সংবাদ

ছাত্রীকে অশালীন বার্তা, খুবির ডিসিপ্লিন প্রধানকে অপসারণ


প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

ছাত্রীকে অশালীন বার্তা, খুবির ডিসিপ্লিন প্রধানকে অপসারণ
যৌন হয়রানির অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে হাদি চত্বরে বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংবাদ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও মুঠোফোনে অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে তার ‘ডিসিপ্লিন প্রধান’-এর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। আমাদের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। প্রতিবেদন ও সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং তা অস্বীকারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ক্যাম্পাসের হাদি চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ ও পরে তা দাহ করেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযোগ ওঠার পর ওই শিক্ষক তার মুঠোফোন হারানোর যে দাবি করেছেন, তা ভিত্তিহীন। তিনি সম্প্রতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন এবং অভিযোগ সামনে আসার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেন। শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।

এর আগে গত বুধবার বিকেলে একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। তারও আগে গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে পাঠানো অশালীন বার্তার স্ক্রিনশটসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ওই শিক্ষক মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও কল করে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। ফেসবুক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অশালীন বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বড়দের সহায়তায় অভিযোগ জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই শিক্ষক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তার মুঠোফোনটি হারিয়ে যায় এবং এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা আছে। ডিসিপ্লিন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কিছু অনিয়মে বাধা দেওয়ায় একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


ছাত্রীকে অশালীন বার্তা, খুবির ডিসিপ্লিন প্রধানকে অপসারণ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও মুঠোফোনে অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে তার ‘ডিসিপ্লিন প্রধান’-এর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। আমাদের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। প্রতিবেদন ও সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং তা অস্বীকারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ক্যাম্পাসের হাদি চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ ও পরে তা দাহ করেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযোগ ওঠার পর ওই শিক্ষক তার মুঠোফোন হারানোর যে দাবি করেছেন, তা ভিত্তিহীন। তিনি সম্প্রতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন এবং অভিযোগ সামনে আসার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেন। শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।

এর আগে গত বুধবার বিকেলে একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। তারও আগে গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে পাঠানো অশালীন বার্তার স্ক্রিনশটসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ওই শিক্ষক মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও কল করে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। ফেসবুক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অশালীন বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বড়দের সহায়তায় অভিযোগ জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই শিক্ষক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তার মুঠোফোনটি হারিয়ে যায় এবং এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা আছে। ডিসিপ্লিন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কিছু অনিয়মে বাধা দেওয়ায় একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত