সংবাদ

তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতের হইচইয়ের প্রয়োজন নেই: চীন মি‌ডিয়া


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতের হইচইয়ের প্রয়োজন নেই: চীন মি‌ডিয়া

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত উদ্বেগ প্রকাশ ও হইচই করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক গ্লোবাল টাইমস।

বুধবার (২৪ জুন) থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই তিনদিনের সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে পত্রিকাটির এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, নতুন বাংলাদেশি সরকারের এই তাৎপর্যপূর্ণ সফরসূচি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঢাকার উচ্চ অগ্রাধিকারকেই প্রতিফলিত করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর এবং এই সফরের মধ্য দিয়ে বেইজিং ও ঢাকার গভীর রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে যাচ্ছে।
​সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও চীনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই মুহূর্তে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করাই ঢাকার প্রধান লক্ষ্য। এমন পরিস্থিতিতে টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ায় চীনে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই সফরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কৌশলগত সংলাপের ওপরই মূল জোর দেওয়া হচ্ছে।
​গ্লোবাল টাইমস মনে করে, বাংলাদেশের এই সফর মূলত এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক গভীর হওয়ারই একটি অংশ। সম্প্রতি মিয়ানমার, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, তাজিকিস্তান ও ব্রুনাইয়ের শীর্ষ নেতাদের চীন সফর এবং দালিয়ানের আসন্ন সামার ডাভোস ফোরামে আঞ্চলিক নেতাদের সমাগম প্রমাণ করে যে, প্রতিবেশীরা চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগাতে অত্যন্ত আগ্রহী।
​তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয় এবং এটি অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়া উচিত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে বেইজিং। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারতকে বেছে না নিয়ে চীনকে নির্বাচন করায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কোনো কোনো ভারতীয় বিশ্লেষক একে ভারতের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন এবং তিস্তা প্রকল্পে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা নিয়ে সংবেদনশীলতা দেখাচ্ছেন।
​ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই অবস্থানকে ‘দাদাগিরি মানসিকতা’ (Big Brother Mentality) হিসেবে আখ্যা দিয়ে গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ভারতের কিছু অংশ মনে করে প্রতিবেশী দেশের নেতাদের প্রথম সফরটি আঞ্চলিক অভিভাবকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের নিদর্শন হওয়া উচিত। তারা অন্য দেশের স্বাধীন কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিজেদের প্রতি অবমাননা হিসেবে ধরে নেয়।
​চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়, পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও বাস্তব সহযোগিতা গড়ে তুলতে আগ্রহী। বেইজিংয়ের মতে, চীন ও ভারতের উচিত পারস্পরিক বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে কাজ করা, যাকে প্রায়ই ‘ড্রাগন-এলিফ্যান্ট ট্যাঙ্গো’ বা ড্রাগন ও হাতির যৌথ নৃত্য বলা হয়।
তিস্তা প্রকল্প নিয়েও ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে গ্লোবাল টাইমস বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ এতটাই বিশাল যে সেখানে সব দেশের বাস্তবমুখী উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার সমান সুযোগ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতের হইচইয়ের প্রয়োজন নেই: চীন মি‌ডিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত উদ্বেগ প্রকাশ ও হইচই করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক গ্লোবাল টাইমস।

বুধবার (২৪ জুন) থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই তিনদিনের সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে পত্রিকাটির এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, নতুন বাংলাদেশি সরকারের এই তাৎপর্যপূর্ণ সফরসূচি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঢাকার উচ্চ অগ্রাধিকারকেই প্রতিফলিত করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর এবং এই সফরের মধ্য দিয়ে বেইজিং ও ঢাকার গভীর রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে যাচ্ছে।
​সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও চীনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই মুহূর্তে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করাই ঢাকার প্রধান লক্ষ্য। এমন পরিস্থিতিতে টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ায় চীনে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই সফরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কৌশলগত সংলাপের ওপরই মূল জোর দেওয়া হচ্ছে।
​গ্লোবাল টাইমস মনে করে, বাংলাদেশের এই সফর মূলত এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক গভীর হওয়ারই একটি অংশ। সম্প্রতি মিয়ানমার, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, তাজিকিস্তান ও ব্রুনাইয়ের শীর্ষ নেতাদের চীন সফর এবং দালিয়ানের আসন্ন সামার ডাভোস ফোরামে আঞ্চলিক নেতাদের সমাগম প্রমাণ করে যে, প্রতিবেশীরা চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগাতে অত্যন্ত আগ্রহী।
​তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয় এবং এটি অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়া উচিত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে বেইজিং। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারতকে বেছে না নিয়ে চীনকে নির্বাচন করায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কোনো কোনো ভারতীয় বিশ্লেষক একে ভারতের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন এবং তিস্তা প্রকল্পে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা নিয়ে সংবেদনশীলতা দেখাচ্ছেন।
​ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই অবস্থানকে ‘দাদাগিরি মানসিকতা’ (Big Brother Mentality) হিসেবে আখ্যা দিয়ে গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ভারতের কিছু অংশ মনে করে প্রতিবেশী দেশের নেতাদের প্রথম সফরটি আঞ্চলিক অভিভাবকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের নিদর্শন হওয়া উচিত। তারা অন্য দেশের স্বাধীন কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিজেদের প্রতি অবমাননা হিসেবে ধরে নেয়।
​চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়, পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও বাস্তব সহযোগিতা গড়ে তুলতে আগ্রহী। বেইজিংয়ের মতে, চীন ও ভারতের উচিত পারস্পরিক বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে কাজ করা, যাকে প্রায়ই ‘ড্রাগন-এলিফ্যান্ট ট্যাঙ্গো’ বা ড্রাগন ও হাতির যৌথ নৃত্য বলা হয়।
তিস্তা প্রকল্প নিয়েও ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে গ্লোবাল টাইমস বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ এতটাই বিশাল যে সেখানে সব দেশের বাস্তবমুখী উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার সমান সুযোগ রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত