সংবাদ

স্কুলে না এসেও বেতন নিচ্ছেন শিক্ষিকা


প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

স্কুলে না এসেও বেতন নিচ্ছেন শিক্ষিকা
ছবি : সংবাদ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে প্রায় এক বছর ক্লাসে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শামীমা নাসরিন মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও পাঠদানে অংশ নেন না। বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আপাকে মাঝে মধ্যে স্কুলে আসতে দেখি, কিন্তু তাকে আমাদের কোনো ক্লাস নিতে দেখিনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ওই শিক্ষিকা অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। তবে তার জায়গায় ‘বদলি শিক্ষক’ হিসেবে পলাশ ও আশিক নামের দুই তরুণকে দিয়ে ক্লাস করানো হয়। ১৯ জুন বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি। হাজিরা খাতায় দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে তার কোনো স্বাক্ষর নেই। এমনকি ওই দুই বদলি শিক্ষককেও বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি।

সহকারী প্রধান শিক্ষক শাজাহান বলেন, ‘শামীমা নাসরিন অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসেন। তার শারীরিক ও মানসিক সমস্যা আছে। মাঝেমধ্যে এসে স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান, ক্লাস নেন না বললেই চলে। প্রায় এক বছর ধরে তার পরিবর্তে দুজন বদলি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।’ তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিশ্রমিক নিয়মিত না পাওয়ায় ওই বদলি শিক্ষকেরাও এখন অনিয়মিত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শামীমা নাসরিনের বাড়িতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসতে রাজি হননি। ঘরের দরজার আড়াল থেকে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনারা স্কুলে গিয়ে কথা বলেন।’

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথমে দাবি করেন, ওই শিক্ষিকা নিয়মিত ক্লাস নেন। পরে তিনি একেকবার একেক তথ্য দেন। একবার বলেন, শিক্ষিকা চিকিৎসকের কাছে গেছেন; আবার বলেন, তিনি চার দিনের ছুটিতে আছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। বিদ্যালয়ে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


স্কুলে না এসেও বেতন নিচ্ছেন শিক্ষিকা

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে প্রায় এক বছর ক্লাসে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শামীমা নাসরিন মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও পাঠদানে অংশ নেন না। বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আপাকে মাঝে মধ্যে স্কুলে আসতে দেখি, কিন্তু তাকে আমাদের কোনো ক্লাস নিতে দেখিনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ওই শিক্ষিকা অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। তবে তার জায়গায় ‘বদলি শিক্ষক’ হিসেবে পলাশ ও আশিক নামের দুই তরুণকে দিয়ে ক্লাস করানো হয়। ১৯ জুন বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি। হাজিরা খাতায় দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে তার কোনো স্বাক্ষর নেই। এমনকি ওই দুই বদলি শিক্ষককেও বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি।

সহকারী প্রধান শিক্ষক শাজাহান বলেন, ‘শামীমা নাসরিন অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসেন। তার শারীরিক ও মানসিক সমস্যা আছে। মাঝেমধ্যে এসে স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান, ক্লাস নেন না বললেই চলে। প্রায় এক বছর ধরে তার পরিবর্তে দুজন বদলি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।’ তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিশ্রমিক নিয়মিত না পাওয়ায় ওই বদলি শিক্ষকেরাও এখন অনিয়মিত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শামীমা নাসরিনের বাড়িতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসতে রাজি হননি। ঘরের দরজার আড়াল থেকে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনারা স্কুলে গিয়ে কথা বলেন।’

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথমে দাবি করেন, ওই শিক্ষিকা নিয়মিত ক্লাস নেন। পরে তিনি একেকবার একেক তথ্য দেন। একবার বলেন, শিক্ষিকা চিকিৎসকের কাছে গেছেন; আবার বলেন, তিনি চার দিনের ছুটিতে আছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। বিদ্যালয়ে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত