সংবাদ

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার তান্ডবে এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ৫০০ বসতভিটা


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার তান্ডবে এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ৫০০ বসতভিটা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মাত্র এক সপ্তাহে ৫০০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে নদীর তীব্র ভাঙনে ৫ শতাধিক বসতভিটা, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও শত শত ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডান তীরের পুরাতন বেড়িবাঁধসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেলকা, হরিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়ন বর্তমানে পুরোপুরি ভাঙনের কবলে। এ ছাড়া তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর, চণ্ডিপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার আংশিক এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। নদ-নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে।

ভাঙনের গতি এতই বেশি যে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র বা গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ার সময়ও পাচ্ছে না। চোখের পলকে বসতভিটা, গাছপালা ও আবাদি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে বা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার এলাকার ভুক্তভোগী আবুল হোসেন ও রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দিন-রাত অবিরাম ভাঙনে চোখের পলকে আমাদের শেষ সম্বলটুকু নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াব, কী খাব—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফ্ফাত জাহান তুলি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সহায়তা বিতরণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


সুন্দরগঞ্জে তিস্তার তান্ডবে এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ৫০০ বসতভিটা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে নদীর তীব্র ভাঙনে ৫ শতাধিক বসতভিটা, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও শত শত ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডান তীরের পুরাতন বেড়িবাঁধসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেলকা, হরিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়ন বর্তমানে পুরোপুরি ভাঙনের কবলে। এ ছাড়া তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর, চণ্ডিপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার আংশিক এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। নদ-নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে।

ভাঙনের গতি এতই বেশি যে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র বা গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ার সময়ও পাচ্ছে না। চোখের পলকে বসতভিটা, গাছপালা ও আবাদি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে বা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার এলাকার ভুক্তভোগী আবুল হোসেন ও রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দিন-রাত অবিরাম ভাঙনে চোখের পলকে আমাদের শেষ সম্বলটুকু নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াব, কী খাব—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফ্ফাত জাহান তুলি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সহায়তা বিতরণ করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত