সংবাদ

চোখের সামনেই নদীগর্ভে শত শত বিঘা পাট


প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

চোখের সামনেই নদীগর্ভে শত শত বিঘা পাট
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শত শত বিঘা তোষাপাট ও বসতভিটা। ছবি : সংবাদ

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শতাধিক বসতভিটা এবং তিন শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তোষাপাট চাষ করা শত শত বিঘা জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চরের কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাপাসিয়া, চণ্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নে ভাঙন সবচেয়ে বেশি। শ্রীপুর ইউনিয়নের ফুল মিয়া বাজারের আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাবুর বাজারের পূর্ব পাশে প্রতিদিন শত শত বিঘা পাটক্ষেত নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ওয়াপদা বাঁধও হুমকির মুখে পড়বে।’ চরের মানুষ এখন ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সুন্দরগঞ্জে প্রতিবছর গড়ে ৫০০ বসতভিটা এবং ৬০০ হেক্টর ফসলি জমি তিস্তায় বিলীন হয়। গত পাঁচ বছরে প্রায় আড়াই হাজার ঘরবাড়ি, তিন হাজার হেক্টর জমি, ৫০ কিলোমিটার রাস্তা এবং অন্তত ৪০টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কেবল নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলছে, যা কোনো কাজে আসছে না।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া জানান, তার ইউনিয়নের লালচামার, উজান বোচাগাড়ি ও ভাটি বোচাগাড়ি এলাকায় ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। নিমেষেই ফসলি জমি ও গাছপালা নদীতে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, কাপাশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘নদী খনন ও ড্রেজিং করে গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া এই ভাঙন রোধ সম্ভব নয়। স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে উপজেলার মানচিত্রই বদলে যাবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তিস্তার চরাঞ্চল এখন কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু প্রতিবছরের ভাঙন কৃষকদের স্বপ্ন তছনছ করে দিচ্ছে। স্থায়ী সমাধান হলে চরের কৃষকরা দ্রুত স্বাবলম্বী হয়ে উঠতেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। আমাদের কাজ হলো জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা এবং তথ্য প্রদান করা। নদী শাসন ও ড্রেজিং ছাড়া স্থায়ী সমাধান কঠিন।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


চোখের সামনেই নদীগর্ভে শত শত বিঘা পাট

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শতাধিক বসতভিটা এবং তিন শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তোষাপাট চাষ করা শত শত বিঘা জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চরের কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাপাসিয়া, চণ্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নে ভাঙন সবচেয়ে বেশি। শ্রীপুর ইউনিয়নের ফুল মিয়া বাজারের আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাবুর বাজারের পূর্ব পাশে প্রতিদিন শত শত বিঘা পাটক্ষেত নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ওয়াপদা বাঁধও হুমকির মুখে পড়বে।’ চরের মানুষ এখন ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সুন্দরগঞ্জে প্রতিবছর গড়ে ৫০০ বসতভিটা এবং ৬০০ হেক্টর ফসলি জমি তিস্তায় বিলীন হয়। গত পাঁচ বছরে প্রায় আড়াই হাজার ঘরবাড়ি, তিন হাজার হেক্টর জমি, ৫০ কিলোমিটার রাস্তা এবং অন্তত ৪০টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কেবল নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলছে, যা কোনো কাজে আসছে না।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া জানান, তার ইউনিয়নের লালচামার, উজান বোচাগাড়ি ও ভাটি বোচাগাড়ি এলাকায় ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। নিমেষেই ফসলি জমি ও গাছপালা নদীতে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, কাপাশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘নদী খনন ও ড্রেজিং করে গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া এই ভাঙন রোধ সম্ভব নয়। স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে উপজেলার মানচিত্রই বদলে যাবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তিস্তার চরাঞ্চল এখন কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু প্রতিবছরের ভাঙন কৃষকদের স্বপ্ন তছনছ করে দিচ্ছে। স্থায়ী সমাধান হলে চরের কৃষকরা দ্রুত স্বাবলম্বী হয়ে উঠতেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। আমাদের কাজ হলো জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা এবং তথ্য প্রদান করা। নদী শাসন ও ড্রেজিং ছাড়া স্থায়ী সমাধান কঠিন।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত