘাটে রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। মাধবপুর সীমান্তবর্তী তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সামরিক সদর দপ্তর বা হেডকোয়ার্টার। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এখানেই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুদ্ধ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইতিহাসের টানে সারা দেশ থেকে দেশপ্রেমিক মানুষ এখানে ছুটে আসেন।
চুনারুঘাটের মিরাশী গ্রামটি ‘স্বর্ণপ্রসবিনী’ হিসেবে খ্যাত। এখানে ১৮টি জমিদার পরিবারের ইতিহাস, সেক্টর কমান্ডার সিআর দত্তের বাড়ি এবং আসাম সরকারের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী প্রমোদ রঞ্জন দত্তের বাংলো রয়েছে। এ ছাড়া ১৩০০ শতকের তরফ পরগনার ঐতিহ্য বহন করছে মুড়ারবন্দের ১২০ আউলিয়ার দরগা। উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্মও এই চুনারুঘাটে। তার স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো দেখতেও আসেন সংস্কৃতিমনা মানুষ।
সারাদেশের সঙ্গে চুনারুঘাটের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। পর্যটকদের জন্য জেলা শহর ও এর আশপাশে আধুনিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, চুনারুঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও আধুনিকায়ন ও পর্যটনবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল বলেন, "চুনারুঘাটের প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্পটগুলোকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।"

আপনার মতামত লিখুন