সংবাদ

আব্দুল্লাহপুর-লুটেরচর : একটি সেতুর অপেক্ষায় দুই পাড়ের হাজারো মানুষ


প্রতিনিধি, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)
প্রতিনিধি, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

আব্দুল্লাহপুর-লুটেরচর : একটি সেতুর অপেক্ষায় দুই পাড়ের হাজারো মানুষ
ছবি : সংবাদ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এবং কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেঘনা নদীর একটি শাখা। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও এখানে কোনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দুই পাড়ের মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নদী পাড়ি দিচ্ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দুই পাড়েই মানুষের ব্যস্ততা ও ব্যাপক চলাচল রয়েছে। কোনো সেতু না থাকায় যাত্রীদের পুরোপুরি নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিলে এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। অনেক সময় প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কচুরিপানার জটের কারণে নৌকা চলাচল ব্যাহত হয়। এতে ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তারা একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের জন্য প্রতিদিনের এই নদী পারাপার অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আব্দুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় যুবক মোত্তাসিন বিল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত মানুষ এই নদী হয়ে যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। একটি সেতু হলে আমাদের বহু বছরের এই দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটত।’

সাহিন নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ‘জরুরি রোগী বা পরীক্ষার সময় নৌকা পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। নদী পার হতে আমাদের সব সময় নৌকার দিকে চেয়ে থাকতে হয়। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের একটাই দাবি-এখানে যেন দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়।’

এলাকাবাসীর মতে, আব্দুল্লাহপুর-লুটেরচর নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে গজারিয়া ও মেঘনা উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাই দ্রুত সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


আব্দুল্লাহপুর-লুটেরচর : একটি সেতুর অপেক্ষায় দুই পাড়ের হাজারো মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এবং কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেঘনা নদীর একটি শাখা। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও এখানে কোনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দুই পাড়ের মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নদী পাড়ি দিচ্ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দুই পাড়েই মানুষের ব্যস্ততা ও ব্যাপক চলাচল রয়েছে। কোনো সেতু না থাকায় যাত্রীদের পুরোপুরি নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিলে এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। অনেক সময় প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কচুরিপানার জটের কারণে নৌকা চলাচল ব্যাহত হয়। এতে ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তারা একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের জন্য প্রতিদিনের এই নদী পারাপার অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আব্দুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় যুবক মোত্তাসিন বিল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত মানুষ এই নদী হয়ে যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। একটি সেতু হলে আমাদের বহু বছরের এই দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটত।’

সাহিন নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ‘জরুরি রোগী বা পরীক্ষার সময় নৌকা পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। নদী পার হতে আমাদের সব সময় নৌকার দিকে চেয়ে থাকতে হয়। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের একটাই দাবি-এখানে যেন দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়।’

এলাকাবাসীর মতে, আব্দুল্লাহপুর-লুটেরচর নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে গজারিয়া ও মেঘনা উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাই দ্রুত সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত