গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ও মরণকামড় থামছে না। গত এক মাসের ব্যবধানে উপজেলায় অন্তত ২০ জন ব্যক্তি কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এতে বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৪ জন কুকুরের কামড়ে আহত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রামজীবন ও সর্বানন্দ ইউনিয়নে শিশুসহ অন্তত ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে গত ২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে কুকুরের কামড়ে ৫ জনের মৃত্যু ও ২১ জন আহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কুকুরের আক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার, রাস্তার মোড় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফটকে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দলবদ্ধ কুকুরের ভয়ে শিশুরা একা স্কুলে যেতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অভিভাবকেরা সন্তানদের পাহারায় স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন।
গত রোববার রামজীবন ইউনিয়নের সুবর্ণদহ গ্রামের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে এলাকায় মাইকিং করে কুকুর মারার ঘোষণা দিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছেন।
রামজীবন ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছামসুল হুদা সরকার বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে আমার ইউনিয়নে তিন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। মানুষ এখন ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।’
সর্বানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা এত বেড়েছে যে কল্পনা করা যায় না। কুকুর নিধন নিষিদ্ধ হওয়ায় বর্তমানে কুকুরের শরীরে টিকা প্রদানই একমাত্র পথ, কিন্তু তা-ও বন্ধ রয়েছে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের দেওয়া ২৫ হাজার টাকায় ১ হাজার ২৪৫টি কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বরাদ্দ না থাকায় এ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সরকারিভাবে নতুন কোনো বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন, ইদানীং কুকুরের কামড়ে আহত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত প্রতিষেধক টিকা (ভ্যাকসিন) মজুত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন