সংবাদ

‘বুড়ো’ ঘোড়ায় বাজিমাত ক্রোয়েশিয়ার


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

‘বুড়ো’ ঘোড়ায় বাজিমাত ক্রোয়েশিয়ার

সেই লুকা মদ্রিচ। ৪০ বছর বয়সেও এই লোকটাই ক্রোয়েশিয়ার মূল চালিকাশক্তি। বয়স হওয়ায় গতি খানিকটা কমেছে। এখন অনেকটা পেছন থেকে খেলেন। কিন্তু দক্ষতা কমেনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্বিতীয় বয়স্কতম দল এই ম্যাচে নামিয়েছিলেন কোচ জ্লাটকো ডালিচ। তিনি জানতেন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। সেটাই হলো।

খেলার শুরু থেকে ঘানার সঙ্গে গতিতে পারছিল না ক্রোয়েশিয়া। তাই খেলার গতি খানিকটা কমিয়ে বেশি বল ধরে খেলা শুরু করল। আক্রমণেও উঠতে শুরু করলো। দূর থেকে পিটার সুচিচের শট পোস্টে না লাগলে শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত ক্রোয়েশিয়া। তাদের মধ্যে গোল করার তাগিদ অনেক বেশি দেখা গেল।

যে ঘানার রক্ষণ ইংল্যান্ডও ভাঙতে পারেনি, তা ভাঙলো ক্রোয়েশিয়া। তারা বুঝতে পারছিল, বক্সের মধ্যে শারীরিক দক্ষতায় পেরে উঠবে না। তাই দূর থেকে শট মারছিলেন স্ট্রাইকারেরা। তারই ফসল প্রথম গোল। সুচিচের গোল ক্রোয়েশিয়াকে অক্সিজেন দিল।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘানার খেলা বদলে গেল। এ বারের বিশ্বকাপে ভালো দেখাচ্ছে তাদের। সেমেনিয়ো সুযোগ তৈরি করছিলেন। বিরতির পর আব্দুল ফাতাউ নামতেই ঘানার খেলার গতি আবার বেড়ে গেল। একের পর এক আক্রমণ এল ক্রোয়েশিয়ার বক্সে। কিন্তু রক্ষণ ভাঙা যাচ্ছিল না।

এই ম্যাচে আবার নিজের জাত চেনালেন মদ্রিচ। আক্রমণ থেকে রক্ষণ, সব জায়গায় তাকে দেখা গেল। তবে ঘানাও ছাড়ার পাত্র ছিল না। লুকাসেনের গোলে সমতা ফেরায় তারা। প্রথমে মনে হয়েছিল অফসাইড। কিন্তু ভার দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত নেন, লুকাসেন অফসাইডে ছিলেন না।

গোল খাওয়ার পর আবার ক্রোয়েশিয়ার খেলা বদলে গেল। আবার গোল করার তাগিদ দেখা গেল। ক্রোয়েশিয়া এমন একটা দল, যারা কখন গোল করবে প্রতিপক্ষ বুঝতে পারে না। হঠা করে গোলের দরজা খুলে ফেলে তারা। আরও একবার সেটাই হলো। নিকোলা ভ্লাসিচ গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে আবার এগিয়ে দিলেন। সেই পাস এল মদ্রিচের পা থেকেই। বাকি সময়ে আর ক্রোয়েশিয়াকে সমস্যায় ফেলতে পারল না ঘানা। মদ্রিচ বোঝালেন, গতি হয়তো কমেছে, কিন্তু এখনও বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের তালিকায় কেন তিনি পড়েন।

ঘানা হারলেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়নি। ৪ পয়েন্ট তাদের। এখনও পর্যন্ত তৃতীয় স্থানে থাকা মোট পাঁচটি দলের পয়েন্ট ৪। ফলে বিশ্বকাপের নকআউটে তারা প্রায় জায়গা পাকা করে নিয়েছে। তবে এই ম্যাচে তাদের রক্ষণ বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিল। ইংল্যান্ডকে আটকে দিলেও ক্রোয়েশিয়ার ফাঁদে পা দিল ঘানা। নকআউটে এমনটা করলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে তাদের।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


‘বুড়ো’ ঘোড়ায় বাজিমাত ক্রোয়েশিয়ার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

সেই লুকা মদ্রিচ। ৪০ বছর বয়সেও এই লোকটাই ক্রোয়েশিয়ার মূল চালিকাশক্তি। বয়স হওয়ায় গতি খানিকটা কমেছে। এখন অনেকটা পেছন থেকে খেলেন। কিন্তু দক্ষতা কমেনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্বিতীয় বয়স্কতম দল এই ম্যাচে নামিয়েছিলেন কোচ জ্লাটকো ডালিচ। তিনি জানতেন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। সেটাই হলো।

খেলার শুরু থেকে ঘানার সঙ্গে গতিতে পারছিল না ক্রোয়েশিয়া। তাই খেলার গতি খানিকটা কমিয়ে বেশি বল ধরে খেলা শুরু করল। আক্রমণেও উঠতে শুরু করলো। দূর থেকে পিটার সুচিচের শট পোস্টে না লাগলে শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত ক্রোয়েশিয়া। তাদের মধ্যে গোল করার তাগিদ অনেক বেশি দেখা গেল।

যে ঘানার রক্ষণ ইংল্যান্ডও ভাঙতে পারেনি, তা ভাঙলো ক্রোয়েশিয়া। তারা বুঝতে পারছিল, বক্সের মধ্যে শারীরিক দক্ষতায় পেরে উঠবে না। তাই দূর থেকে শট মারছিলেন স্ট্রাইকারেরা। তারই ফসল প্রথম গোল। সুচিচের গোল ক্রোয়েশিয়াকে অক্সিজেন দিল।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘানার খেলা বদলে গেল। এ বারের বিশ্বকাপে ভালো দেখাচ্ছে তাদের। সেমেনিয়ো সুযোগ তৈরি করছিলেন। বিরতির পর আব্দুল ফাতাউ নামতেই ঘানার খেলার গতি আবার বেড়ে গেল। একের পর এক আক্রমণ এল ক্রোয়েশিয়ার বক্সে। কিন্তু রক্ষণ ভাঙা যাচ্ছিল না।

এই ম্যাচে আবার নিজের জাত চেনালেন মদ্রিচ। আক্রমণ থেকে রক্ষণ, সব জায়গায় তাকে দেখা গেল। তবে ঘানাও ছাড়ার পাত্র ছিল না। লুকাসেনের গোলে সমতা ফেরায় তারা। প্রথমে মনে হয়েছিল অফসাইড। কিন্তু ভার দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত নেন, লুকাসেন অফসাইডে ছিলেন না।

গোল খাওয়ার পর আবার ক্রোয়েশিয়ার খেলা বদলে গেল। আবার গোল করার তাগিদ দেখা গেল। ক্রোয়েশিয়া এমন একটা দল, যারা কখন গোল করবে প্রতিপক্ষ বুঝতে পারে না। হঠা করে গোলের দরজা খুলে ফেলে তারা। আরও একবার সেটাই হলো। নিকোলা ভ্লাসিচ গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে আবার এগিয়ে দিলেন। সেই পাস এল মদ্রিচের পা থেকেই। বাকি সময়ে আর ক্রোয়েশিয়াকে সমস্যায় ফেলতে পারল না ঘানা। মদ্রিচ বোঝালেন, গতি হয়তো কমেছে, কিন্তু এখনও বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের তালিকায় কেন তিনি পড়েন।

ঘানা হারলেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়নি। ৪ পয়েন্ট তাদের। এখনও পর্যন্ত তৃতীয় স্থানে থাকা মোট পাঁচটি দলের পয়েন্ট ৪। ফলে বিশ্বকাপের নকআউটে তারা প্রায় জায়গা পাকা করে নিয়েছে। তবে এই ম্যাচে তাদের রক্ষণ বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিল। ইংল্যান্ডকে আটকে দিলেও ক্রোয়েশিয়ার ফাঁদে পা দিল ঘানা। নকআউটে এমনটা করলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে তাদের।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত