আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দুই গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য সব সেভ আর লাল কার্ডের নাটকীয়তায় ঠাসা এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই উপভোগ করলেন ফুটবলপ্রেমীরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বেলজিয়াম ও ইরান। তবে মাঠের চরম উত্তেজনাও শেষ পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি ডেডলক। বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র নিয়ে শেষ হয়েছে।
বল দখল ও আক্রমণে বেলজিয়াম একতরফা আধিপত্য দেখালেও ইরানের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দকে পরাস্ত করতে পারেনি। শেষ ৩৪ মিনিট ১০ জনের দল নিয়ে খেলেও ইরানের আক্রমণভাগকে আটকে রাখতে সমর্থ হয় রেড ডেভিলসরা। এই ড্রয়ের ফলে ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে ইরান। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম।
ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ৬২২টি পাস সম্পন্ন করে রুডি গার্সিয়ার দল। পুরো ম্যাচে তারা ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে।
অন্যদিকে ইরান মাত্র ৭টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে যায় বেলজিয়াম। নবম মিনিটে বক্সের বাম দিক দিয়ে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন কেভিন ডি ব্রুইনা। তবে তার ডান পায়ের শট পোস্টের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর এক মিনিট পরেই ডি ব্রুইনার আরও একটি জোরালো শট ইরানের গোলরক্ষক আটকিয়ে দেন।
১৫ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় ইরান। হোসেইন কানানি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পোস্টের একদম নিচের কোণ ঘেঁষে জোরালো শট নিলেও থিবো কোর্তোয়ার দুর্দান্ত সেভে গোলবঞ্চিত হয় তারা। ম্যাচের ২৫ মিনিটে এহসান হাজিসাফির চমৎকার রিভার্স পাস থেকে বল জালে জড়ান মেহেদি তারেমি। তবে রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজালে ভিএআর পরীক্ষার পর সেই গোলটি বাতিল করা হয়।
বিরতির পর ৪৬ মিনিটে ইরানের আলিরেজা জাহানবখশ গোলপোস্টের কাছ থেকে শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এক মিনিট পর কেভিন ডি ব্রুইনার আরেকটি শট ইরানের ডিফেন্ডাররা দারুণ ক্ষিপ্রতায় ব্লক করে দেন। ৫৩ মিনিটে মেহদি তারেমির জোরালো শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে আবারও বেলজিয়ামকে রক্ষা করেন কোর্তোয়া।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম। বক্সের ভেতর থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের জোরালো শট ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ অবিশ্বাস্য প্রতিক্রিয়ায় ফিরিয়ে দেন। ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে ৬৬ মিনিটে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার এনগয়ের অসতর্কতায় বল পেয়ে এককভাবে গোলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারেমি। তাকে থামাতে গিয়ে জার্সি টেনে ধরে ফাউল করেন নাথান এনগয়। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে দশ জনের দলে পরিণত হয় বেলজিয়াম।
একজন কম নিয়ে খেলার পরেও বেলজিয়াম আক্রমণের ধারা বজায় রাখে। ডি কুইপারের আরও একটি শক্তিশালী শট ঠেকিয়ে দেন ম্যাচের নায়ক বেইরানভান্দ। দুর্দান্ত সাতটি সেভ করে তিনি একাই বেলজিয়ামের আক্রমণ থামিয়ে দিয়ে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দুই গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য সব সেভ আর লাল কার্ডের নাটকীয়তায় ঠাসা এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই উপভোগ করলেন ফুটবলপ্রেমীরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বেলজিয়াম ও ইরান। তবে মাঠের চরম উত্তেজনাও শেষ পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি ডেডলক। বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র নিয়ে শেষ হয়েছে।
বল দখল ও আক্রমণে বেলজিয়াম একতরফা আধিপত্য দেখালেও ইরানের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দকে পরাস্ত করতে পারেনি। শেষ ৩৪ মিনিট ১০ জনের দল নিয়ে খেলেও ইরানের আক্রমণভাগকে আটকে রাখতে সমর্থ হয় রেড ডেভিলসরা। এই ড্রয়ের ফলে ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে ইরান। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম।
ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ৬২২টি পাস সম্পন্ন করে রুডি গার্সিয়ার দল। পুরো ম্যাচে তারা ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে।
অন্যদিকে ইরান মাত্র ৭টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে যায় বেলজিয়াম। নবম মিনিটে বক্সের বাম দিক দিয়ে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন কেভিন ডি ব্রুইনা। তবে তার ডান পায়ের শট পোস্টের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর এক মিনিট পরেই ডি ব্রুইনার আরও একটি জোরালো শট ইরানের গোলরক্ষক আটকিয়ে দেন।
১৫ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় ইরান। হোসেইন কানানি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পোস্টের একদম নিচের কোণ ঘেঁষে জোরালো শট নিলেও থিবো কোর্তোয়ার দুর্দান্ত সেভে গোলবঞ্চিত হয় তারা। ম্যাচের ২৫ মিনিটে এহসান হাজিসাফির চমৎকার রিভার্স পাস থেকে বল জালে জড়ান মেহেদি তারেমি। তবে রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজালে ভিএআর পরীক্ষার পর সেই গোলটি বাতিল করা হয়।
বিরতির পর ৪৬ মিনিটে ইরানের আলিরেজা জাহানবখশ গোলপোস্টের কাছ থেকে শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এক মিনিট পর কেভিন ডি ব্রুইনার আরেকটি শট ইরানের ডিফেন্ডাররা দারুণ ক্ষিপ্রতায় ব্লক করে দেন। ৫৩ মিনিটে মেহদি তারেমির জোরালো শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে আবারও বেলজিয়ামকে রক্ষা করেন কোর্তোয়া।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম। বক্সের ভেতর থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের জোরালো শট ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ অবিশ্বাস্য প্রতিক্রিয়ায় ফিরিয়ে দেন। ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে ৬৬ মিনিটে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার এনগয়ের অসতর্কতায় বল পেয়ে এককভাবে গোলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারেমি। তাকে থামাতে গিয়ে জার্সি টেনে ধরে ফাউল করেন নাথান এনগয়। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে দশ জনের দলে পরিণত হয় বেলজিয়াম।
একজন কম নিয়ে খেলার পরেও বেলজিয়াম আক্রমণের ধারা বজায় রাখে। ডি কুইপারের আরও একটি শক্তিশালী শট ঠেকিয়ে দেন ম্যাচের নায়ক বেইরানভান্দ। দুর্দান্ত সাতটি সেভ করে তিনি একাই বেলজিয়ামের আক্রমণ থামিয়ে দিয়ে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন।

আপনার মতামত লিখুন