সংবাদ

বরিশালে শিশু হাসপাতাল চালুর আগে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

বরিশালে শিশু হাসপাতাল চালুর আগে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ
বরিশালে নির্মাণাধীন ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। ছবি : সংবাদ

বরিশালে বহুল প্রতীক্ষিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি আগামী আগস্ট মাসে চালুর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সফরের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটি চালুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে নাগরিক মহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

গত সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার নির্মাণাধীন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে ডা. জিয়াউদ্দিন জানান, আগস্টের মধ্যে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতির পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার কিংবা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনকে দৃশ্যমানভাবে সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়নি।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় এসে পরিদর্শন করে যাচ্ছেন অথচ আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। এটা দুঃখজনক। বরিশালের মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়ার বাস্তবায়নের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা না থাকাটা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা সাধারণ মানুষই বিচার করবে।’

অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচির কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালটি দ্রুত চালু হওয়াকেই তিনি প্রধান হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আমানতগঞ্জ এলাকায় এই বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা সাত বছর পিছিয়ে গেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপনসহ কিছু কারিগরি কাজ বাকি রয়েছে। হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য প্রায় ৫০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও শতাধিক নার্স প্রয়োজন।

হাসপাতালটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে সমন্বয়ের মূল ভূমিকা পালন করছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর।

বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, ‘আগস্টে অন্তত বহির্বিভাগ চালুর চেষ্টা চলছে। ১০ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি চলতি মাসেই হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করবে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল শাখার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করা না হলে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নিশ্চিত করা কঠিন। অতীতের সমন্বয়হীনতার কারণে যাতে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


বরিশালে শিশু হাসপাতাল চালুর আগে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

বরিশালে বহুল প্রতীক্ষিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি আগামী আগস্ট মাসে চালুর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সফরের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটি চালুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে নাগরিক মহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

গত সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার নির্মাণাধীন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে ডা. জিয়াউদ্দিন জানান, আগস্টের মধ্যে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতির পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার কিংবা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনকে দৃশ্যমানভাবে সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়নি।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় এসে পরিদর্শন করে যাচ্ছেন অথচ আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। এটা দুঃখজনক। বরিশালের মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়ার বাস্তবায়নের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা না থাকাটা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা সাধারণ মানুষই বিচার করবে।’

অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচির কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালটি দ্রুত চালু হওয়াকেই তিনি প্রধান হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আমানতগঞ্জ এলাকায় এই বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা সাত বছর পিছিয়ে গেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপনসহ কিছু কারিগরি কাজ বাকি রয়েছে। হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য প্রায় ৫০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও শতাধিক নার্স প্রয়োজন।

হাসপাতালটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে সমন্বয়ের মূল ভূমিকা পালন করছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর।

বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, ‘আগস্টে অন্তত বহির্বিভাগ চালুর চেষ্টা চলছে। ১০ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি চলতি মাসেই হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করবে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল শাখার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করা না হলে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নিশ্চিত করা কঠিন। অতীতের সমন্বয়হীনতার কারণে যাতে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত