দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের লিফট সংকট ও অবকাঠামোগত বেহাল দশা চরমে পৌঁছেছে। হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ১৬টি লিফটের মধ্যে সাতটিই গত ছয় মাস ধরে অচল। একই সঙ্গে মাত্র ছয় মাস আগে নির্মিত হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়কেও বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগকে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো ভবনে সচল কয়েকটি লিফটের সামনে রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ সারি। সাতটি লিফট অচল থাকায় বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও জরুরি বিভাগের রোগীদের স্ট্রেচারে করে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে। সচল লিফটগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ; অনেকগুলোর বোতাম ভাঙা বা খোলা।
অন্যদিকে, ব্যাপটিস্ট মিশন রোড থেকে ডোমঘর পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি ছয় মাস আগে নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে খানাখন্দগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ইন্টার্নি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর বলেন, ‘লিফট ও সড়কের বেহাল দশা নিয়ে আমরা একাধিকবার গণপূর্ত বিভাগকে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা তারা নেয়নি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার দপ্তরে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লালের ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও টেন্ডার অনিয়ম ও নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। হাসপাতালের লিফট ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ও ঠিকাদার-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে গণপূর্তের অন্য কর্মকর্তারাও মুখ খুলতে রাজি হননি।
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলার মানুষের শেষ ভরসাস্থল এই হাসপাতালের এমন অবকাঠামোগত সংকট লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে। সরকারি অর্থের অপচয় ও তদারকির অভাবে সাধারণ রোগীদের এই চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন