সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরের সাফল্যে সংসদের সর্বসম্মত ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরের সাফল্যে সংসদের সর্বসম্মত ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ‘অভূতপূর্ব সাফল্যের’ স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

আজ শনিবার সকালের অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

ধন্যবাদ প্রস্তাবটি গ্রহণের সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে এমন সরকারও ছিল যারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট ছিল না। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দেশবাসী আশান্বিত হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষও এই সফল সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

প্রস্তাব উত্থাপন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে এখন পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সফরকালে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যাওয়া ও ফিরে আসার সময় জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা নেওয়ার প্রচলিত সংস্কৃতি বন্ধ করে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক নীতিমালা পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব প্রতিফলন।

তিনি জানান, সফরকালে মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং চীনের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের প্রতি সবসময় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হলে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং সংসদকে রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার আহ্বান জানান।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরের সাফল্যে সংসদের সর্বসম্মত ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ‘অভূতপূর্ব সাফল্যের’ স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

আজ শনিবার সকালের অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

ধন্যবাদ প্রস্তাবটি গ্রহণের সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে এমন সরকারও ছিল যারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট ছিল না। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দেশবাসী আশান্বিত হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষও এই সফল সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

প্রস্তাব উত্থাপন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে এখন পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সফরকালে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যাওয়া ও ফিরে আসার সময় জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা নেওয়ার প্রচলিত সংস্কৃতি বন্ধ করে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক নীতিমালা পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব প্রতিফলন।

তিনি জানান, সফরকালে মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং চীনের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের প্রতি সবসময় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হলে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং সংসদকে রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার আহ্বান জানান।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত