দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্যবিভাগ। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং করপোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও এই বিশেষ প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতেই ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব বিভাগ এবং ডেঙ্গু প্রবণ জেলাগুলোর চিকিৎসকদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি চিকিৎসক যেন জাতীয় প্রোটোকল অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, ট্রায়াজ (রোগীর গুরুত্ব বিবেচনায় চিকিৎসার অগ্রাধিকার নির্ধারণ) এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারেন।
জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স-টিওটি) অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন (বিএসএম) ইতিমধ্যেই রাজধানীতে দুই দফায় প্রায় ১৩৫ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন সরকারি হাসপাতালের ৬৮ জন এবং দ্বিতীয় দিন বেসরকারি হাসপাতালের ৬৭ জন চিকিৎসক অংশ নেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহবায়ক কমিটির সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস ভূঁইয়া জানান, খুব শিগগিরই দেশের ৮টি বিভাগে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে ৭০ জন করে চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন ৮ থেকে ১০টি জেলায় প্রথম ধাপে ৬০ থেকে ৭০ জন চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে অন্য জেলাগুলোতেও সম্প্রসারিত হবে।
গত ৭ জুন এই জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "ডেঙ্গু এখন দেশের জন্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের একার দায়িত্ব নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে অংশ নিতে হবে।"
বিগত তিন বছরের আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
২০২৩ সাল: আক্রান্ত ৩,২১,১৭৯ জন, মৃত্যু ১,৭০৫ জন।
২০২৪ সাল: আক্রান্ত ১,০১,২১৪ জন, মৃত্যু ৫৭৫ জন।
২০২৫ সাল: আক্রান্ত ১,০২,৮৬১ জন, মৃত্যু ৪১৩ জন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), আইইডিসিআর, এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ তৈরি রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে এ ধরনের আরও হাসপাতাল করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইনও হালনাগাদ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী (২২ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত), চলতি বছর দেশের বিভিন্ন বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতির চিত্র নিম্নরূপ:
ঢাকা বিভাগ (দুই সিটিসহ) ১,৭৪৩ জন, বরিশাল বিভাগ ১,৩৪৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগ ৯৮৬ জন, খুলনা বিভাগ ৫৫৮ জন, রাজশাহী বিভাগ ১৭৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগ ১৪০ জন, রংপুর বিভাগ ৩০ জন ও সিলেট বিভাগ ৩০ জন।
চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জনেরই মৃত্যু হয়েছে চলতি জুন মাসে। এছাড়া এ বছরের মাসভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যা জানুয়ারিতে ১,০৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন এবং জুনের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১,৮৪২ জন।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্যবিভাগ। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং করপোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও এই বিশেষ প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতেই ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব বিভাগ এবং ডেঙ্গু প্রবণ জেলাগুলোর চিকিৎসকদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি চিকিৎসক যেন জাতীয় প্রোটোকল অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, ট্রায়াজ (রোগীর গুরুত্ব বিবেচনায় চিকিৎসার অগ্রাধিকার নির্ধারণ) এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারেন।
জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স-টিওটি) অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন (বিএসএম) ইতিমধ্যেই রাজধানীতে দুই দফায় প্রায় ১৩৫ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন সরকারি হাসপাতালের ৬৮ জন এবং দ্বিতীয় দিন বেসরকারি হাসপাতালের ৬৭ জন চিকিৎসক অংশ নেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহবায়ক কমিটির সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস ভূঁইয়া জানান, খুব শিগগিরই দেশের ৮টি বিভাগে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে ৭০ জন করে চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন ৮ থেকে ১০টি জেলায় প্রথম ধাপে ৬০ থেকে ৭০ জন চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে অন্য জেলাগুলোতেও সম্প্রসারিত হবে।
গত ৭ জুন এই জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "ডেঙ্গু এখন দেশের জন্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের একার দায়িত্ব নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে অংশ নিতে হবে।"
বিগত তিন বছরের আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
২০২৩ সাল: আক্রান্ত ৩,২১,১৭৯ জন, মৃত্যু ১,৭০৫ জন।
২০২৪ সাল: আক্রান্ত ১,০১,২১৪ জন, মৃত্যু ৫৭৫ জন।
২০২৫ সাল: আক্রান্ত ১,০২,৮৬১ জন, মৃত্যু ৪১৩ জন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), আইইডিসিআর, এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ তৈরি রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে এ ধরনের আরও হাসপাতাল করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইনও হালনাগাদ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী (২২ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত), চলতি বছর দেশের বিভিন্ন বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতির চিত্র নিম্নরূপ:
ঢাকা বিভাগ (দুই সিটিসহ) ১,৭৪৩ জন, বরিশাল বিভাগ ১,৩৪৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগ ৯৮৬ জন, খুলনা বিভাগ ৫৫৮ জন, রাজশাহী বিভাগ ১৭৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগ ১৪০ জন, রংপুর বিভাগ ৩০ জন ও সিলেট বিভাগ ৩০ জন।
চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জনেরই মৃত্যু হয়েছে চলতি জুন মাসে। এছাড়া এ বছরের মাসভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যা জানুয়ারিতে ১,০৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন এবং জুনের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১,৮৪২ জন।

আপনার মতামত লিখুন