জিকে সেচ প্রকল্প (গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প) বাংলাদেশের প্রথম ও অন্যতম বৃহত্তম আধুনিক সেচ ব্যবস্থা। পদ্মা (গঙ্গা) নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ১৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মাধ্যমে এটি ৪ জেলা ও ১৩ উপজেলার ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দিয়ে থাকে।
অথচ উজান থেকে পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে দেশের বৃহত্তম ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ’ (জিকে) সেচ প্রকল্প। সংকট মোকাবেলায় এবং নদীর নিম্ন জলস্তর থেকে পানি উত্তোলনের সুবিধার্থে ইতোমধ্যে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির পাম্পিং ব্যবস্থার বড় ধরনের পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়েছে।
জিকে প্রকল্পের পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সংবাদকে জানান, বর্তমানে পাম্পগুলো চালু রাখতে পানি গ্রহণ চ্যানেলে (ইনটেক চ্যানেল) সর্বনিম্ন ৩.৯ মিটার পানির স্তর প্রয়োজন হয়। চলমান পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় এই স্তরটি কমিয়ে ২.৫ মিটার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও পাম্প সচল রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গঙ্গা তথা পদ্মা নদী থেকে পানি পাম্প করে খালের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন অংশে পানি সরবরাহ করে জিকে প্রকল্প। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণে ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন এবং গ্রামীণ জীবিকা নির্বাহে এটি অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
১৯৬২ সালে চালু হওয়া জিকে সেচ প্রকল্পটি ১,৯৭,৫০০ হেক্টর এলাকায় প্রায় ৯৫,৫০০ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামো, খালে পলি জমা এবং কিছু পাম্প অচল থাকায় বর্তমানে এর আওতা কমে মাত্র ৫৫,০০০ হেক্টরে এসে দাঁড়িয়েছে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা আরও জানান, ১৯৭৫ সালে ভারতে ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর থেকে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহে ব্যাপক নেতিবাচক পরিবর্তন আসে। নদীর পানির স্তর ৪.৫ মিটারের নিচে নামলেই পাম্পিং স্টেশনের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।
বিশেষ করে দুই বছর আগে (২০২৪ সালে) হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পদ্মার পানির স্তর ৪ মিটারের নিচে নেমে গেলে প্রকল্পের পানি উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সময় প্রকল্প এলাকার হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সর্বনিম্ন পরিচালন স্তর প্রায় দেড় মিটার কমাতেও সফল হই, উজান থেকে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ অব্যাহত না থাকলে এর সুফল সীমিত হতে পারে। অর্থাৎ কেবল প্রকৌশলগত সমাধানই সেচ সংকট দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়।’
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ টিপু সুলতান সম্প্রতি কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী সফরকালে সাংবাদিকদের জানান, গঙ্গার পানি বণ্টনের বিষয়টি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে তা জাতিসংঘে উত্থাপন করা উচিত।

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
জিকে সেচ প্রকল্প (গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প) বাংলাদেশের প্রথম ও অন্যতম বৃহত্তম আধুনিক সেচ ব্যবস্থা। পদ্মা (গঙ্গা) নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ১৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মাধ্যমে এটি ৪ জেলা ও ১৩ উপজেলার ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দিয়ে থাকে।
অথচ উজান থেকে পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে দেশের বৃহত্তম ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ’ (জিকে) সেচ প্রকল্প। সংকট মোকাবেলায় এবং নদীর নিম্ন জলস্তর থেকে পানি উত্তোলনের সুবিধার্থে ইতোমধ্যে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির পাম্পিং ব্যবস্থার বড় ধরনের পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়েছে।
জিকে প্রকল্পের পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সংবাদকে জানান, বর্তমানে পাম্পগুলো চালু রাখতে পানি গ্রহণ চ্যানেলে (ইনটেক চ্যানেল) সর্বনিম্ন ৩.৯ মিটার পানির স্তর প্রয়োজন হয়। চলমান পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় এই স্তরটি কমিয়ে ২.৫ মিটার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও পাম্প সচল রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গঙ্গা তথা পদ্মা নদী থেকে পানি পাম্প করে খালের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন অংশে পানি সরবরাহ করে জিকে প্রকল্প। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণে ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন এবং গ্রামীণ জীবিকা নির্বাহে এটি অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
১৯৬২ সালে চালু হওয়া জিকে সেচ প্রকল্পটি ১,৯৭,৫০০ হেক্টর এলাকায় প্রায় ৯৫,৫০০ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামো, খালে পলি জমা এবং কিছু পাম্প অচল থাকায় বর্তমানে এর আওতা কমে মাত্র ৫৫,০০০ হেক্টরে এসে দাঁড়িয়েছে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা আরও জানান, ১৯৭৫ সালে ভারতে ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর থেকে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহে ব্যাপক নেতিবাচক পরিবর্তন আসে। নদীর পানির স্তর ৪.৫ মিটারের নিচে নামলেই পাম্পিং স্টেশনের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।
বিশেষ করে দুই বছর আগে (২০২৪ সালে) হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পদ্মার পানির স্তর ৪ মিটারের নিচে নেমে গেলে প্রকল্পের পানি উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সময় প্রকল্প এলাকার হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সর্বনিম্ন পরিচালন স্তর প্রায় দেড় মিটার কমাতেও সফল হই, উজান থেকে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ অব্যাহত না থাকলে এর সুফল সীমিত হতে পারে। অর্থাৎ কেবল প্রকৌশলগত সমাধানই সেচ সংকট দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়।’
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ টিপু সুলতান সম্প্রতি কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী সফরকালে সাংবাদিকদের জানান, গঙ্গার পানি বণ্টনের বিষয়টি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে তা জাতিসংঘে উত্থাপন করা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন