সংবাদ

জমজ কন্যাসন্তানই ‘কাল’ হলো রিনার, দাম্পত্যে ঝড়


প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

জমজ কন্যাসন্তানই ‘কাল’ হলো রিনার, দাম্পত্যে ঝড়
জমজ কন্যাসন্তান জন্মের পরই সন্দেহের তীর বিদ্ধ করে রিনা খাতুনকে। ছবি: প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নতুন কোলা গ্রামে জমজ কন্যাসন্তানের জন্মকে কেন্দ্র করে এক দম্পতির পারিবারিক বিরোধ এখন এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তালাক, কাবিনের টাকা, সন্তানদের ভরণপোষণ ও স্ত্রীর আগের বিয়ের তথ্য নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দুই পরিবার। 

স্ত্রী রিনা খাতুনের অভিযোগ, জমজ কন্যাসন্তানের জন্মের পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের আচরণে পরিবর্তন আসে। কন্যাসন্তান হওয়ায় তাকে মানসিক চাপ দিয়ে একপর্যায়ে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

রিনা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, চলতি বছরের গত ২৫ এপ্রিল তাকে তালাকের প্রথম নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর থেকে স্বামী বা তার পরিবারের পক্ষের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।

রিনার মা হালিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘সামাজিকভাবে অনুষ্ঠান করেই আমরা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। সবকিছু জেনেই বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অথচ মেয়ের ঘরে কন্যাসন্তান হওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। হামিলা খাতুন আরও বলেন, ‘আমরা চাই আমার মেয়ে ও নাতনিরা ন্যায্য অধিকার পাক।

তবে সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে রিনার স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, সন্তান আমার। আমি কেন আমার সন্তানদের অবহেলা করব। সন্তানদের দায়িত্ব না নেওয়ার কোনো বিষয় নেই। আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছে তার অনেকটাই একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, তার স্ত্রী-সন্তানদের চিকিৎসা খরচ, সিজারের টাকা, ওষুধ, এমনকি শিশুর দুধসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও তারা কিনে দিয়েছেন। 

রাকিবুলের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নাতি-নাতনিদের অস্বীকার করছি না। সন্তান আমাদেরও। তবে সংসারে বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। 

শহিদুল ইসলাম জানান, বিয়ের আগেই রিনার আগের বিয়ের বিষয়গুলো নিয়ে তাদের পরিবারে আলোচনা হয়েছিল। কাবিনের টাকা সংক্রান্ত অভিযোগ সব না জেনেই তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। 

রিনার শ্বশুর শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, কাজীরবেড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়া নবী স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্রে রিনা খাতুনের আগের চারটি বিয়ের তথ্য উল্লেখ আছে। গাড়াপোতা গ্রামের শরিফুল ইসলাম, ইসামপুর গ্রামের বাবুল, পুরাতন কোলা গ্রামের নাজমুল হোসেন ও সাব্বিরের সঙ্গে রিনা খাতুনের বিয়ের তথ্য আছে বলে দাবি করেন শহিদুল ইসলাম। বর্তমানে নতুন কোলা গ্রামের রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে রিনা খাতুনের সংসার চলমান।

রাকিবুলের মা আফরোজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে রিনাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। তখন আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু পরে সংসারে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই বিষয়টির সুন্দর সমাধান হোক।

অন্যদিকে রিনার নানি আচিরন বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা চলছিল। আমরা চাই আমার নাতনি ও তার সন্তানরা ভালো থাকুক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুহু জানান, দুই পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও মতের অমিল থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে গত ১৬ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিশুদের বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। কোনো শিশুর প্রতি অবহেলা বা বৈষম্যমূলক আচরণ কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।শিশুদের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। জমজ দুই শিশুকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সহানুভূতি দেখা গেছে। এখন এলাকাবাসীর নজর এই পারিবারিক বিরোধের শেষ সমাধান কোন দিকে গড়ায় তার দিকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


জমজ কন্যাসন্তানই ‘কাল’ হলো রিনার, দাম্পত্যে ঝড়

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নতুন কোলা গ্রামে জমজ কন্যাসন্তানের জন্মকে কেন্দ্র করে এক দম্পতির পারিবারিক বিরোধ এখন এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তালাক, কাবিনের টাকা, সন্তানদের ভরণপোষণ ও স্ত্রীর আগের বিয়ের তথ্য নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দুই পরিবার। 

স্ত্রী রিনা খাতুনের অভিযোগ, জমজ কন্যাসন্তানের জন্মের পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের আচরণে পরিবর্তন আসে। কন্যাসন্তান হওয়ায় তাকে মানসিক চাপ দিয়ে একপর্যায়ে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

রিনা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, চলতি বছরের গত ২৫ এপ্রিল তাকে তালাকের প্রথম নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর থেকে স্বামী বা তার পরিবারের পক্ষের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।

রিনার মা হালিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘সামাজিকভাবে অনুষ্ঠান করেই আমরা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। সবকিছু জেনেই বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অথচ মেয়ের ঘরে কন্যাসন্তান হওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। হামিলা খাতুন আরও বলেন, ‘আমরা চাই আমার মেয়ে ও নাতনিরা ন্যায্য অধিকার পাক।

তবে সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে রিনার স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, সন্তান আমার। আমি কেন আমার সন্তানদের অবহেলা করব। সন্তানদের দায়িত্ব না নেওয়ার কোনো বিষয় নেই। আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছে তার অনেকটাই একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, তার স্ত্রী-সন্তানদের চিকিৎসা খরচ, সিজারের টাকা, ওষুধ, এমনকি শিশুর দুধসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও তারা কিনে দিয়েছেন। 

রাকিবুলের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নাতি-নাতনিদের অস্বীকার করছি না। সন্তান আমাদেরও। তবে সংসারে বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। 

শহিদুল ইসলাম জানান, বিয়ের আগেই রিনার আগের বিয়ের বিষয়গুলো নিয়ে তাদের পরিবারে আলোচনা হয়েছিল। কাবিনের টাকা সংক্রান্ত অভিযোগ সব না জেনেই তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। 

রিনার শ্বশুর শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, কাজীরবেড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়া নবী স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্রে রিনা খাতুনের আগের চারটি বিয়ের তথ্য উল্লেখ আছে। গাড়াপোতা গ্রামের শরিফুল ইসলাম, ইসামপুর গ্রামের বাবুল, পুরাতন কোলা গ্রামের নাজমুল হোসেন ও সাব্বিরের সঙ্গে রিনা খাতুনের বিয়ের তথ্য আছে বলে দাবি করেন শহিদুল ইসলাম। বর্তমানে নতুন কোলা গ্রামের রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে রিনা খাতুনের সংসার চলমান।

রাকিবুলের মা আফরোজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে রিনাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। তখন আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু পরে সংসারে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই বিষয়টির সুন্দর সমাধান হোক।

অন্যদিকে রিনার নানি আচিরন বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা চলছিল। আমরা চাই আমার নাতনি ও তার সন্তানরা ভালো থাকুক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুহু জানান, দুই পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও মতের অমিল থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে গত ১৬ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিশুদের বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। কোনো শিশুর প্রতি অবহেলা বা বৈষম্যমূলক আচরণ কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।শিশুদের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। জমজ দুই শিশুকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সহানুভূতি দেখা গেছে। এখন এলাকাবাসীর নজর এই পারিবারিক বিরোধের শেষ সমাধান কোন দিকে গড়ায় তার দিকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত