সংবাদ

বিচারে নতুন মডেল : ৭৮ অভিযোগের মধ্যে ১৮টির তাৎক্ষণিক সমাধান


জেলা বার্তা পরিবেশক, কুড়িগ্রাম
জেলা বার্তা পরিবেশক, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

বিচারে নতুন মডেল : ৭৮ অভিযোগের মধ্যে ১৮টির তাৎক্ষণিক সমাধান
ছবি : সংবাদ

নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে কুড়িগ্রামে সরকারি আইনগত সহায়তার এক নতুন মডেল আশা জাগাচ্ছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের লিগ্যাল এইড কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়েই বহু বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত পাওয়া ৭৮টি অভিযোগের মধ্যে ১৮টি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংলাপে এই চিত্র উঠে আসে। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সহায়তায় বেসরকারি সংগঠন এসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট (এএফএডি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রামের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোসাম্মৎ ইসমত আরা। তিনি বলেন, “সরকারি আইনি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন ও জেলা পর্যায়ের সমন্বয় জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ মিটে গেলে আদালতের ওপর মামলার চাপ যেমন কমবে, তেমনি মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘এমপাওয়ারিং ভালনারেবল ওমেন ইন কুড়িগ্রাম’ (ইভিডব্লিউ) প্রকল্পের আওতায় জেলার পাঁচগাছী ও হলোখানা ইউনিয়নের কমিটিগুলো অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ পর্যন্ত তারা ৭৮টি নারী নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১৮টি অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ১৬টি মামলা অধিকতর আইনি সহায়তার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন।

এএফএডি’র নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন বলেন, ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি সক্রিয় হওয়ায় মানুষ এখন আইনি প্রতিকার পাওয়ার সাহস পাচ্ছে। প্রান্তিক নারীরা গ্রামেই তাঁদের সমস্যার কথা বলতে পারছেন, যা বিচারে এক নতুন মডেল হিসেবে কাজ করছে।

প্রকল্প সমন্বয়কারী কার্তিক চন্দ্র সেনের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৈহিদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ভগবতী রানী এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ জি মাহমুদ। সংলাপে বিচারক, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ক্রিশ্চিয়ান এইড এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় এএফএডি কুড়িগ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের আইনি অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


বিচারে নতুন মডেল : ৭৮ অভিযোগের মধ্যে ১৮টির তাৎক্ষণিক সমাধান

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে কুড়িগ্রামে সরকারি আইনগত সহায়তার এক নতুন মডেল আশা জাগাচ্ছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের লিগ্যাল এইড কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়েই বহু বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত পাওয়া ৭৮টি অভিযোগের মধ্যে ১৮টি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংলাপে এই চিত্র উঠে আসে। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সহায়তায় বেসরকারি সংগঠন এসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট (এএফএডি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রামের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোসাম্মৎ ইসমত আরা। তিনি বলেন, “সরকারি আইনি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন ও জেলা পর্যায়ের সমন্বয় জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ মিটে গেলে আদালতের ওপর মামলার চাপ যেমন কমবে, তেমনি মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘এমপাওয়ারিং ভালনারেবল ওমেন ইন কুড়িগ্রাম’ (ইভিডব্লিউ) প্রকল্পের আওতায় জেলার পাঁচগাছী ও হলোখানা ইউনিয়নের কমিটিগুলো অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ পর্যন্ত তারা ৭৮টি নারী নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১৮টি অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ১৬টি মামলা অধিকতর আইনি সহায়তার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন।

এএফএডি’র নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন বলেন, ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি সক্রিয় হওয়ায় মানুষ এখন আইনি প্রতিকার পাওয়ার সাহস পাচ্ছে। প্রান্তিক নারীরা গ্রামেই তাঁদের সমস্যার কথা বলতে পারছেন, যা বিচারে এক নতুন মডেল হিসেবে কাজ করছে।

প্রকল্প সমন্বয়কারী কার্তিক চন্দ্র সেনের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৈহিদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ভগবতী রানী এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ জি মাহমুদ। সংলাপে বিচারক, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ক্রিশ্চিয়ান এইড এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় এএফএডি কুড়িগ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের আইনি অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত