বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ব্রাজিল। ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক গোলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ৩-০ ব্যবধানে লিড নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখলেও প্রথমার্ধের প্রথম ২০ মিনিট গোছানো রক্ষণ আর শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলার মাধ্যমে ব্রাজিলকে বেশ ভুগিয়েছে হাইতি। ম্যাচের শুরুতেই রাফিনহা, ভিনিসিয়ুস ও কুনহাদের একাধিক আক্রমণ দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন হাইতির ডিফেন্ডাররা।
এর মধ্যে চতুর্থ মিনিটে ডগলাস সান্তোসকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন হাইতির কার্লেন্স আর্কুস, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত দ্রুততম হলুদ কার্ড। এরপর ১২ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের অসাধারণ পাস থেকে রাফিনহা বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
প্রথম ২০ মিনিটে বলের মাত্র ৩৪ শতাংশ দখলে রেখেও ব্রাজিলকে আটকে রাখতে পেরেছিল হাইতি। তবে ম্যাচের ২৩ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গিমারায়েসের পাস পেয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বক্সে ঢুকে শট নিলে হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিদে প্রথমে বল ঠেকালেও তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি।
পরবর্তীতে ডিফেন্ডার ডেলক্রোয়ার ক্লিয়ারেন্স কুনহার গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এই গোলটি ছিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ফিলিপে কুতিনহোর গোলের পর ব্রাজিলের দ্রুততম গোল।
এরপর ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহা। মাঝমাঠে হাইতির বল হারানোর সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠেন ভিনিসিয়ুস। তিনি ডুভার্নেকে অবস্থানচ্যুত করে কুনহার উদ্দেশে নিখুঁত পাস বাড়ান এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড প্রথম স্পর্শে বল একটু বাইরে নিয়ে গেলেও দূরহ কোণ থেকে দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন।
দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই কিছুটা দুঃসংবাদ পায় সেলেসাওরা। বার্সেলোনা তারকা রাফিনহা চোট পেয়ে মাঠে বসে পড়লে চিকিৎসক দলের পরামর্শে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ৪০ মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ানকে।
তবে এই ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি গোল যোগ করে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লুকাস পাকেতার অসাধারণ দূরপাল্লার পাস থেকে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
মাঝমাঠ থেকে পাকেতার ভাসানো পাস হাইতির রক্ষণভাগকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয় এবং অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে এককভাবে এগিয়ে গিয়ে গোলরক্ষক প্লাসিদেকে পরাস্ত করে সহজেই বল জালে জড়ান এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
এই গোলের সুবাদে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। পুরো প্রথমার্ধের খেলায় ভিনিসিয়ুস ছিলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী খেলোয়াড়, যিনি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোল তৈরিতে সরাসরি অবদান রেখে হাইতির রক্ষণভাগকে বারবার বিপদে ফেলেছেন।
অন্যদিকে কুনহাও জোড়া গোল করে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন। প্রথমার্ধে ব্রাজিলের এই তিন গোলের বিপরীতে হাইতি উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি, যার ফলে দ্বিতীয়ার্ধে বড় কোনো অলৌকিক কিছু না ঘটলে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সহজ জয় পেতে যাচ্ছে সেলেসাওরা।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ব্রাজিল। ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক গোলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ৩-০ ব্যবধানে লিড নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখলেও প্রথমার্ধের প্রথম ২০ মিনিট গোছানো রক্ষণ আর শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলার মাধ্যমে ব্রাজিলকে বেশ ভুগিয়েছে হাইতি। ম্যাচের শুরুতেই রাফিনহা, ভিনিসিয়ুস ও কুনহাদের একাধিক আক্রমণ দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন হাইতির ডিফেন্ডাররা।
এর মধ্যে চতুর্থ মিনিটে ডগলাস সান্তোসকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন হাইতির কার্লেন্স আর্কুস, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত দ্রুততম হলুদ কার্ড। এরপর ১২ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের অসাধারণ পাস থেকে রাফিনহা বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
প্রথম ২০ মিনিটে বলের মাত্র ৩৪ শতাংশ দখলে রেখেও ব্রাজিলকে আটকে রাখতে পেরেছিল হাইতি। তবে ম্যাচের ২৩ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গিমারায়েসের পাস পেয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বক্সে ঢুকে শট নিলে হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিদে প্রথমে বল ঠেকালেও তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি।
পরবর্তীতে ডিফেন্ডার ডেলক্রোয়ার ক্লিয়ারেন্স কুনহার গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এই গোলটি ছিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ফিলিপে কুতিনহোর গোলের পর ব্রাজিলের দ্রুততম গোল।
এরপর ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহা। মাঝমাঠে হাইতির বল হারানোর সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠেন ভিনিসিয়ুস। তিনি ডুভার্নেকে অবস্থানচ্যুত করে কুনহার উদ্দেশে নিখুঁত পাস বাড়ান এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড প্রথম স্পর্শে বল একটু বাইরে নিয়ে গেলেও দূরহ কোণ থেকে দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন।
দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই কিছুটা দুঃসংবাদ পায় সেলেসাওরা। বার্সেলোনা তারকা রাফিনহা চোট পেয়ে মাঠে বসে পড়লে চিকিৎসক দলের পরামর্শে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ৪০ মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ানকে।
তবে এই ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি গোল যোগ করে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লুকাস পাকেতার অসাধারণ দূরপাল্লার পাস থেকে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
মাঝমাঠ থেকে পাকেতার ভাসানো পাস হাইতির রক্ষণভাগকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয় এবং অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে এককভাবে এগিয়ে গিয়ে গোলরক্ষক প্লাসিদেকে পরাস্ত করে সহজেই বল জালে জড়ান এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
এই গোলের সুবাদে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। পুরো প্রথমার্ধের খেলায় ভিনিসিয়ুস ছিলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী খেলোয়াড়, যিনি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোল তৈরিতে সরাসরি অবদান রেখে হাইতির রক্ষণভাগকে বারবার বিপদে ফেলেছেন।
অন্যদিকে কুনহাও জোড়া গোল করে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন। প্রথমার্ধে ব্রাজিলের এই তিন গোলের বিপরীতে হাইতি উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি, যার ফলে দ্বিতীয়ার্ধে বড় কোনো অলৌকিক কিছু না ঘটলে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সহজ জয় পেতে যাচ্ছে সেলেসাওরা।

আপনার মতামত লিখুন