সংবাদ

বেরোবিতে ‘তুঘলকি কারবার, ভেঙে পড়েছে ব্যবস্থাপনা


লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

বেরোবিতে ‘তুঘলকি কারবার, ভেঙে পড়েছে ব্যবস্থাপনা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুর।

উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) চলছে তুঘলকি কারবার।সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিসের সময় থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসেন ইচ্ছে মতো।  বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের বেশির ভাগ কক্ষ থাকে ফাঁকা। কর্মকর্তারা তাদের চেম্বারে না থাকলেও এসি ছেড়ে, লাইট জ্বালিয়ে, ফ্যান ছেড়ে ঘর ঠান্ডায় ব্যস্ত পিয়নরা। সকাল ৯টায় হাজিরা দেখানোর নামে ডিজিটাল হাজিরা বা থাম মেশিনে আঙ্গুল দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা দেখিয়ে অফিস থেকে চলে যান বেশির ভাগ কর্মকর্তা।

প্রক্টর থেকে শুরু করে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য পর্যন্ত একাই ৯টি পদে দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান অফিসে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন বহুমুখী অনিয়ম বিশৃঙ্খলায় ভেঙে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিকসহ সব কার্যক্রম।

সরেজমিনে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে দেখা গেল কর্মকর্তা কর্মচারীশূন্য। প্রশাসনিক ভবনের প্রথম তলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত অনেক বিভাগে ঝুলছে তালা। সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় লিফট চালককে দেখা গেল। এসেছেন সকাল ৯টার আগেই।  নিচতলায় বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কেউ কেউ উপস্থিত থাকলেও বেশির ভাগই অনুপস্থিত। ফলে তাদের চেয়ারগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। 

তালা ঝুলতে দেখা গেল জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালকের কক্ষে।এক কর্মচারী জানালেন, তিনি কালেভদ্রে আসেন।একই চিত্র দেখা গেছে প্রকৌশল, সংস্থাপন,  ট্রেজারি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ছাত্র পরামর্শক নির্দেশনা দপ্তর, প্রক্টর অফিস, রেজিস্টার অফিস, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে। উপ রেজিস্টার, সহকারী রেজিস্টার থেকে শুরু করে উপাচার্যের (ভিসি) পিএ, পরীক্ষা দপ্তর থেকে শুরু করে বড় বড় কর্তাদের কক্ষে কেউ নেই।তবে কর্তারা না থাকলেও কক্ষ ঠান্ডা রাখতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র (এসি) চালু রাখা হয়েছে। জ্বলছে বাতি, ঘুরছে ফ্যান। 

বিশেষত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) দপ্তরের প্রধান অধ্যাপক মো. শাহাজাহান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. জাহিদ হোসেন, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স অধ্যাপক তাজুল ইসলামের কক্ষে কেউ না থাকলেও এসিসহ লাইট ফ্যান চালু।জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারীরা জানালেন, কর্মকর্তারা কখন আসেন, কখন যান সবই তাদের নিজ নিজ মর্জির ওপর নির্ভরশীল। তবে তাদের কক্ষ ঠান্ডা রাখার জন্যই এসি চালু রাখা হয়েছে।সেইসঙ্গে লাইট-ফ্যানও চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে বিদ্যুতের চরম অপব্যবহার। উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. শওকত আলী বিদেশে অবস্থান করায় তার দপ্তরের বেশির ভাগ কর্মকর্তাই অনুপস্থিত থাকছেন।নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা ১০টা ৪৭ মিনিটে অফিসে ঢুকে এক নারী কর্মকর্তা বললেন, “একটুখানি দেরি হয়ে গেছে”।

বেশিরভাগ দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা গেলেও কোনো কোনো বিভাগে দুই-চারজন কর্তা বাইরে থেকে হন্তদন্ত হয়ে এসে বললেন, ‘একটু চা খেতে গিয়েছিলাম’।অনেকে আবার প্রতিবেদককে ফোন করে খবর প্রকাশ না করার আকুতি জানান।

পরিচালকের কক্ষ শূন্য। ছবি: প্রতিনিধি

তবে উপাচার্য বিদেশে অবস্থান করায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, রেজিস্টারসহ ৯টি পদের দায়িত্বে থাকা ট্রিপল-ই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ফেরদৌস রহমানের নাম ও পদবি কয়েকটি প্রশাসনিক ভবনে দেখা গেলেও সবগুলোই তালাবদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীই নিশ্চিত করে বলতে পারলেন না ভারপ্রাপ্ত উপচার্য কখন আসেন, কী করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রধান কর্মকর্তারা ঠিকমতো অফিসে আসেন না। এলেও কিছুক্ষণ থেকে চলে যান।ফলে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেইন অব কমান্ড তথা ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে।এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


বেরোবিতে ‘তুঘলকি কারবার, ভেঙে পড়েছে ব্যবস্থাপনা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) চলছে তুঘলকি কারবার।সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিসের সময় থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসেন ইচ্ছে মতো।  বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের বেশির ভাগ কক্ষ থাকে ফাঁকা। কর্মকর্তারা তাদের চেম্বারে না থাকলেও এসি ছেড়ে, লাইট জ্বালিয়ে, ফ্যান ছেড়ে ঘর ঠান্ডায় ব্যস্ত পিয়নরা। সকাল ৯টায় হাজিরা দেখানোর নামে ডিজিটাল হাজিরা বা থাম মেশিনে আঙ্গুল দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা দেখিয়ে অফিস থেকে চলে যান বেশির ভাগ কর্মকর্তা।

প্রক্টর থেকে শুরু করে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য পর্যন্ত একাই ৯টি পদে দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান অফিসে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন বহুমুখী অনিয়ম বিশৃঙ্খলায় ভেঙে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিকসহ সব কার্যক্রম।

সরেজমিনে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে দেখা গেল কর্মকর্তা কর্মচারীশূন্য। প্রশাসনিক ভবনের প্রথম তলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত অনেক বিভাগে ঝুলছে তালা। সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় লিফট চালককে দেখা গেল। এসেছেন সকাল ৯টার আগেই।  নিচতলায় বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কেউ কেউ উপস্থিত থাকলেও বেশির ভাগই অনুপস্থিত। ফলে তাদের চেয়ারগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। 

তালা ঝুলতে দেখা গেল জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালকের কক্ষে।এক কর্মচারী জানালেন, তিনি কালেভদ্রে আসেন।একই চিত্র দেখা গেছে প্রকৌশল, সংস্থাপন,  ট্রেজারি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ছাত্র পরামর্শক নির্দেশনা দপ্তর, প্রক্টর অফিস, রেজিস্টার অফিস, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে। উপ রেজিস্টার, সহকারী রেজিস্টার থেকে শুরু করে উপাচার্যের (ভিসি) পিএ, পরীক্ষা দপ্তর থেকে শুরু করে বড় বড় কর্তাদের কক্ষে কেউ নেই।তবে কর্তারা না থাকলেও কক্ষ ঠান্ডা রাখতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র (এসি) চালু রাখা হয়েছে। জ্বলছে বাতি, ঘুরছে ফ্যান। 

বিশেষত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) দপ্তরের প্রধান অধ্যাপক মো. শাহাজাহান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. জাহিদ হোসেন, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স অধ্যাপক তাজুল ইসলামের কক্ষে কেউ না থাকলেও এসিসহ লাইট ফ্যান চালু।জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারীরা জানালেন, কর্মকর্তারা কখন আসেন, কখন যান সবই তাদের নিজ নিজ মর্জির ওপর নির্ভরশীল। তবে তাদের কক্ষ ঠান্ডা রাখার জন্যই এসি চালু রাখা হয়েছে।সেইসঙ্গে লাইট-ফ্যানও চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে বিদ্যুতের চরম অপব্যবহার। উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. শওকত আলী বিদেশে অবস্থান করায় তার দপ্তরের বেশির ভাগ কর্মকর্তাই অনুপস্থিত থাকছেন।নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা ১০টা ৪৭ মিনিটে অফিসে ঢুকে এক নারী কর্মকর্তা বললেন, “একটুখানি দেরি হয়ে গেছে”।

বেশিরভাগ দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা গেলেও কোনো কোনো বিভাগে দুই-চারজন কর্তা বাইরে থেকে হন্তদন্ত হয়ে এসে বললেন, ‘একটু চা খেতে গিয়েছিলাম’।অনেকে আবার প্রতিবেদককে ফোন করে খবর প্রকাশ না করার আকুতি জানান।

পরিচালকের কক্ষ শূন্য। ছবি: প্রতিনিধি

তবে উপাচার্য বিদেশে অবস্থান করায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, রেজিস্টারসহ ৯টি পদের দায়িত্বে থাকা ট্রিপল-ই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ফেরদৌস রহমানের নাম ও পদবি কয়েকটি প্রশাসনিক ভবনে দেখা গেলেও সবগুলোই তালাবদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীই নিশ্চিত করে বলতে পারলেন না ভারপ্রাপ্ত উপচার্য কখন আসেন, কী করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রধান কর্মকর্তারা ঠিকমতো অফিসে আসেন না। এলেও কিছুক্ষণ থেকে চলে যান।ফলে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেইন অব কমান্ড তথা ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে।এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেন তারা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত