“হি হি হি, আনন্দের আর সীমা নাই, দারুণ কোইছেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যাদাইলাম, ভাশুরের ভয়ে পলাইলাম”।
“ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যেদাইলাম, হেইডা তো, সিম্পেল, বুইজাইলচ্চি, কিন্তু ভাশুরের ভয়ে পলাইলাম, এইডার মাজেজাটাতো ঠিক বুজা পারতাছিনা?”
“ওম্মা, কচি খোকা! এই সামান্য জিনিসটা তুমি বুঝতে পারছো না! কথাটাতো একদম জলবৎ তরলং, ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যাদাইলাম, ভাশুরের ভয়ে পলাইলাম। একজনকে তাড়ালাম আর একজনের ভয়ে পালালাম।”
“একজনরে খ্যাদাইলেন, বুঝলাম, আর একজনের ভয়ে পলাইলেন? কিন্তু কখন পলাইলেন কার ভয়ে পলাইলেন, তার নাম কিতা? কিছুইতো বুজা পারতাছিনা?”
“ওই জঙ্গল, ভাশুরের নাম কি মুখে নেয়া যায়?”
“না, কহোনই না। ভাশুর তো শশুরেরই রিডিউস ফুটোকপি, হ্যার নাম মুখে ক্যান, স্বপ্নেও দ্যেহন যাইবো না। বুজছোইন!”
“জ্বী, আমি ঠিকই বুঝেছি, তাই যার ভয়ে পালালাম তার নাম মুখে নিচ্ছিনা, আর প্রিন্ট মাধ্যমেও প্রকাশ করছি না।”
“তয় আপনে যে এ্যতো ফুটানি মারতাছেন, ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যাদাইলাম, জনগনের সার্পুট না পাইলে, ফ্যাসিস্ট সরকাররে খ্যেদাইতে পারতেন?”
“তুই কি, আজকাল ইউটিউব দ্যেখা ছেড়ে দিয়েছিস, ইউটিউবে দেখিসনি সবাই ক্যেমন গাল ফুলিয়ে বলছেন, যে আমরা জুলাইয়ের পুরো আন্দোলন পরিচালনা করেছি। আমাদের নাম প্রকাশ পেলে, জনগনের সাপোর্ট পাবনা বলেই আমাদের নাম প্রকাশ করিনি। আর জনগনও আমাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সংগ্রামকে বেগবান করে সহজেই সাম্রাজ্যবাদ কায়েম করলাম।”
“কিন্তু আপনে তো, দেড় হাজার জীবন বলি দিয়া, এক ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যেদাইয়া আর এক ইউনুস ফ্যাসিস্ট সরকার আইন্না বসাইলেন। লাভটা কি হোইলো!’
“অ্যাঁএ, ড. ইউনূস, ফ্যাসিস্ট! তুই ফ্যাসিস্টের মানে বোজো? ফ্যাসিস্ট হোইলো গোঁড়া জাতীয়তাবাদ, এক ব্যাক্তির ইচ্ছার ওপর দেশ চলবে। বিরোধী দলকে দমন, পীড়ন, মারণ, গুম-হত্যা, সেভেন মার্ডার, ব্যাক্তির কোনোই ইচ্ছা থাকবে না, গোষ্টির মতো চলতে হবে। যেটা বিগত কালে তোরা বাংলার বুকে দেখেছিস।”
“ক্যা ইউনূসের সময় আপনে গুম-খুন করেন নাই?”
“আরে ভাই ওই সময় গুমের কোনোই ইতিহাস নেই। আরে ব্যাটা বিশ্ব ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট হচ্ছেন মাত্র দুইজন, বেনিতো মুসোলিনি (১৯২২-১৯৪৩) আর আমাদের জামার্নির এ্যাডলফ হিটলার (১৯৩৩-১৯৪৫) আর তোদেরটা সেই তুলনায় চুনোপুঁটি, নস্যিরে নস্যি। তোদের সময় এক সেনাসদস্য ভাষ্যানুসারে এক সেনা কর্মকর্তার গুম খুনের সংখ্যা আর কটা হবে, তিনশ’চারশ’ এক হাজার, দুহাজার, তিন হাজার-পাঁচ হাজার, কিন্তু এক হিটালেরর সময় সারা বিশ্বে মানুষ মারা গেছে ছয় (৬) কোটি। বুঝতে পারিস কোথায় চার-পাঁচ হাজার আর কোথায় ছয় কোটি! আর ড.ইউনুসের সময় কয়টা হাতে গোনা যায়।”
“বুলডোজার দিয়া বাড়ির চৌকাঠ পর্যন্ত গুড়ায়া দিলেন, মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা পরাইলেন, চিফের গালে জুতার বাড়ি মারলেন, এইগুলা ফ্যাসিস্টের কাম না?”
“শোন ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতীক মাঝে একটি কুঠার, এই হচ্ছে ততকালীন ফ্যাসিস্টের প্রতীক। ড. ইউনূসের সময় এই প্রতীক দেখা যায়নাই। তিনি কখনোই তার ইচ্ছা মতো কাজ করেন নাই। জনগন যা চেয়েছে তিনি তাতে সাপোর্ট দিয়েছেন।”
“হ’ নন ডিসক্লোজার এ্যাগ্রিমেন্ট তো জনগন চাইছিল?”
“আরে এটাতো ততকালীন সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন, ড. ইউনূস কি করবেন। সবাই জনগণের ইচ্ছা।”
“হ, জনগন শুয়োর খাওনের এ্যাগ্রিমেন্টে সই করবো! আন্নে হাগলনি কোনো!”
“আমাকে এ’কথা বলে লাভ নেই, তোরা তখন ড.ইউনুসকে ক্যাপ্টেন বানিয়েছিস, ক্যাপ্টেন যা করবার তার লাইসেন্স তাকে তোরাই দিয়েছিস!”
“আচ্ছা বুজছি বুজছি ড. ইউনূস ফ্যাসিস্ট হোইলে তারেও আপনেরা খ্যেদাইতেন, কিন্তু অহন কন আপনেরা ভাইগ্যা আইলেন কার ডরে?”
“দ্যেখ একে ঠিক ভাইগ্যা আইলাম বা পালিয়ে এলাম বললে হবে না। এটা হচ্ছে মহান বাম পন্থীনেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেলিনের কথা, “ওয়ান স্টেপ ফরওর্য়াড, টু’স্টেপস ব্যাক” মানে যদিও তুমি সংগ্রামে একপা এগিয়েছো, তাহলে আরোও আগানোর জন্য প্রয়োজনে দু’পা পিছিয়ে আসতে পারো।”
“ও! তার মানে আপনেরা এখন পলান নাই? ভ্লাদিমির ইলিচ লেলিনের কথা মত, “ওয়ান স্টেপ ফরওর্য়াড, টু’স্টেপস ব্যাক গিয়ার মারছেন। তারপর আবার ঝোপ বুইজ্ঝা কোপ দিবেন!”
“ব্যাপারটা অনেকটা তাই। যেমন দ্যেখ বর্তমানে বাংলার জনগন প্রায় ৫৪ বছর ধরে লাঞ্ছনার গঞ্জনার বঞ্চনার শিকার হতে হতে তোরা আজ সরকারের প্রতি, নেতাদের প্রতি, মন্ত্রীদের প্রতি আস্থা হারিয়ে, আজ জীবন ছেড়ে মরণের পরে শুখে থাকার জন্য লালায়িত। আর এই লালসা তোদের জীবন বিমুখ করে, চুরি-ডাকাতি, খুন-জখম রাহাজানী, অবলা নারীর প্রতি অত্যাচার সব কিছুই সহজ ভাবে গ্রহণ করছিস, মেনে নিচ্ছিস। কিন্তু ক্যেন ক্যেন, ক্যেন সমাজে এই বিশৃঙ্খলা, কোনো সুস্থ্য মস্তিষ্ক কি অনাচার মেনে নিতে পারে!”
“না না না, এইডা, এই অতিআচার মাইনষ্যে ক্যেমনে মাইন্না নিবো কন, কন, কন?”
“কিন্তু তোরা তো সকাল-সন্ধ্যা সব মেনে নিচ্ছিস। বিগত ৫৪ বছর খালি এ’দল আর ও’দল করে মরলি। কাজের কাজ কিছুই হলোনা, তোরা যেই তিমিরে সেই তিমিরেই পড়ে রইলি।”
“আমরা সাধারণ মাইনষ্যে কি করমু কন?”
“খামাখা ফালতু কথা বলিস না, “আমরা সাধারণ মাইনষ্যে কি করমু কন!” আরে তোরা সাধারণ মানুষ এক হলে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনিস, তোরা সাধারণ মানুষ এক হলে ˆস্বরাচার হোমোকে ফেলতে পারিস, তোরা সাধারণ মানুষ এক হলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়, আর তুই কিনা বলিস “আমরা সাধারণ মাইনষ্যে কি করমু কন!”
“ক্যান এইবার তো ভুটে আমরা আমাগো মার্কায় ভুট দিছিলাম কিন্তু ফলতো পাইলাম না!”
“কোন মার্কায় ভোট দিয়েছিলি গ্রীক গডেস মানে গ্রীসের দেবী থেমিসের বাঁ-হাতে ধরে রাখা প্রতীককে তুই আপামর জনসাধারণের মুক্তির প্রতীক ভেবেছিস?”
“গ্রীসের দেবী কন আর যাই কন, হ্যেই যেইডা বাম হাতে ধইরালচ্চে, হেই মার্কাই আমাগো গরীবের মুক্তির মার্কা।”
“আরে ভাই তুই একজন নারী, গ্রীসের দেবী থেমিসের মুর্তি হাইকোর্টের সামনে থেকে নিয়ে চিপায় ফেলে দিলি। কারণ তোর মতে নারী নেতৃত্ব হারাম! আবার সেই দেবী থেমিসেরই বাঁ-হাতে ধরে থাকা বস্তুটি, প্রতীকটি, মার্কাটি গরীবের মুক্তির মার্কা হয়ে উঠল! আশ্চর্য্য তুই যেই দেবীটাকেই ঘৃণা করিস আবার সেই দেবীর বাম’হাতে ধরে থাকা মার্কাকে মাথায় তুলে নাচিস! লজ্জা হয়না তোর!”
“ভাই লাজ লজ্জা বুঝিনা, আমাগো দেশে নারী নেতৃত্ব চলবো না আমাগো লাগলে একটা হিটলার আইন্নাদেন হ্যেয়ই দেশ চালাক, গরীবরে বাঁচাক। কিন্তুক কুনো বেডি আইন্না দিয়েন না।”
“দেবী থেমিসকে অপমান করে, তার বাঁ’হাতে ধরে থাকা প্রতীক নিয়ে নাচা নাচি করলে মহান সৃষ্টিকর্তা ব্যেজার হন। যার জন্য আমরা মানে মানে, চুপি সারে সরে এলাম। যদি কোনোদিন সত্যিকারে মানুষ হোই, মানুষকে মানুষ মনে করে শ্রদ্ধা করতে পারি, সেইদিন আবার আসবো মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে, ততদিন জনগণের চোখের আড়ালে বা লোক চক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে থাকি।”
“দেখি আমরা যদি ব্যেবাগ গরীবরা এক হোইতে পারি, তায়লে দেবী থেমিসরে থুয়া কেবল হ্যের বাম হাতের মার্কা লয় নাচুমনা। নাচলে দেবীরে লয়া দেবীর মার্কালয়া নাচুম। কিন্তুক আপনি যে কোইলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যেদাইলাম, ভাশুরের ভয়ে পলাইলাম। তয় এই ভাশুরটা ক্যেডা?”
“আরে বুঝিসনা ক্যেন, ভাশুরের নাম মুখে আনা নিষেধ।”
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
“হি হি হি, আনন্দের আর সীমা নাই, দারুণ কোইছেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যাদাইলাম, ভাশুরের ভয়ে পলাইলাম”।
“ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যেদাইলাম, হেইডা তো, সিম্পেল, বুইজাইলচ্চি, কিন্তু ভাশুরের ভয়ে পলাইলাম, এইডার মাজেজাটাতো ঠিক বুজা পারতাছিনা?”
“ওম্মা, কচি খোকা! এই সামান্য জিনিসটা তুমি বুঝতে পারছো না! কথাটাতো একদম জলবৎ তরলং, ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যাদাইলাম, ভাশুরের ভয়ে পলাইলাম। একজনকে তাড়ালাম আর একজনের ভয়ে পালালাম।”
“একজনরে খ্যাদাইলেন, বুঝলাম, আর একজনের ভয়ে পলাইলেন? কিন্তু কখন পলাইলেন কার ভয়ে পলাইলেন, তার নাম কিতা? কিছুইতো বুজা পারতাছিনা?”
“ওই জঙ্গল, ভাশুরের নাম কি মুখে নেয়া যায়?”
“না, কহোনই না। ভাশুর তো শশুরেরই রিডিউস ফুটোকপি, হ্যার নাম মুখে ক্যান, স্বপ্নেও দ্যেহন যাইবো না। বুজছোইন!”
“জ্বী, আমি ঠিকই বুঝেছি, তাই যার ভয়ে পালালাম তার নাম মুখে নিচ্ছিনা, আর প্রিন্ট মাধ্যমেও প্রকাশ করছি না।”
“তয় আপনে যে এ্যতো ফুটানি মারতাছেন, ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যাদাইলাম, জনগনের সার্পুট না পাইলে, ফ্যাসিস্ট সরকাররে খ্যেদাইতে পারতেন?”
“তুই কি, আজকাল ইউটিউব দ্যেখা ছেড়ে দিয়েছিস, ইউটিউবে দেখিসনি সবাই ক্যেমন গাল ফুলিয়ে বলছেন, যে আমরা জুলাইয়ের পুরো আন্দোলন পরিচালনা করেছি। আমাদের নাম প্রকাশ পেলে, জনগনের সাপোর্ট পাবনা বলেই আমাদের নাম প্রকাশ করিনি। আর জনগনও আমাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সংগ্রামকে বেগবান করে সহজেই সাম্রাজ্যবাদ কায়েম করলাম।”
“কিন্তু আপনে তো, দেড় হাজার জীবন বলি দিয়া, এক ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যেদাইয়া আর এক ইউনুস ফ্যাসিস্ট সরকার আইন্না বসাইলেন। লাভটা কি হোইলো!’
“অ্যাঁএ, ড. ইউনূস, ফ্যাসিস্ট! তুই ফ্যাসিস্টের মানে বোজো? ফ্যাসিস্ট হোইলো গোঁড়া জাতীয়তাবাদ, এক ব্যাক্তির ইচ্ছার ওপর দেশ চলবে। বিরোধী দলকে দমন, পীড়ন, মারণ, গুম-হত্যা, সেভেন মার্ডার, ব্যাক্তির কোনোই ইচ্ছা থাকবে না, গোষ্টির মতো চলতে হবে। যেটা বিগত কালে তোরা বাংলার বুকে দেখেছিস।”
“ক্যা ইউনূসের সময় আপনে গুম-খুন করেন নাই?”
“আরে ভাই ওই সময় গুমের কোনোই ইতিহাস নেই। আরে ব্যাটা বিশ্ব ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট হচ্ছেন মাত্র দুইজন, বেনিতো মুসোলিনি (১৯২২-১৯৪৩) আর আমাদের জামার্নির এ্যাডলফ হিটলার (১৯৩৩-১৯৪৫) আর তোদেরটা সেই তুলনায় চুনোপুঁটি, নস্যিরে নস্যি। তোদের সময় এক সেনাসদস্য ভাষ্যানুসারে এক সেনা কর্মকর্তার গুম খুনের সংখ্যা আর কটা হবে, তিনশ’চারশ’ এক হাজার, দুহাজার, তিন হাজার-পাঁচ হাজার, কিন্তু এক হিটালেরর সময় সারা বিশ্বে মানুষ মারা গেছে ছয় (৬) কোটি। বুঝতে পারিস কোথায় চার-পাঁচ হাজার আর কোথায় ছয় কোটি! আর ড.ইউনুসের সময় কয়টা হাতে গোনা যায়।”
“বুলডোজার দিয়া বাড়ির চৌকাঠ পর্যন্ত গুড়ায়া দিলেন, মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা পরাইলেন, চিফের গালে জুতার বাড়ি মারলেন, এইগুলা ফ্যাসিস্টের কাম না?”
“শোন ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতীক মাঝে একটি কুঠার, এই হচ্ছে ততকালীন ফ্যাসিস্টের প্রতীক। ড. ইউনূসের সময় এই প্রতীক দেখা যায়নাই। তিনি কখনোই তার ইচ্ছা মতো কাজ করেন নাই। জনগন যা চেয়েছে তিনি তাতে সাপোর্ট দিয়েছেন।”
“হ’ নন ডিসক্লোজার এ্যাগ্রিমেন্ট তো জনগন চাইছিল?”
“আরে এটাতো ততকালীন সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন, ড. ইউনূস কি করবেন। সবাই জনগণের ইচ্ছা।”
“হ, জনগন শুয়োর খাওনের এ্যাগ্রিমেন্টে সই করবো! আন্নে হাগলনি কোনো!”
“আমাকে এ’কথা বলে লাভ নেই, তোরা তখন ড.ইউনুসকে ক্যাপ্টেন বানিয়েছিস, ক্যাপ্টেন যা করবার তার লাইসেন্স তাকে তোরাই দিয়েছিস!”
“আচ্ছা বুজছি বুজছি ড. ইউনূস ফ্যাসিস্ট হোইলে তারেও আপনেরা খ্যেদাইতেন, কিন্তু অহন কন আপনেরা ভাইগ্যা আইলেন কার ডরে?”
“দ্যেখ একে ঠিক ভাইগ্যা আইলাম বা পালিয়ে এলাম বললে হবে না। এটা হচ্ছে মহান বাম পন্থীনেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেলিনের কথা, “ওয়ান স্টেপ ফরওর্য়াড, টু’স্টেপস ব্যাক” মানে যদিও তুমি সংগ্রামে একপা এগিয়েছো, তাহলে আরোও আগানোর জন্য প্রয়োজনে দু’পা পিছিয়ে আসতে পারো।”
“ও! তার মানে আপনেরা এখন পলান নাই? ভ্লাদিমির ইলিচ লেলিনের কথা মত, “ওয়ান স্টেপ ফরওর্য়াড, টু’স্টেপস ব্যাক গিয়ার মারছেন। তারপর আবার ঝোপ বুইজ্ঝা কোপ দিবেন!”
“ব্যাপারটা অনেকটা তাই। যেমন দ্যেখ বর্তমানে বাংলার জনগন প্রায় ৫৪ বছর ধরে লাঞ্ছনার গঞ্জনার বঞ্চনার শিকার হতে হতে তোরা আজ সরকারের প্রতি, নেতাদের প্রতি, মন্ত্রীদের প্রতি আস্থা হারিয়ে, আজ জীবন ছেড়ে মরণের পরে শুখে থাকার জন্য লালায়িত। আর এই লালসা তোদের জীবন বিমুখ করে, চুরি-ডাকাতি, খুন-জখম রাহাজানী, অবলা নারীর প্রতি অত্যাচার সব কিছুই সহজ ভাবে গ্রহণ করছিস, মেনে নিচ্ছিস। কিন্তু ক্যেন ক্যেন, ক্যেন সমাজে এই বিশৃঙ্খলা, কোনো সুস্থ্য মস্তিষ্ক কি অনাচার মেনে নিতে পারে!”
“না না না, এইডা, এই অতিআচার মাইনষ্যে ক্যেমনে মাইন্না নিবো কন, কন, কন?”
“কিন্তু তোরা তো সকাল-সন্ধ্যা সব মেনে নিচ্ছিস। বিগত ৫৪ বছর খালি এ’দল আর ও’দল করে মরলি। কাজের কাজ কিছুই হলোনা, তোরা যেই তিমিরে সেই তিমিরেই পড়ে রইলি।”
“আমরা সাধারণ মাইনষ্যে কি করমু কন?”
“খামাখা ফালতু কথা বলিস না, “আমরা সাধারণ মাইনষ্যে কি করমু কন!” আরে তোরা সাধারণ মানুষ এক হলে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনিস, তোরা সাধারণ মানুষ এক হলে ˆস্বরাচার হোমোকে ফেলতে পারিস, তোরা সাধারণ মানুষ এক হলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়, আর তুই কিনা বলিস “আমরা সাধারণ মাইনষ্যে কি করমু কন!”
“ক্যান এইবার তো ভুটে আমরা আমাগো মার্কায় ভুট দিছিলাম কিন্তু ফলতো পাইলাম না!”
“কোন মার্কায় ভোট দিয়েছিলি গ্রীক গডেস মানে গ্রীসের দেবী থেমিসের বাঁ-হাতে ধরে রাখা প্রতীককে তুই আপামর জনসাধারণের মুক্তির প্রতীক ভেবেছিস?”
“গ্রীসের দেবী কন আর যাই কন, হ্যেই যেইডা বাম হাতে ধইরালচ্চে, হেই মার্কাই আমাগো গরীবের মুক্তির মার্কা।”
“আরে ভাই তুই একজন নারী, গ্রীসের দেবী থেমিসের মুর্তি হাইকোর্টের সামনে থেকে নিয়ে চিপায় ফেলে দিলি। কারণ তোর মতে নারী নেতৃত্ব হারাম! আবার সেই দেবী থেমিসেরই বাঁ-হাতে ধরে থাকা বস্তুটি, প্রতীকটি, মার্কাটি গরীবের মুক্তির মার্কা হয়ে উঠল! আশ্চর্য্য তুই যেই দেবীটাকেই ঘৃণা করিস আবার সেই দেবীর বাম’হাতে ধরে থাকা মার্কাকে মাথায় তুলে নাচিস! লজ্জা হয়না তোর!”
“ভাই লাজ লজ্জা বুঝিনা, আমাগো দেশে নারী নেতৃত্ব চলবো না আমাগো লাগলে একটা হিটলার আইন্নাদেন হ্যেয়ই দেশ চালাক, গরীবরে বাঁচাক। কিন্তুক কুনো বেডি আইন্না দিয়েন না।”
“দেবী থেমিসকে অপমান করে, তার বাঁ’হাতে ধরে থাকা প্রতীক নিয়ে নাচা নাচি করলে মহান সৃষ্টিকর্তা ব্যেজার হন। যার জন্য আমরা মানে মানে, চুপি সারে সরে এলাম। যদি কোনোদিন সত্যিকারে মানুষ হোই, মানুষকে মানুষ মনে করে শ্রদ্ধা করতে পারি, সেইদিন আবার আসবো মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে, ততদিন জনগণের চোখের আড়ালে বা লোক চক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে থাকি।”
“দেখি আমরা যদি ব্যেবাগ গরীবরা এক হোইতে পারি, তায়লে দেবী থেমিসরে থুয়া কেবল হ্যের বাম হাতের মার্কা লয় নাচুমনা। নাচলে দেবীরে লয়া দেবীর মার্কালয়া নাচুম। কিন্তুক আপনি যে কোইলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যেদাইলাম, ভাশুরের ভয়ে পলাইলাম। তয় এই ভাশুরটা ক্যেডা?”
“আরে বুঝিসনা ক্যেন, ভাশুরের নাম মুখে আনা নিষেধ।”
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন