ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের সেই বাড়িটি এখন এক নিস্তব্ধতার চাদরে ঢাকা। যে বাড়িতে ১০ বছরের মায়মুনা আক্তার ময়নার হাসিতে ঘর মুখর থাকত, সেখানে এখন কেবলই হাহাকার। দীর্ঘ এক বছর হতে চলল, কিন্তু এক প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার মেয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো অধরা। বিচার পাওয়ার আশায় এক দপ্তার থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক নিঃস্ব মা।
২০২৫ সালের ৫ জুলাই। তপ্ত এক বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ময়না। এরপর আর ফেরেনি। পুরো গ্রাম খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন ৬ জুলাই সকালে গ্রামের মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি নির্জন কক্ষে মেলে তার নিথর দেহ। বিবস্ত্র, ক্ষতবিক্ষত সেই ছোট্ট শরীরটি দেখে কেঁপে উঠেছিল পুরো শাহবাজপুর। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে আসে এক বীভৎস সত্য-১০ বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
ময়নার বাবা আবদুর রাজ্জাক সুদূর সৌদি আরবে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন। তার সব স্বপ্ন, সব পরিশ্রম ছিল একমাত্র মেয়ে ময়নাকে ঘিরে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কেবলই স্মৃতি।
মা লিপা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী বিদেশে দিনরাত এক করে আমাদের জন্য পরিশ্রম করেন। আমাদের পৃথিবী ছিল আমাদের মেয়ে। তাকে হারিয়ে আমরা এখন জ্যান্ত লাশ।’
ঘটনার পর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে আটক করা হলেও তারা এখন জামিনে মুক্ত। আশ্চর্যজনকভাবে তারা আগের কর্মস্থলেই ফিরে গেছেন। পুলিশের তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল নেতিবাচক আসায় মামলাটি স্থবির হয়ে পড়েছে। কিন্তু মা লিপা আক্তারের প্রশ্ন অন্য জায়গায়-‘আমার মেয়ের কাপড়ে পাওয়া আলামতের সাথে যদি আটককৃতদের ডিএনএ না মেলে, তবে অপরাধী কারা? তারা কি তবে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে?’ স্থানীয়দের মাঝেও গুঞ্জন আছে, টাকার বিনিময়ে ডিএনএ প্রতিবেদন প্রভাবিত করা হতে পারে।
হতাশা আর সংশয় নিয়ে গত ১৯ জুন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দ্বারে হাজির হন লিপা আক্তার। হাতে একটি লিখিত আবেদন, যাতে ঝরছে এক মায়ের কান্না। ডিএনএ পরীক্ষা পুনরায় যাচাই করা এবং উচ্চতর তদন্তের আকুতি জানিয়েছেন তিনি। জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ আশ্বস্ত করেছেন, তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের সেই বাড়িটি এখন এক নিস্তব্ধতার চাদরে ঢাকা। যে বাড়িতে ১০ বছরের মায়মুনা আক্তার ময়নার হাসিতে ঘর মুখর থাকত, সেখানে এখন কেবলই হাহাকার। দীর্ঘ এক বছর হতে চলল, কিন্তু এক প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার মেয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো অধরা। বিচার পাওয়ার আশায় এক দপ্তার থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক নিঃস্ব মা।
২০২৫ সালের ৫ জুলাই। তপ্ত এক বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ময়না। এরপর আর ফেরেনি। পুরো গ্রাম খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন ৬ জুলাই সকালে গ্রামের মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি নির্জন কক্ষে মেলে তার নিথর দেহ। বিবস্ত্র, ক্ষতবিক্ষত সেই ছোট্ট শরীরটি দেখে কেঁপে উঠেছিল পুরো শাহবাজপুর। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে আসে এক বীভৎস সত্য-১০ বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
ময়নার বাবা আবদুর রাজ্জাক সুদূর সৌদি আরবে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন। তার সব স্বপ্ন, সব পরিশ্রম ছিল একমাত্র মেয়ে ময়নাকে ঘিরে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কেবলই স্মৃতি।
মা লিপা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী বিদেশে দিনরাত এক করে আমাদের জন্য পরিশ্রম করেন। আমাদের পৃথিবী ছিল আমাদের মেয়ে। তাকে হারিয়ে আমরা এখন জ্যান্ত লাশ।’
ঘটনার পর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে আটক করা হলেও তারা এখন জামিনে মুক্ত। আশ্চর্যজনকভাবে তারা আগের কর্মস্থলেই ফিরে গেছেন। পুলিশের তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল নেতিবাচক আসায় মামলাটি স্থবির হয়ে পড়েছে। কিন্তু মা লিপা আক্তারের প্রশ্ন অন্য জায়গায়-‘আমার মেয়ের কাপড়ে পাওয়া আলামতের সাথে যদি আটককৃতদের ডিএনএ না মেলে, তবে অপরাধী কারা? তারা কি তবে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে?’ স্থানীয়দের মাঝেও গুঞ্জন আছে, টাকার বিনিময়ে ডিএনএ প্রতিবেদন প্রভাবিত করা হতে পারে।
হতাশা আর সংশয় নিয়ে গত ১৯ জুন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দ্বারে হাজির হন লিপা আক্তার। হাতে একটি লিখিত আবেদন, যাতে ঝরছে এক মায়ের কান্না। ডিএনএ পরীক্ষা পুনরায় যাচাই করা এবং উচ্চতর তদন্তের আকুতি জানিয়েছেন তিনি। জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ আশ্বস্ত করেছেন, তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।

আপনার মতামত লিখুন