সংবাদ

সততার বিড়ম্বনা সর্বকালে


হোসেন আবদুল মান্নান
হোসেন আবদুল মান্নান
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম

সততার বিড়ম্বনা সর্বকালে

সরকারি চাকরিতে সৎ, সাহসী ও বিবেকবান হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। সঙ্গে দেশপ্রেম থাকলে সেটা আরও বিপজ্জনক। অবস্থাদৃষ্ঠে মনে হয়, সততা, নিরপেক্ষতা বা দেশপ্রেমিক হওয়ার দায় সরকারি কর্মচারীর মধ্যে না থাকাই ভালো। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা হবে শতভাগ আজ্ঞাবহ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সদা তৎপর, কর্মচঞ্চল। দেশের ভূত-ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনায় নিমগ্ন হওয়া তার জন্যে নয়। দেশ ও জনগণের ভালো মন্দের দায় পুরোটা জনপ্রতিনিধির হাতে থাকবে। কারণ জনগণ জেনেশুনেই তাদেরকে সেই ম্যান্ডেট দিয়েছে। সেখানে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় জীবিকা করা বেতনভুক্ত কর্মচারী কেন নাক গলাবে? তার কাজ হবে ওপরের আদেশ মোতাবেক সঠিক দায়িত্ব পালন করা। কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, কল্যাণ-অকল্যাণ এটা সরকার বুঝবে। সম্প্রতি সিলেটের ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) ক্ষেত্রে যা হল, তাতে জনগণের জন্যে মেসেজটা এমনই মনে হয়। 

ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) কাজের অন্ত নেই। বস্তুত তার অধিক্ষেত্রের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির একটা সাধারণ এখতিয়ার তার কর্মপরিধির মধ্যে পড়ে। জেলা প্রশাসনের সুদূর অতীতের ইতিহাসে এমন একটা ঐতিহ্যগত অনুশাসন রয়েছে। জনসাধারণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিহিত আছে এমন ইস্যুতে জেলা প্রশাসক স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকই তৎক্ষনাৎ জনগণের পাশে দাঁড়ান। তখনই এটা তার দাপ্তরিক কাজের অন্তর্ভুক্ত বিষয় হয়ে যায়। 

বলা বাহুল্য, রুটিন কাজের বাইরে না গিয়ে একদম গতানুগতিক ধারায় গা ভাসিয়ে দিয়েও চাকরি করা যায়। অধিকাংশ ডিসি এটাই অনুসরণ করেন এবং সময় কাটিয়ে নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ফিরে আসেন। এদের কোনো নাম গন্ধও থাকে না, বিপদগ্রস্ত হন না, বিতর্ক হয় না, এরা সব সময়ই সুসময়ে বাস করেন। সমস্যা কেবল তাদের, যারা বক্সের বাইরে গিয়ে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে জনস্বার্থকে রক্ষা করার নিমিত্ত খানিকটা ঝুঁকি গ্রহণ করেন। 

২.

জেলা প্রশাসনের আড়াই শো বছরের অধিক কালের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে এমন অসংখ্য নজির স্থাপিত হয়ে আছে। নিম্ন-গাঙেয় বদ্বীপের এ দেশে স্মরণাতীত কাল থেকে বন্যা, খরা, প্লাবন, জলোচ্ছ্বাস আর মহামারী লেগেই ছিল। আজও এর রেশ চলমান আছে। আর এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক দায়িত্ব ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ফলে মাঠ প্রশাসনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার নানা কিংবদন্তিও প্রচলিত আছে। অতীতের সিভিল সার্ভেন্টদের আত্মজীবনীমূলক লেখায় এমন ঘটনার অবতারণা রয়েছে। দেশের জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিকার হিসেবে জনগণের পাশে সবার আগে ডেপুটি কমিশনারই (ডিসি) দাঁড়ান। তিনিই দায়িত্ব নিয়ে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের সঙ্গে পত্র যোগাযোগও করে থাকে জেলা প্রশাসন। ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ সব দায়িত্ব নেন। যেমন— খাদ্য গুদামের গেইট খোলার কাজ, বাঁধ নির্মাণের কাজ, রিলিফ পৌঁছানোর কাজ, প্রাথমিক চিকিৎসার কাজ, সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে মত বিনিময়ের কাজ ইত্যাদি। বৃটিশ ভারতে এবং পরবর্তীকালের পূর্ব পাকিস্তানে এমন সিদ্ধান্ত নিতে কারও অনুমতির প্রয়োজন হত না। জনশ্রুতি আছে, গুদামের মজুতকৃত খাদ্য বিতরণ করে পূর্ববঙ্গের কোনো এক মহকুমায় সাময়িক দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করেছিলেন বিখ্যাত আইসিএস অফিসার এবং কুমিল্লা মডেল তথা বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা জনাব আখতার হামিদ খান। এবং এর সূত্র ধরেই পরবর্তীতে তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়েছিল। অবশ্য তিনি চাকরিকে ত্যাগ না করলে এতো বিপুল খ্যাতিমান হতেন না। 

এ সবই নিয়তি। 

৩.

মনে হয়, এ কারণেই ট্রেনিং প্রতিষ্ঠানসমূহে পড়ানো হত, সরকারি দায়িত্ব পালনে অতি উৎসাহী হওয়ার প্রয়োজন নেই। দায়িত্ব আমন্ত্রণ করা মানে একই সঙ্গে কিছু ব্যক্তিগত শত্রু ও ঝুঁকিকে আমন্ত্রণ করা। এরচেয়ে সব সময়ই নির্বিকার, অনুৎসাহী, লিপ-সার্ভিস সর্বস্ব, মধ্যম মানের গোবেচারা ধরনের ডিসি’র কোনো প্রতিপক্ষ থাকে না। তারা অজাতশত্রু ও জনপ্রিয় আমলা নামে পরিচিতি লাভ করেন। এবং বিনা বাধায়, বিনা প্রশ্নে চাকরির উচ্চতর শিখরে আসীন হয়ে যান। তারা ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং সরকার কাছেও সর্বদা প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকেন। 

সময় বদলে গেছে, যুগের পরিবর্তন হয়েছে। সিভিল সার্ভিসে এখন আর হিরোইজম প্রদর্শনের অবকাশ নেই। এক সময়ে এসব ছিল, এর পক্ষে জনমতও ছিল। মানুষের মধ্যে নীতি নৈতিকতা, আদর্শিক প্রেরণা ছিল। অন্যায়কে সমর্থন জোগানোর মানুষের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। যা এখন সম্পূর্ণ বিপরীত। ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে কেউ বিপদগ্রস্ত হতে চায় না। সামাজিক ও পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চায় না। তাই কেউ কারও রক্ষক হয়ে এগিয়ে আসছে না। কাজেই সময়ের সঙ্গে গা ভাসিয়ে, গা বাঁচানো চাকরির কোনো বিকল্প নেই। তাছাড়া সততা, নিরপেক্ষতা, দেশপ্রেমবোধ এসব পড়াশোনা করাই ভালো, প্রয়োগে, চর্চায়, অনুশীলনে খুব বেশি দরকার নেই। 

৪.

বিগত কয়েক বছরে দেশের কয়েকজন আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট/ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কথা বলা যায়। বিশেষ করে জনাব রোকন-উদ দৌলা, মুনীর চৌধুরী এবং সারোয়ার আলমের দিকে তাকানো যায়। প্রথমোক্ত দু’জন অতিরিক্ত সচিব থেকে অবসরে চলে যান। এদের প্রত্যাশিত সচিব পদে পদোন্নতি পাননি। কেন পাননি সে বিষয়ে আলোকপাত করছি না তবে জনগণের প্রত্যাশা ছিল তারা তাদের সততার পুরস্কার পাবেন। শেষোক্ত সারোয়ার আলমের নাম কেবল দেশের মিডিয়ায় নয়, সর্বত্র সর্বজনের কাছে পরিচিত ছিল। কিন্তু যথাসময়ে তারও পদোন্নতি হয়নি। পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে মানসিক ভাবে প্রায় ভেঙে পড়েছিলেন। এতে গণপ্রত্যাশাও হোঁচট খেয়ে পড়েছিল। একজন সৎ মানুষের চাকরি এবং ক্যারিয়ার বিবেচনায় এটা মারাত্মক এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে থাকছে। 

এ-সব নিয়ে সুশীল সমাজের ভাবনার বিস্তর অবকাশ রয়েছে। সময় এসেছে ব্যক্তির সততাকে উর্ধ্বে তুলে ধরার। 

ছোট্ট একটা কথা দিয়ে শেষ করা যায়, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারির বিকেলে ভারতের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা মহাত্মা গান্ধীকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। পরদিন ইংল্যান্ড থেকে প্রেরিত এক শোকবার্তায় জর্জ বার্নার্ড শ’ লিখেছিলেন, ‘যদি এমনই হবে এত ভালো হওয়ার দরকার কি ছিল’?

[লেখকের নিজস্ব মত]

[লেখক: গল্পকার, সাবেক সচিব]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


সততার বিড়ম্বনা সর্বকালে

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

সরকারি চাকরিতে সৎ, সাহসী ও বিবেকবান হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। সঙ্গে দেশপ্রেম থাকলে সেটা আরও বিপজ্জনক। অবস্থাদৃষ্ঠে মনে হয়, সততা, নিরপেক্ষতা বা দেশপ্রেমিক হওয়ার দায় সরকারি কর্মচারীর মধ্যে না থাকাই ভালো। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা হবে শতভাগ আজ্ঞাবহ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সদা তৎপর, কর্মচঞ্চল। দেশের ভূত-ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনায় নিমগ্ন হওয়া তার জন্যে নয়। দেশ ও জনগণের ভালো মন্দের দায় পুরোটা জনপ্রতিনিধির হাতে থাকবে। কারণ জনগণ জেনেশুনেই তাদেরকে সেই ম্যান্ডেট দিয়েছে। সেখানে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় জীবিকা করা বেতনভুক্ত কর্মচারী কেন নাক গলাবে? তার কাজ হবে ওপরের আদেশ মোতাবেক সঠিক দায়িত্ব পালন করা। কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, কল্যাণ-অকল্যাণ এটা সরকার বুঝবে। সম্প্রতি সিলেটের ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) ক্ষেত্রে যা হল, তাতে জনগণের জন্যে মেসেজটা এমনই মনে হয়। 

ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) কাজের অন্ত নেই। বস্তুত তার অধিক্ষেত্রের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির একটা সাধারণ এখতিয়ার তার কর্মপরিধির মধ্যে পড়ে। জেলা প্রশাসনের সুদূর অতীতের ইতিহাসে এমন একটা ঐতিহ্যগত অনুশাসন রয়েছে। জনসাধারণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিহিত আছে এমন ইস্যুতে জেলা প্রশাসক স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকই তৎক্ষনাৎ জনগণের পাশে দাঁড়ান। তখনই এটা তার দাপ্তরিক কাজের অন্তর্ভুক্ত বিষয় হয়ে যায়। 

বলা বাহুল্য, রুটিন কাজের বাইরে না গিয়ে একদম গতানুগতিক ধারায় গা ভাসিয়ে দিয়েও চাকরি করা যায়। অধিকাংশ ডিসি এটাই অনুসরণ করেন এবং সময় কাটিয়ে নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ফিরে আসেন। এদের কোনো নাম গন্ধও থাকে না, বিপদগ্রস্ত হন না, বিতর্ক হয় না, এরা সব সময়ই সুসময়ে বাস করেন। সমস্যা কেবল তাদের, যারা বক্সের বাইরে গিয়ে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে জনস্বার্থকে রক্ষা করার নিমিত্ত খানিকটা ঝুঁকি গ্রহণ করেন। 

২.

জেলা প্রশাসনের আড়াই শো বছরের অধিক কালের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে এমন অসংখ্য নজির স্থাপিত হয়ে আছে। নিম্ন-গাঙেয় বদ্বীপের এ দেশে স্মরণাতীত কাল থেকে বন্যা, খরা, প্লাবন, জলোচ্ছ্বাস আর মহামারী লেগেই ছিল। আজও এর রেশ চলমান আছে। আর এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক দায়িত্ব ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ফলে মাঠ প্রশাসনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার নানা কিংবদন্তিও প্রচলিত আছে। অতীতের সিভিল সার্ভেন্টদের আত্মজীবনীমূলক লেখায় এমন ঘটনার অবতারণা রয়েছে। দেশের জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিকার হিসেবে জনগণের পাশে সবার আগে ডেপুটি কমিশনারই (ডিসি) দাঁড়ান। তিনিই দায়িত্ব নিয়ে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের সঙ্গে পত্র যোগাযোগও করে থাকে জেলা প্রশাসন। ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ সব দায়িত্ব নেন। যেমন— খাদ্য গুদামের গেইট খোলার কাজ, বাঁধ নির্মাণের কাজ, রিলিফ পৌঁছানোর কাজ, প্রাথমিক চিকিৎসার কাজ, সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে মত বিনিময়ের কাজ ইত্যাদি। বৃটিশ ভারতে এবং পরবর্তীকালের পূর্ব পাকিস্তানে এমন সিদ্ধান্ত নিতে কারও অনুমতির প্রয়োজন হত না। জনশ্রুতি আছে, গুদামের মজুতকৃত খাদ্য বিতরণ করে পূর্ববঙ্গের কোনো এক মহকুমায় সাময়িক দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করেছিলেন বিখ্যাত আইসিএস অফিসার এবং কুমিল্লা মডেল তথা বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা জনাব আখতার হামিদ খান। এবং এর সূত্র ধরেই পরবর্তীতে তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়েছিল। অবশ্য তিনি চাকরিকে ত্যাগ না করলে এতো বিপুল খ্যাতিমান হতেন না। 

এ সবই নিয়তি। 

৩.

মনে হয়, এ কারণেই ট্রেনিং প্রতিষ্ঠানসমূহে পড়ানো হত, সরকারি দায়িত্ব পালনে অতি উৎসাহী হওয়ার প্রয়োজন নেই। দায়িত্ব আমন্ত্রণ করা মানে একই সঙ্গে কিছু ব্যক্তিগত শত্রু ও ঝুঁকিকে আমন্ত্রণ করা। এরচেয়ে সব সময়ই নির্বিকার, অনুৎসাহী, লিপ-সার্ভিস সর্বস্ব, মধ্যম মানের গোবেচারা ধরনের ডিসি’র কোনো প্রতিপক্ষ থাকে না। তারা অজাতশত্রু ও জনপ্রিয় আমলা নামে পরিচিতি লাভ করেন। এবং বিনা বাধায়, বিনা প্রশ্নে চাকরির উচ্চতর শিখরে আসীন হয়ে যান। তারা ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং সরকার কাছেও সর্বদা প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকেন। 

সময় বদলে গেছে, যুগের পরিবর্তন হয়েছে। সিভিল সার্ভিসে এখন আর হিরোইজম প্রদর্শনের অবকাশ নেই। এক সময়ে এসব ছিল, এর পক্ষে জনমতও ছিল। মানুষের মধ্যে নীতি নৈতিকতা, আদর্শিক প্রেরণা ছিল। অন্যায়কে সমর্থন জোগানোর মানুষের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। যা এখন সম্পূর্ণ বিপরীত। ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে কেউ বিপদগ্রস্ত হতে চায় না। সামাজিক ও পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চায় না। তাই কেউ কারও রক্ষক হয়ে এগিয়ে আসছে না। কাজেই সময়ের সঙ্গে গা ভাসিয়ে, গা বাঁচানো চাকরির কোনো বিকল্প নেই। তাছাড়া সততা, নিরপেক্ষতা, দেশপ্রেমবোধ এসব পড়াশোনা করাই ভালো, প্রয়োগে, চর্চায়, অনুশীলনে খুব বেশি দরকার নেই। 

৪.

বিগত কয়েক বছরে দেশের কয়েকজন আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট/ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কথা বলা যায়। বিশেষ করে জনাব রোকন-উদ দৌলা, মুনীর চৌধুরী এবং সারোয়ার আলমের দিকে তাকানো যায়। প্রথমোক্ত দু’জন অতিরিক্ত সচিব থেকে অবসরে চলে যান। এদের প্রত্যাশিত সচিব পদে পদোন্নতি পাননি। কেন পাননি সে বিষয়ে আলোকপাত করছি না তবে জনগণের প্রত্যাশা ছিল তারা তাদের সততার পুরস্কার পাবেন। শেষোক্ত সারোয়ার আলমের নাম কেবল দেশের মিডিয়ায় নয়, সর্বত্র সর্বজনের কাছে পরিচিত ছিল। কিন্তু যথাসময়ে তারও পদোন্নতি হয়নি। পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে মানসিক ভাবে প্রায় ভেঙে পড়েছিলেন। এতে গণপ্রত্যাশাও হোঁচট খেয়ে পড়েছিল। একজন সৎ মানুষের চাকরি এবং ক্যারিয়ার বিবেচনায় এটা মারাত্মক এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে থাকছে। 

এ-সব নিয়ে সুশীল সমাজের ভাবনার বিস্তর অবকাশ রয়েছে। সময় এসেছে ব্যক্তির সততাকে উর্ধ্বে তুলে ধরার। 

ছোট্ট একটা কথা দিয়ে শেষ করা যায়, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারির বিকেলে ভারতের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা মহাত্মা গান্ধীকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। পরদিন ইংল্যান্ড থেকে প্রেরিত এক শোকবার্তায় জর্জ বার্নার্ড শ’ লিখেছিলেন, ‘যদি এমনই হবে এত ভালো হওয়ার দরকার কি ছিল’?

[লেখকের নিজস্ব মত]

[লেখক: গল্পকার, সাবেক সচিব]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত