শত শত বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে এবারই প্রথম প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন কয়েকটি দানবাক্স ও সিলগালা করা ঐতিহাসিক তিনটি ‘ডেগের’ টাকা গণনা শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাজার প্রাঙ্গণে উৎসুক লোকজনের উপস্থিতিতে এই গণনা চলছে। অনেকেই মুঠোফোনে টাকা গণনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এর আগে কখনো এভাবে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয়নি।
দুপুরে মাজার মসজিদে নামাজ আদায় করেন সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। তবে টাকা গণনার বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কথা বলেননি তিনি। পরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান তিনি।
মাজারের আয়-ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি সিলেটে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ডিসি সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক তিনটি ‘ডেগ’ সিলগালা করে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে তখন মাজার ভক্তদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
পরদিন শুক্রবার হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে সেখানেও স্বচ্ছতা ও মাদক বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছিলেন সারওয়ার আলম।
এদিকে গত রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তার প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে সিলেটে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের আদেশ বাতিলের দাবিতে তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় একটি প্রভাবশালী মহলের নির্দেশে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সকালে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন সারওয়ার আলম। পরে তিনি তার দাপ্তরিক কাজ শেষে দুপুরে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আসেন।
আপনার মতামত লিখুন