সংবাদ

নারীর চুলকেটে, কালি মেখে, গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতন!


কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

নারীর চুলকেটে, কালি মেখে, গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতন!
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে খুঁটিতে বেঁধে রাখার আগে মাথার চুল কেটে মুখে কালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে অপদস্থ করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর পালং এলাকার বাসিন্দা ও প্রবাসী টুটুল সরদারের স্ত্রী মলি বেগম (৩৭) সন্তানদের নিয়ে এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। মলি বেগমের দাবি, স্থানীয় দেলোয়ার কোটারির পরিবার ও কয়েকজন ব্যক্তিকে তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার দেলোয়ার কোটারির স্ত্রী ও মেয়ে শাবনুর মার্কেট এলাকায় মলি বেগমকে আটক করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে মুখে কালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং সড়কের পাশে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

ঘটনাটি স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানালে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে অসুস্থ অবস্থায় মলি বেগমকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মলি বেগম অভিযোগ করেন, টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে তার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার কোটারির মেয়ে মৌসুমি আক্তার বলেন, মলি বেগম তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন। তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় লোকজন তাকে মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক করে মারধর করেছে। তাদের কাছে মলি বেগম কোনো টাকা পান না বলেও তিনি দাবি করেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকজন নারী মিলে মলি বেগমকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগী আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


নারীর চুলকেটে, কালি মেখে, গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতন!

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে খুঁটিতে বেঁধে রাখার আগে মাথার চুল কেটে মুখে কালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে অপদস্থ করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর পালং এলাকার বাসিন্দা ও প্রবাসী টুটুল সরদারের স্ত্রী মলি বেগম (৩৭) সন্তানদের নিয়ে এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। মলি বেগমের দাবি, স্থানীয় দেলোয়ার কোটারির পরিবার ও কয়েকজন ব্যক্তিকে তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার দেলোয়ার কোটারির স্ত্রী ও মেয়ে শাবনুর মার্কেট এলাকায় মলি বেগমকে আটক করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে মুখে কালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং সড়কের পাশে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

ঘটনাটি স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানালে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে অসুস্থ অবস্থায় মলি বেগমকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মলি বেগম অভিযোগ করেন, টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে তার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার কোটারির মেয়ে মৌসুমি আক্তার বলেন, মলি বেগম তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন। তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় লোকজন তাকে মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক করে মারধর করেছে। তাদের কাছে মলি বেগম কোনো টাকা পান না বলেও তিনি দাবি করেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকজন নারী মিলে মলি বেগমকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগী আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত