গ্রীষ্মের শুরুতেই ইউরোপজুড়ে জেঁকে বসেছে এক অভূতপূর্ব ও প্রলয়ঙ্কারী তাপপ্রবাহ। খোদ জুনের শুরুতেই ফ্রান্সের প্যারিস থেকে শুরু করে স্পেনের সেভিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করেছে বা ছাড়িয়ে যাওয়ার রেকর্ড গড়ছে।
বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফ্রান্স ২৪, বিবিসি এবং দ্য গার্ডিয়ান-এর বিশেষ প্রতিবেদনগুলোতে এই পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন এবং চরম বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই চরম অবস্থার মূল কারণ একটি শক্তিশালী ‘হিট ডোম’। ইউরোপের বায়ুমণ্ডলে একটি উচ্চ বায়ুচাপ অঞ্চল তৈরি হয়ে গরম বাতাসকে নিচে আটকে ফেলেছে। ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি অনুভূত হচ্ছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তাপমাত্রা প্রথমবারের মতো জুনের শুরুতেই ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশের শত শত স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্পেনের সেভিয়া ও কর্ডোবা অঞ্চলে পারদ ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। পর্তুগালের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪০.৩ ডিগ্রিতে ঠেকেছে।
যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডেও পরিস্থিতি একই। মহাদেশীয় ইউরোপের এই চরম গরম বাতাস উত্তর দিকে ধেয়ে আসায় যুক্তরাজ্যেও ‘অ্যাম্বার হিট-হেলথ অ্যালার্ট’ বা তীব্র তাপ-স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইউরোনিউজ-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো ‘ট্রপিক্যাল নাইট’ বা অত্যন্ত উষ্ণ রাত। রাতের বেলাতেও তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নিচে না নামায় মানুষের শরীর শীতল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। যা বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এছাড়াও, ফিনল্যান্ড বা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মতো নর্ডিক দেশগুলো- যাদের ঘরবাড়ি শীতের কথা মাথায় রেখে ‘তাপ ধরে রাখার’ জন্য তৈরি- সেখানেও তীব্র গরমে মানুষ ঘরের ভেতর হাঁসফাঁস করছে।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ গবেষকদের মতে, এটি কেবল ‘আরেকটি গরম সপ্তাহ’ নয়, বরং মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট ফল। জাতিসংঘের প্রধান এটিকে জলবায়ু সংকটের একটি ‘নৃশংস স্মৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে সতর্ক করে আসছেন, আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশের তাপ-পরিবাহী স্রোত ‘অ্যামক’ দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপের বায়ুপ্রবাহ এবং জেট স্ট্রিম এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে গরম আবহাওয়া এক জায়গায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে এবং ঘন ঘন তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করছে ।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
গ্রীষ্মের শুরুতেই ইউরোপজুড়ে জেঁকে বসেছে এক অভূতপূর্ব ও প্রলয়ঙ্কারী তাপপ্রবাহ। খোদ জুনের শুরুতেই ফ্রান্সের প্যারিস থেকে শুরু করে স্পেনের সেভিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করেছে বা ছাড়িয়ে যাওয়ার রেকর্ড গড়ছে।
বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফ্রান্স ২৪, বিবিসি এবং দ্য গার্ডিয়ান-এর বিশেষ প্রতিবেদনগুলোতে এই পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন এবং চরম বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই চরম অবস্থার মূল কারণ একটি শক্তিশালী ‘হিট ডোম’। ইউরোপের বায়ুমণ্ডলে একটি উচ্চ বায়ুচাপ অঞ্চল তৈরি হয়ে গরম বাতাসকে নিচে আটকে ফেলেছে। ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি অনুভূত হচ্ছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তাপমাত্রা প্রথমবারের মতো জুনের শুরুতেই ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশের শত শত স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্পেনের সেভিয়া ও কর্ডোবা অঞ্চলে পারদ ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। পর্তুগালের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪০.৩ ডিগ্রিতে ঠেকেছে।
যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডেও পরিস্থিতি একই। মহাদেশীয় ইউরোপের এই চরম গরম বাতাস উত্তর দিকে ধেয়ে আসায় যুক্তরাজ্যেও ‘অ্যাম্বার হিট-হেলথ অ্যালার্ট’ বা তীব্র তাপ-স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইউরোনিউজ-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো ‘ট্রপিক্যাল নাইট’ বা অত্যন্ত উষ্ণ রাত। রাতের বেলাতেও তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নিচে না নামায় মানুষের শরীর শীতল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। যা বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এছাড়াও, ফিনল্যান্ড বা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মতো নর্ডিক দেশগুলো- যাদের ঘরবাড়ি শীতের কথা মাথায় রেখে ‘তাপ ধরে রাখার’ জন্য তৈরি- সেখানেও তীব্র গরমে মানুষ ঘরের ভেতর হাঁসফাঁস করছে।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ গবেষকদের মতে, এটি কেবল ‘আরেকটি গরম সপ্তাহ’ নয়, বরং মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট ফল। জাতিসংঘের প্রধান এটিকে জলবায়ু সংকটের একটি ‘নৃশংস স্মৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে সতর্ক করে আসছেন, আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশের তাপ-পরিবাহী স্রোত ‘অ্যামক’ দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপের বায়ুপ্রবাহ এবং জেট স্ট্রিম এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে গরম আবহাওয়া এক জায়গায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে এবং ঘন ঘন তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করছে ।

আপনার মতামত লিখুন