বিগত সরকারের আমলে আত্মসমর্পণ করেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির সদস্যরা। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়া ও মামলা প্রত্যাহার না করায় তারা আবার পুরনো পথে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা। নতুন করে কেউ কেউ সর্বহারা পরিচয়ে এলাকায় সংগঠিত হচ্ছেন এবং চাঁদাবাজিও করছেন।
গত দেড়-দুই মাস ধরে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও রাজশাহীর বাঘাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে থাকা গ্রুপগুলো নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। সম্প্রতি তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধে পাবনায় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ এ ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে।
পাবনা সদর থানাধীন মাসুম বাজার সংলগ্ন জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার সামনে গত ৮ জুন সন্ধ্যায় হোসেন আলী নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনটি গুলি তার বুকে ও পিঠে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, আগে সর্বহারা ও চরমপন্থীদের একটি আদর্শ ছিল, কিন্তু এখন তাদের কোনো আদর্শ নেই। তারা এখন এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি করতে আধিপত্য বিস্তারে নামছে। ঈশ্বরদী, লালপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাঘা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে তারা। তাদের আনাগোনা স্থানীয়রা জানে, কিন্তু ভয়ে কেউ কথা বলছে না।
রাজশাহী বিভাগের পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সর্বহারা পরিচয় দেয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা ১৫০ থেকে ২০০ জন হবে। তারা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত। গত এক থেকে দেড় মাসে অন্তত দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা।’
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিগত সরকারের সময় অনেকে আত্মসমর্পণ করলেও তাদের কর্মসংস্থান হয়নি। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার না করায় তারা আগের পথে ফিরে যাচ্ছে।
পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর বাঘা এলাকায় তাদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন। পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দরকার হলে এলাকাভিত্তিক ঘেরাও করে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এসব চাঁদাবাজকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ পোশাকে ও সাদা পোশাকে কাজ করছে।
রাজশাহী বিভাগের পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সন্দেহভাজন সর্বহারা সদস্যদের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পিস্তলসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।
জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশের ডিআইজি মো. শাহজাহান বলেন, যিনি অপরাধ করেন, তারা কোনো দল থাকতে পারে না। আমরা অপরাধিকে অপরাধি হিসেবে দেখি। দেশের প্রচলিত আেইন মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।এতে শৈথিল্যের কোনো সুযোগ নেই। পুলিশের আইজিপিসহ সব স্তরের এই নির্দেশনা পালন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
বিগত সরকারের আমলে আত্মসমর্পণ করেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির সদস্যরা। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়া ও মামলা প্রত্যাহার না করায় তারা আবার পুরনো পথে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা। নতুন করে কেউ কেউ সর্বহারা পরিচয়ে এলাকায় সংগঠিত হচ্ছেন এবং চাঁদাবাজিও করছেন।
গত দেড়-দুই মাস ধরে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও রাজশাহীর বাঘাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে থাকা গ্রুপগুলো নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। সম্প্রতি তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধে পাবনায় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ এ ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে।
পাবনা সদর থানাধীন মাসুম বাজার সংলগ্ন জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার সামনে গত ৮ জুন সন্ধ্যায় হোসেন আলী নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনটি গুলি তার বুকে ও পিঠে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, আগে সর্বহারা ও চরমপন্থীদের একটি আদর্শ ছিল, কিন্তু এখন তাদের কোনো আদর্শ নেই। তারা এখন এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি করতে আধিপত্য বিস্তারে নামছে। ঈশ্বরদী, লালপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাঘা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে তারা। তাদের আনাগোনা স্থানীয়রা জানে, কিন্তু ভয়ে কেউ কথা বলছে না।
রাজশাহী বিভাগের পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সর্বহারা পরিচয় দেয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা ১৫০ থেকে ২০০ জন হবে। তারা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত। গত এক থেকে দেড় মাসে অন্তত দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা।’
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিগত সরকারের সময় অনেকে আত্মসমর্পণ করলেও তাদের কর্মসংস্থান হয়নি। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার না করায় তারা আগের পথে ফিরে যাচ্ছে।
পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর বাঘা এলাকায় তাদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন। পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দরকার হলে এলাকাভিত্তিক ঘেরাও করে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এসব চাঁদাবাজকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ পোশাকে ও সাদা পোশাকে কাজ করছে।
রাজশাহী বিভাগের পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সন্দেহভাজন সর্বহারা সদস্যদের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পিস্তলসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।
জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশের ডিআইজি মো. শাহজাহান বলেন, যিনি অপরাধ করেন, তারা কোনো দল থাকতে পারে না। আমরা অপরাধিকে অপরাধি হিসেবে দেখি। দেশের প্রচলিত আেইন মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।এতে শৈথিল্যের কোনো সুযোগ নেই। পুলিশের আইজিপিসহ সব স্তরের এই নির্দেশনা পালন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

আপনার মতামত লিখুন