সংবাদ

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: সুপারিশের চার মাসেও হয়নি যোগদান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: সুপারিশের চার মাসেও হয়নি যোগদান

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী। নিয়োগের সুপারিশের চার মাসেরও বেশি সময় পার হলেও তাদের যোগদান করানো হয়নি।

আজ বুধবার (১০ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা জানান।

তারা নিয়োগ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করে যোগদান করাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার মধ্যে রয়েছেন। তাদের এ অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও এখনো যোগদানের সুযোগ পাননি। এতে তারা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুপারিশপ্রাপ্তরা বলেন, আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজারেরও বেশি চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর মেডিকেল পরীক্ষা ও একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেও আজ পর্যন্ত যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছি। দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় আমরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছি।

তারা আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা অনুসরণ করে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আপনি এ মেধাবী শিক্ষক সমাজের স্বপ্নের সারথি হয়ে আমাদের দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা করবেন এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ করে দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

অন্তর্র্বতী সরকারের শেষ সময়ে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্টসহ সব ধরনের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়।

মোট ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। পরে চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পান।

নিয়ম অনুযায়ী যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে গত কয়েক মাস ধরে সেটি আটকে আছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বলে অভিযোগ করেন প্রার্থীরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সুপারিশপ্রাপ্ত এ শিক্ষকদের মূল্যায়ন দুই ধাপে সম্পন্ন করা হবে। এরপর সামগ্রিক প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: সুপারিশের চার মাসেও হয়নি যোগদান

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী। নিয়োগের সুপারিশের চার মাসেরও বেশি সময় পার হলেও তাদের যোগদান করানো হয়নি।

আজ বুধবার (১০ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা জানান।

তারা নিয়োগ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করে যোগদান করাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার মধ্যে রয়েছেন। তাদের এ অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও এখনো যোগদানের সুযোগ পাননি। এতে তারা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুপারিশপ্রাপ্তরা বলেন, আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজারেরও বেশি চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর মেডিকেল পরীক্ষা ও একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেও আজ পর্যন্ত যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছি। দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় আমরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছি।

তারা আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা অনুসরণ করে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আপনি এ মেধাবী শিক্ষক সমাজের স্বপ্নের সারথি হয়ে আমাদের দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা করবেন এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ করে দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

অন্তর্র্বতী সরকারের শেষ সময়ে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্টসহ সব ধরনের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়।

মোট ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। পরে চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পান।

নিয়ম অনুযায়ী যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে গত কয়েক মাস ধরে সেটি আটকে আছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বলে অভিযোগ করেন প্রার্থীরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সুপারিশপ্রাপ্ত এ শিক্ষকদের মূল্যায়ন দুই ধাপে সম্পন্ন করা হবে। এরপর সামগ্রিক প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত