সংবাদ

পাথরঘাটায় ক্লিনিকের ফাঁদে রোগীরা, নির্বিকার প্রশাসন


প্রতিনিধি, পাথরঘাটা (বরগুনা)
প্রতিনিধি, পাথরঘাটা (বরগুনা)
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:১২ পিএম

পাথরঘাটায় ক্লিনিকের ফাঁদে রোগীরা, নির্বিকার প্রশাসন
উপজেলা পরিষদ, পাথরঘাটা, বরগুনা। ছবি : সংবাদ

বরগুনার পাথরঘাটায় ঢাকা ও বরিশালের নামী চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। রাজধানীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এসব মানহীন প্রতিষ্ঠান। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব অপতৎপরতা চললেও প্রশাসন দৃশ্যত নীরব বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অলিগলি ও গ্রামগঞ্জে মাইকিং করে চলে এসব ক্লিনিকের প্রচারণা। উচ্চশব্দে জনজীবন অতিষ্ঠ হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। প্রচারণার ফাঁদে পড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহজ-সরল রোগীরা ক্লিনিকে এসে প্রতারিত হচ্ছেন। মাইকে যে মানের ডাক্তার বা সেবার কথা বলা হয়, বাস্তবে তার দেখা মেলে না। উল্টো রোগীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার দীর্ঘ তালিকা। অধিকাংশ ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকলেও সব ধরনের পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও অধিকাংশেরই পরিবেশ ও সরঞ্জাম নেই। এসব প্রতিষ্ঠান রোগী ধরতে নিয়োগ দিয়েছে একদল 'মার্কেটিং অফিসার' বা মধ্যস্বত্বভোগী। পল্লী চিকিৎসক ও ফার্মেসির মালিকদের সঙ্গে রয়েছে তাদের মোটা অঙ্কের কমিশনের চুক্তি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মচারী জানান, ল্যাব পরীক্ষার মোট টাকার প্রায় ৬০ শতাংশই দিতে হয় রোগী পাঠানো ব্যক্তিকে। এই কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন একদল অসাধু চিকিৎসকও। এমনকি নিম্নমানের ওষুধ লেখাতে চিকিৎসকদের মূল্যবান উপহার দিয়ে প্রলুব্ধ করে ওষুধ কোম্পানিগুলো। ফলে গরিব রোগীরা শেষ পর্যন্ত 'টাকা কামানোর মেশিনে' পরিণত হন।

অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পাথরঘাটা উপজেলার সিনিয়র সহসভাপতি ও অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল করিম বলেন, "স্বাস্থ্যসেবাকে পুঁজি করে অনৈতিক বাণিজ্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি হাসপাতালে সেবার মান ও জনবল বাড়ালে মানুষ এসব কসাইখানায় যেত না। অবিলম্বে এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "পাথরঘাটায় অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা করা হচ্ছে। দ্রুতই এসবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপশ পাল জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ ও মানহীন ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাঈদুর রহমান বলেন, নতুন যোগদানের পর তিনি এমন কিছু অভিযোগ পেয়েছেন। দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মতে, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা 'টেস্ট বাণিজ্য' বন্ধে প্রতিটি উপজেলায় সরকারি তদারকি সেল গঠন করা জরুরি। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও প্রতারণা অনেকাংশে কমে আসবে।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


পাথরঘাটায় ক্লিনিকের ফাঁদে রোগীরা, নির্বিকার প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

বরগুনার পাথরঘাটায় ঢাকা ও বরিশালের নামী চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। রাজধানীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এসব মানহীন প্রতিষ্ঠান। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব অপতৎপরতা চললেও প্রশাসন দৃশ্যত নীরব বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অলিগলি ও গ্রামগঞ্জে মাইকিং করে চলে এসব ক্লিনিকের প্রচারণা। উচ্চশব্দে জনজীবন অতিষ্ঠ হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। প্রচারণার ফাঁদে পড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহজ-সরল রোগীরা ক্লিনিকে এসে প্রতারিত হচ্ছেন। মাইকে যে মানের ডাক্তার বা সেবার কথা বলা হয়, বাস্তবে তার দেখা মেলে না। উল্টো রোগীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার দীর্ঘ তালিকা। অধিকাংশ ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকলেও সব ধরনের পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও অধিকাংশেরই পরিবেশ ও সরঞ্জাম নেই। এসব প্রতিষ্ঠান রোগী ধরতে নিয়োগ দিয়েছে একদল 'মার্কেটিং অফিসার' বা মধ্যস্বত্বভোগী। পল্লী চিকিৎসক ও ফার্মেসির মালিকদের সঙ্গে রয়েছে তাদের মোটা অঙ্কের কমিশনের চুক্তি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মচারী জানান, ল্যাব পরীক্ষার মোট টাকার প্রায় ৬০ শতাংশই দিতে হয় রোগী পাঠানো ব্যক্তিকে। এই কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন একদল অসাধু চিকিৎসকও। এমনকি নিম্নমানের ওষুধ লেখাতে চিকিৎসকদের মূল্যবান উপহার দিয়ে প্রলুব্ধ করে ওষুধ কোম্পানিগুলো। ফলে গরিব রোগীরা শেষ পর্যন্ত 'টাকা কামানোর মেশিনে' পরিণত হন।

অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পাথরঘাটা উপজেলার সিনিয়র সহসভাপতি ও অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল করিম বলেন, "স্বাস্থ্যসেবাকে পুঁজি করে অনৈতিক বাণিজ্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি হাসপাতালে সেবার মান ও জনবল বাড়ালে মানুষ এসব কসাইখানায় যেত না। অবিলম্বে এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "পাথরঘাটায় অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা করা হচ্ছে। দ্রুতই এসবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপশ পাল জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ ও মানহীন ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাঈদুর রহমান বলেন, নতুন যোগদানের পর তিনি এমন কিছু অভিযোগ পেয়েছেন। দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মতে, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা 'টেস্ট বাণিজ্য' বন্ধে প্রতিটি উপজেলায় সরকারি তদারকি সেল গঠন করা জরুরি। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও প্রতারণা অনেকাংশে কমে আসবে।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত