ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় প্রাণহানি, ভবন ধস এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এমন একটি দুর্যোগ আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে, ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় যার প্রভাব কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশও ভূমিকম্পের ঝুঁকির বাইরে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর কাছাকাছি এলাকায় কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও এসব কম্পনের অধিকাংশই মাঝারি বা অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার। তবুও এগুলো আমাদের প্রস্তুতির বিষয়টি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার সাম্প্রতিক ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বিপর্যয়ের পূর্বাভাস নয়। তবে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো এমন সব ফল্ট অঞ্চল, যেগুলো অতীতে সাত বা তার বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে। ইতিহাস বলছে, দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বড় ভূমিকম্পের নজির রয়েছে, ভবিষ্যতেও তা ঘটতে পারে।
ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর সময় নির্দিষ্ট করে আগাম বলা সম্ভব নয়। তাই প্রতিরোধ নয়, প্রস্তুতিই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা নিশ্চিত করা, বিদ্যমান ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করা জরুরি।
ঢাকা দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত কেন্দ্র। ফলে এখানে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হতে পারে। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা হালনাগাদ করা, জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো, স্কুল-কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত মহড়া আয়োজন করা এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো সময়ের দাবি।
ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। দুর্যোগ কখন আঘাত হানবে তা জানা না গেলেও তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কঠোর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ। তাহলেই সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় প্রাণহানি, ভবন ধস এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এমন একটি দুর্যোগ আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে, ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় যার প্রভাব কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশও ভূমিকম্পের ঝুঁকির বাইরে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর কাছাকাছি এলাকায় কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও এসব কম্পনের অধিকাংশই মাঝারি বা অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার। তবুও এগুলো আমাদের প্রস্তুতির বিষয়টি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার সাম্প্রতিক ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বিপর্যয়ের পূর্বাভাস নয়। তবে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো এমন সব ফল্ট অঞ্চল, যেগুলো অতীতে সাত বা তার বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে। ইতিহাস বলছে, দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বড় ভূমিকম্পের নজির রয়েছে, ভবিষ্যতেও তা ঘটতে পারে।
ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর সময় নির্দিষ্ট করে আগাম বলা সম্ভব নয়। তাই প্রতিরোধ নয়, প্রস্তুতিই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা নিশ্চিত করা, বিদ্যমান ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করা জরুরি।
ঢাকা দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত কেন্দ্র। ফলে এখানে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হতে পারে। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা হালনাগাদ করা, জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো, স্কুল-কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত মহড়া আয়োজন করা এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো সময়ের দাবি।
ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। দুর্যোগ কখন আঘাত হানবে তা জানা না গেলেও তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কঠোর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ। তাহলেই সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন