সংবাদ

হবিগঞ্জে অপহরণ ঘিরে রণক্ষেত্র, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ


প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

হবিগঞ্জে অপহরণ ঘিরে রণক্ষেত্র, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
ছবি : সংবাদ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এক যুবককে অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২২ জুন) সকালে উত্তেজিত জনতা রাজেন্দ্রপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার একটি পাকা বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোয়াবই গ্রামের ফুয়াদ হাসান সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার মধ্যে একটি মাছের দিঘি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার রাতে গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে হামলা চালায় মাহফুজের নেতৃত্বাধীন ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল। অভিযোগ উঠেছে, সেখান থেকে সাকিবকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। এরপর থেকে সাকিবের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

সাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর সোয়াবই গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রোববার রাতে এক গ্রাম্য বৈঠকে সোমবার সকালে সাকিবকে উদ্ধারের জন্য রাজেন্দ্রপুর গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকশ লোক লাঠিসোটা নিয়ে রাজেন্দ্রপুরে গিয়ে সাকিবের সন্ধান করতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাহফুজ মিয়াকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে কাশিমনগর ফাঁড়ি ও মাধবপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোয়াবই গ্রামের মাজহারুল ইসলাম নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, ‘সাকিবকে অপহরণের ঘটনায় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিল। এ সময় কিছু উত্তেজিত লোক মাহফুজের বাড়িতে আগুন দেয়।’

এদিকে সাকিবের পিতা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে মাহফুজ মিয়ার দাবি, সাকিবের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না; বিনা কারণে তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, অপহরণ ও অগ্নিসংযোগের দুটি ঘটনাকেই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় নতুন করে সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


হবিগঞ্জে অপহরণ ঘিরে রণক্ষেত্র, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এক যুবককে অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২২ জুন) সকালে উত্তেজিত জনতা রাজেন্দ্রপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার একটি পাকা বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোয়াবই গ্রামের ফুয়াদ হাসান সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার মধ্যে একটি মাছের দিঘি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার রাতে গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে হামলা চালায় মাহফুজের নেতৃত্বাধীন ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল। অভিযোগ উঠেছে, সেখান থেকে সাকিবকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। এরপর থেকে সাকিবের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

সাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর সোয়াবই গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রোববার রাতে এক গ্রাম্য বৈঠকে সোমবার সকালে সাকিবকে উদ্ধারের জন্য রাজেন্দ্রপুর গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকশ লোক লাঠিসোটা নিয়ে রাজেন্দ্রপুরে গিয়ে সাকিবের সন্ধান করতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাহফুজ মিয়াকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে কাশিমনগর ফাঁড়ি ও মাধবপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোয়াবই গ্রামের মাজহারুল ইসলাম নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, ‘সাকিবকে অপহরণের ঘটনায় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিল। এ সময় কিছু উত্তেজিত লোক মাহফুজের বাড়িতে আগুন দেয়।’

এদিকে সাকিবের পিতা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে মাহফুজ মিয়ার দাবি, সাকিবের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না; বিনা কারণে তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, অপহরণ ও অগ্নিসংযোগের দুটি ঘটনাকেই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় নতুন করে সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত