সংবাদ

উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার আভাস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার আভাস

দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উত্তরের ৪টি জেলায় ইতিমধ্যে বন্যার তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে সিলেট বিভাগেও আকস্মিক বন্যার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উত্তরের ঝুঁকিপূর্ণ জেলা: নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং রংপুর।

তিস্তা ব্যারাজের পরিস্থিতি: লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই (গেট) খুলে রাখা হয়েছে।

পানির ওঠানামা: ডালিয়া পয়েন্টে গতকাল বিকেল ৩টায় পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও এর আগের দিন তা ছিল ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। অর্থাৎ, পানি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাড়ছে এবং ইতিমধ্যেই নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু ফসলের খেত তলিয়ে গেছে।

সিলেটের নিম্নাঞ্চলগুলোয় কয়েক দিন ধরেই টানা বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪১ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ। এছাড়া শনিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৩৫. মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান: "আপাতত সিলেটের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ভারতের মেঘালয় পার্বত্য অঞ্চলে আগামী তিন দিন প্রচুর বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে সিলেট, সুনামগঞ্জ হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।"

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী অন্তত তিন দিন দেশের ৪টি বিভাগে (রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম সিলেট) ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সময় অস্থায়ী দমকা হাওয়া বজ্রপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দেশের ১০টি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। অঞ্চলগুলো হলো: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট।

এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নদী সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার আভাস

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উত্তরের ৪টি জেলায় ইতিমধ্যে বন্যার তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে সিলেট বিভাগেও আকস্মিক বন্যার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উত্তরের ঝুঁকিপূর্ণ জেলা: নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং রংপুর।

তিস্তা ব্যারাজের পরিস্থিতি: লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই (গেট) খুলে রাখা হয়েছে।

পানির ওঠানামা: ডালিয়া পয়েন্টে গতকাল বিকেল ৩টায় পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও এর আগের দিন তা ছিল ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। অর্থাৎ, পানি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাড়ছে এবং ইতিমধ্যেই নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু ফসলের খেত তলিয়ে গেছে।

সিলেটের নিম্নাঞ্চলগুলোয় কয়েক দিন ধরেই টানা বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪১ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ। এছাড়া শনিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৩৫. মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান: "আপাতত সিলেটের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ভারতের মেঘালয় পার্বত্য অঞ্চলে আগামী তিন দিন প্রচুর বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে সিলেট, সুনামগঞ্জ হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।"

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী অন্তত তিন দিন দেশের ৪টি বিভাগে (রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম সিলেট) ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সময় অস্থায়ী দমকা হাওয়া বজ্রপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দেশের ১০টি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। অঞ্চলগুলো হলো: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট।

এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নদী সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত