সংবাদ

আমাদের অজান্তেই কীভাবে অকার্যকর হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক?


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

আমাদের অজান্তেই কীভাবে অকার্যকর হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক?
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত কর্মশালায় অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংবাদ

মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ-বর্তমানে এই তিন ক্ষেত্রেই এক নীরব কিন্তু ভয়াবহ হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ (এএমআর)। বিশেষ করে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ও অযৌক্তিক ব্যবহারের ফলে আমাদের অজান্তেই জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ছে। যা ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপদ ডেকে আনতে পারে।

বুধবার (২৪ জুন) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড মর্ডান ফার্মিং’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়া উচিত নয়। আমাদের নিরাপদ, টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে রোগজীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা (রেজিস্ট্যান্স) বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ অসুখেও সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক এখন আর কাজ করছে না।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, খামারিরা দ্রুত ফলন বা পশু-পাখির চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। এই ওষুধের অবশিষ্টাংশ মাছ, মাংস বা দুধের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। এর ফলে মানুষের শরীরে থাকা রোগজীবাণুগুলো ওই নির্দিষ্ট ওষুধের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলছে। ফলে একসময় মানুষ যখন গুরুতর অসুস্থ হয়, তখন ওই সব ওষুধ আর শরীরে কোনো কাজ করে না।

উপাচার্য অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গবেষণা, সঠিক নীতি বাস্তবায়ন এবং বিশেষ করে কৃষক ও খামারি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, অ্যানিম্যাল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কোর্স ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আবুজাফর ফেরদৌস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুজ্জামান এবং সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. মাহবুব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মৌসুমী পুরকায়স্থ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


আমাদের অজান্তেই কীভাবে অকার্যকর হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক?

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ-বর্তমানে এই তিন ক্ষেত্রেই এক নীরব কিন্তু ভয়াবহ হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ (এএমআর)। বিশেষ করে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ও অযৌক্তিক ব্যবহারের ফলে আমাদের অজান্তেই জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ছে। যা ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপদ ডেকে আনতে পারে।

বুধবার (২৪ জুন) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড মর্ডান ফার্মিং’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়া উচিত নয়। আমাদের নিরাপদ, টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে রোগজীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা (রেজিস্ট্যান্স) বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ অসুখেও সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক এখন আর কাজ করছে না।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, খামারিরা দ্রুত ফলন বা পশু-পাখির চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। এই ওষুধের অবশিষ্টাংশ মাছ, মাংস বা দুধের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। এর ফলে মানুষের শরীরে থাকা রোগজীবাণুগুলো ওই নির্দিষ্ট ওষুধের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলছে। ফলে একসময় মানুষ যখন গুরুতর অসুস্থ হয়, তখন ওই সব ওষুধ আর শরীরে কোনো কাজ করে না।

উপাচার্য অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গবেষণা, সঠিক নীতি বাস্তবায়ন এবং বিশেষ করে কৃষক ও খামারি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, অ্যানিম্যাল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কোর্স ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আবুজাফর ফেরদৌস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুজ্জামান এবং সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. মাহবুব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মৌসুমী পুরকায়স্থ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত