সংবাদ

ফিফার আকস্মিক ‘ইউ-টার্ন’: স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিষিদ্ধ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

ফিফার আকস্মিক ‘ইউ-টার্ন’: স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিষিদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠে যেন অন্য এক ম্যাচ খেলছে ফিফা। প্রতিযোগিতার মাঝপথে এসে হঠাৎ এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের নামে শুরু হওয়া এই প্রচেষ্টা বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে হঠাৎ বাতিল করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ফিফা। ফলে তীব্র দাবদাহে গ্যালারিতে দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা ঘোষণা দিয়েছিল, এবারের আসর হবে সবচেয়ে ‘সবুজ’ বিশ্বকাপ। এর অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের বোতল নিষিদ্ধ করে দর্শকদের নিজস্ব পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। স্টেডিয়ামের ভেতরে রাখা হয়েছিল পানি ভরার বিশেষ স্টেশন। পরিবেশবিদরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই হঠাৎ পাল্টে যায় চিত্র। ফিফা জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে আর দর্শকরা নিজস্ব পানির বোতল স্টেডিয়ামে আনতে পারবেন না। বাণিজ্যিক অংশীদারদের স্বার্থও এ সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন স্টেডিয়ামের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ডের পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন দর্শকরা, যার দাম স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা চলছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। এমন দাবদাহে স্টেডিয়ামে পর্যাপ্ত পানি না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে দর্শকদের বিক্ষোভের ভিডিও। কেউ কেউ আবার স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতলজাত পানি কিনতে গিয়ে বিপুল মূল্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এক মার্কিন ভক্ত টুইটারে লিখেছেন, ‘ফিফা বলছে নিরাপত্তার জন্য পানি নিষিদ্ধ। অথচ স্টেডিয়ামের ভেতরে প্লাস্টিকের কাপে পানির দাম ৮ ডলার! এটা নিরাপত্তা না ব্যবসা?’

ফিফার মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘দর্শকদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। ভারী বোতল দিয়ে কেউ যেন আক্রমণ করতে না পারে, সেজন্য এই সিদ্ধান্ত।’

কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই যুক্তি মানে না। স্টেডিয়ামের ভেতরে তো বিক্রি হচ্ছে কাচের বোতলেও পানি- যা আরও বিপজ্জনক অস্ত্র হতে পারে। আসলে বাণিজ্যিক স্বার্থই আসল কারণ। ফিফার শীর্ষ পানীয় ব্র্যান্ডের স্পনসররা চায়নি যে দর্শকরা বিনা পয়সায় নিজের বোতল ভরে পানি পান করুক।

যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘ফিফা প্রথমে সবুজ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, এখন তা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে লাভের লোভে।’ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ‘গরমের দেশগুলোতে বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় পানি বিশুদ্ধ পানির অধিকারকে উপেক্ষা করা মারাত্মক ভুল।’

পরিবেশবিদরাও ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল নিষিদ্ধ করে ফিফা কোটি কোটি সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের পথ খুলে দিয়েছে, যা মাঠের বাইরের পরিবেশকে বিপর্যস্ত করবে।

২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠে ফিফার এই সিদ্ধান্ত ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রীতিমতো পানি বন্ধ করে দেওয়ার মতো। তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত দর্শক হয় বাজিমাত মূল্য দিয়ে পানি কিনছেন, নয়তো ফিরছেন খালি হাতে। ফিফা চাইছে ‘সবুজ’ বিশ্বকাপ আয়োজন করতে, অথচ স্টেডিয়ামের ভেতরেই তারা তৈরি করছে ‘বাণিজ্যের পানি সংকট’।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


ফিফার আকস্মিক ‘ইউ-টার্ন’: স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিষিদ্ধ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠে যেন অন্য এক ম্যাচ খেলছে ফিফা। প্রতিযোগিতার মাঝপথে এসে হঠাৎ এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের নামে শুরু হওয়া এই প্রচেষ্টা বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে হঠাৎ বাতিল করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ফিফা। ফলে তীব্র দাবদাহে গ্যালারিতে দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা ঘোষণা দিয়েছিল, এবারের আসর হবে সবচেয়ে ‘সবুজ’ বিশ্বকাপ। এর অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের বোতল নিষিদ্ধ করে দর্শকদের নিজস্ব পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। স্টেডিয়ামের ভেতরে রাখা হয়েছিল পানি ভরার বিশেষ স্টেশন। পরিবেশবিদরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই হঠাৎ পাল্টে যায় চিত্র। ফিফা জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে আর দর্শকরা নিজস্ব পানির বোতল স্টেডিয়ামে আনতে পারবেন না। বাণিজ্যিক অংশীদারদের স্বার্থও এ সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন স্টেডিয়ামের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ডের পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন দর্শকরা, যার দাম স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা চলছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। এমন দাবদাহে স্টেডিয়ামে পর্যাপ্ত পানি না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে দর্শকদের বিক্ষোভের ভিডিও। কেউ কেউ আবার স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতলজাত পানি কিনতে গিয়ে বিপুল মূল্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এক মার্কিন ভক্ত টুইটারে লিখেছেন, ‘ফিফা বলছে নিরাপত্তার জন্য পানি নিষিদ্ধ। অথচ স্টেডিয়ামের ভেতরে প্লাস্টিকের কাপে পানির দাম ৮ ডলার! এটা নিরাপত্তা না ব্যবসা?’

ফিফার মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘দর্শকদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। ভারী বোতল দিয়ে কেউ যেন আক্রমণ করতে না পারে, সেজন্য এই সিদ্ধান্ত।’

কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই যুক্তি মানে না। স্টেডিয়ামের ভেতরে তো বিক্রি হচ্ছে কাচের বোতলেও পানি- যা আরও বিপজ্জনক অস্ত্র হতে পারে। আসলে বাণিজ্যিক স্বার্থই আসল কারণ। ফিফার শীর্ষ পানীয় ব্র্যান্ডের স্পনসররা চায়নি যে দর্শকরা বিনা পয়সায় নিজের বোতল ভরে পানি পান করুক।

যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘ফিফা প্রথমে সবুজ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, এখন তা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে লাভের লোভে।’ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ‘গরমের দেশগুলোতে বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় পানি বিশুদ্ধ পানির অধিকারকে উপেক্ষা করা মারাত্মক ভুল।’

পরিবেশবিদরাও ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল নিষিদ্ধ করে ফিফা কোটি কোটি সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের পথ খুলে দিয়েছে, যা মাঠের বাইরের পরিবেশকে বিপর্যস্ত করবে।

২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠে ফিফার এই সিদ্ধান্ত ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রীতিমতো পানি বন্ধ করে দেওয়ার মতো। তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত দর্শক হয় বাজিমাত মূল্য দিয়ে পানি কিনছেন, নয়তো ফিরছেন খালি হাতে। ফিফা চাইছে ‘সবুজ’ বিশ্বকাপ আয়োজন করতে, অথচ স্টেডিয়ামের ভেতরেই তারা তৈরি করছে ‘বাণিজ্যের পানি সংকট’।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত