সংবাদ

উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, কিম জং উনের রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, কিম জং উনের রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা

দীর্ঘ ৭ বছর পর উত্তর কোরিয়ায় ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন করে ঝালাই করা এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বন্ধন জোরালো করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

সোমবার (৮ জুন) মধ্যাহ্নে চীনা প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অবতরণ করে বলে নিশ্চিত করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া। চলতি বছরে এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম বিদেশ সফর।

চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, পিয়ংইয়ং বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান বিমান থেকে নেমে এলে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সল জু করতালির মাধ্যমে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় উত্তর কোরিয়ার শিশুরা চীনা প্রেসিডেন্টকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। শি জিনপিংয়ের আগমন উপলক্ষে পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান প্রধান সড়কগুলো চীনের জাতীয় পতাকা এবং শি জিনপিংয়ের বিশাল প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই বেইজিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পৃথকভাবে আতিথেয়তা দেওয়ার পর উত্তর কোরিয়া সফরে এলেন শি জিনপিং। এই সফরের সময়কাল বিশ্বরাজনীতিতে চীনের বহুমুখী ও বৈশ্বিক ‘পাওয়ার ব্রোকার’ বা শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

সফরের প্রাক্কালে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রথাগত চিঠিতে শি জিনপিং লিখেছেন, "সময় যতই পরিবর্তিত হোক বা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির যতই বিবর্তন ঘটুক না কেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব অবিচ্ছেদ্য, চিরস্থায়ী এবং প্রতিনিয়ত তা নতুন প্রাণশক্তিতে বিকিরিত হবে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিম জং উন ও পুতিনের মধ্যকার সামরিক সম্পর্ক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছালেও, উত্তর কোরিয়ার জন্য চীন যে এখনো সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক লাইফলাইন এবং প্রধান কূটনৈতিক অংশীদার, শি জিনপিংয়ের এই সফর তারই এক জোরালো স্মারক। উত্তর কোরিয়াও মূলত চীন ও রাশিয়ার মধ্যে এক ধরণের কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে, যাতে কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে উভয়পক্ষ থেকেই সর্বোচ্চ সামরিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করা যায়।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, কিম জং উনের রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ ৭ বছর পর উত্তর কোরিয়ায় ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন করে ঝালাই করা এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বন্ধন জোরালো করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

সোমবার (৮ জুন) মধ্যাহ্নে চীনা প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অবতরণ করে বলে নিশ্চিত করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া। চলতি বছরে এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম বিদেশ সফর।

চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, পিয়ংইয়ং বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান বিমান থেকে নেমে এলে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সল জু করতালির মাধ্যমে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় উত্তর কোরিয়ার শিশুরা চীনা প্রেসিডেন্টকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। শি জিনপিংয়ের আগমন উপলক্ষে পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান প্রধান সড়কগুলো চীনের জাতীয় পতাকা এবং শি জিনপিংয়ের বিশাল প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই বেইজিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পৃথকভাবে আতিথেয়তা দেওয়ার পর উত্তর কোরিয়া সফরে এলেন শি জিনপিং। এই সফরের সময়কাল বিশ্বরাজনীতিতে চীনের বহুমুখী ও বৈশ্বিক ‘পাওয়ার ব্রোকার’ বা শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

সফরের প্রাক্কালে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রথাগত চিঠিতে শি জিনপিং লিখেছেন, "সময় যতই পরিবর্তিত হোক বা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির যতই বিবর্তন ঘটুক না কেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব অবিচ্ছেদ্য, চিরস্থায়ী এবং প্রতিনিয়ত তা নতুন প্রাণশক্তিতে বিকিরিত হবে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিম জং উন ও পুতিনের মধ্যকার সামরিক সম্পর্ক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছালেও, উত্তর কোরিয়ার জন্য চীন যে এখনো সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক লাইফলাইন এবং প্রধান কূটনৈতিক অংশীদার, শি জিনপিংয়ের এই সফর তারই এক জোরালো স্মারক। উত্তর কোরিয়াও মূলত চীন ও রাশিয়ার মধ্যে এক ধরণের কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে, যাতে কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে উভয়পক্ষ থেকেই সর্বোচ্চ সামরিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করা যায়।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত