সংবাদ

হলান্ড-ঝড়ের সামনে আফ্রিকান প্রাচীর


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

হলান্ড-ঝড়ের সামনে আফ্রিকান প্রাচীর

বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ এমন এক রাত, যেখানে কোনো ভুল করার অবকাশ নেই। হিসাব-নিকাশটা খুব সহজ—জিতলে শেষ ষোলোর টিকিট, হারলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত এগারোটায় নকআউট পর্বের বাঁচা-মরার শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে দুর্দান্ত শুরু করা নরওয়েজিয়ানদের সামনে আজ কঠিন পরীক্ষা।

অপরদিকে, আফ্রিকার পরাশক্তি আইভরি কোস্টও প্রস্তুত ইউরোপের এই জায়ান্টদের রুখে দিয়ে নিজেদের সোনালী ইতিহাস নতুন করে লিখতে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের।

১৯৯৮ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপে এসেই নিজেদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য ছুঁতে মরিয়া নরওয়ে। বিশ্বমঞ্চে এর আগে একবারই শেষ ষোলোতে খেলেছিল তারা। তবে এবার আর্লিং হলান্ডের হাত ধরে আরও বড় স্বপ্ন দেখছে নরওয়ে। গ্রুপ ‘আই’ এর রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে এবং পরের ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল নরওয়ে। সবশেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হারলেও গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে তারা।

নরওয়ের প্রধান ত্রাস আর্লিং হলান্ড প্রথম দুই ম্যাচেই ৪ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে অন্যতম ফেভারিট। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও ২টি অ্যাসিস্ট করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সবশেষ ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করতে বড় রদবদল করেছিলেন নরওয়ের কোচ স্তল সুলবাকেন। তবে আজ বাঁচা-মরার লড়াইয়ে হলান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ফুটবলার ফিরছেন একাদশে।

অন্যান্য বারের চেয়ে এবার আফ্রিকান দেশগুলোর দাপট একটু বেশি। এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড ৯টি আফ্রিকান দেশ শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। আইভরি কোস্টের লক্ষ্য আফ্রিকার এই অবিশ্বাস্য দৌড়কে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া। ২০০৬ থেকে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপগুলোতে টানা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর, এবারই প্রথম নকআউটের স্বাদ পেয়েছে আইভরি কোস্ট। পুরো গ্রুপ পর্বে তারা মাত্র ৩ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের জন্য পিছিয়ে ছিল। গ্রুপ ‘ই’ তে প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারানোর পর জার্মানির কাছে ২-১ ব্যবধানে হারে তারা।

তবে শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে আইভরি কোস্ট। আইভরি কোস্টের পক্ষে সর্বোচ্চ ২টি গোল করেছেন নিকোলাস পেপে। এছাড়া আমাদ দিওলো ও ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে ১টি করে গোল করেছেন। তবে তাদের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিওমান্দে। মাঝমাঠ থেকে একাই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করছেন এই তরুণ।

কাগজ-কলমে নরওয়ে (ফিফা র‍্যাঙ্কিং ২৩) আইভরি কোস্টের (ফিফা র‍্যাঙ্কিং ৩১) চেয়ে এগিয়ে থাকলেও লড়াইটা হবে সমানে সমানে। আইভরি কোস্টের প্রধান কাজই হবে ডি-বক্সের ভেতর হলান্ডকে বোতলবন্দি করা। আইভরি কোস্টের কোচ এমার্স ফায়ে নিজের দলের বৈচিত্র্য নিয়ে বলেন, “আমাদের শক্তির মূল জায়গা হলো, দলের যেকোনো খেলোয়াড় গোল করতে পারে। এটি প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার জন্য দারুণ কার্যকর। বেঞ্চ থেকে আসা খেলোয়াড়রাও ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারছে।”

নরওয়েকে সমীহ করে তিনি আরও বলেন, “ওরা খুবই গোছানো দল, ব্যক্তিগতভাবে সবাই দারুণ এবং সুযোগ পেলেই গোল করতে পারে। তবে আমাদেরও শারীরিক শক্তি আছে। আমরা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করব।”

আইভরি কোস্টের এই শারীরিক শক্তিকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন নরওয়ের কোচ স্তল সুলবাকেন। ম্যাচের আগে তিনি বলেন, “আমাদের ওদের শারীরিক শক্তির সঙ্গে টেক্কা দিতে হবে। কারণ ওরা টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল। ম্যাচটি খুব হাড্ডাহাড্ডি হবে, যে দল একটু ভাগ্যের সহায়তা পাবে তারাই জিতবে।”

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই প্রথম দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। ইতিহাস অবশ্য নরওয়ের পক্ষে, কারণ আফ্রিকান দেশগুলোর বিপক্ষে ১৯ ম্যাচের মাত্র ২টিতে হেরেছে নরওয়ে। এখন দেখার বিষয়, ডালাসের সবুজ গালিচায় আজ কার মুখে শেষ হাসি ফোটে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


হলান্ড-ঝড়ের সামনে আফ্রিকান প্রাচীর

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ এমন এক রাত, যেখানে কোনো ভুল করার অবকাশ নেই। হিসাব-নিকাশটা খুব সহজ—জিতলে শেষ ষোলোর টিকিট, হারলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত এগারোটায় নকআউট পর্বের বাঁচা-মরার শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে দুর্দান্ত শুরু করা নরওয়েজিয়ানদের সামনে আজ কঠিন পরীক্ষা।

অপরদিকে, আফ্রিকার পরাশক্তি আইভরি কোস্টও প্রস্তুত ইউরোপের এই জায়ান্টদের রুখে দিয়ে নিজেদের সোনালী ইতিহাস নতুন করে লিখতে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের।

১৯৯৮ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপে এসেই নিজেদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য ছুঁতে মরিয়া নরওয়ে। বিশ্বমঞ্চে এর আগে একবারই শেষ ষোলোতে খেলেছিল তারা। তবে এবার আর্লিং হলান্ডের হাত ধরে আরও বড় স্বপ্ন দেখছে নরওয়ে। গ্রুপ ‘আই’ এর রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে এবং পরের ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল নরওয়ে। সবশেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হারলেও গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে তারা।

নরওয়ের প্রধান ত্রাস আর্লিং হলান্ড প্রথম দুই ম্যাচেই ৪ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে অন্যতম ফেভারিট। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও ২টি অ্যাসিস্ট করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সবশেষ ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করতে বড় রদবদল করেছিলেন নরওয়ের কোচ স্তল সুলবাকেন। তবে আজ বাঁচা-মরার লড়াইয়ে হলান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ফুটবলার ফিরছেন একাদশে।

অন্যান্য বারের চেয়ে এবার আফ্রিকান দেশগুলোর দাপট একটু বেশি। এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড ৯টি আফ্রিকান দেশ শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। আইভরি কোস্টের লক্ষ্য আফ্রিকার এই অবিশ্বাস্য দৌড়কে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া। ২০০৬ থেকে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপগুলোতে টানা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর, এবারই প্রথম নকআউটের স্বাদ পেয়েছে আইভরি কোস্ট। পুরো গ্রুপ পর্বে তারা মাত্র ৩ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের জন্য পিছিয়ে ছিল। গ্রুপ ‘ই’ তে প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারানোর পর জার্মানির কাছে ২-১ ব্যবধানে হারে তারা।

তবে শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে আইভরি কোস্ট। আইভরি কোস্টের পক্ষে সর্বোচ্চ ২টি গোল করেছেন নিকোলাস পেপে। এছাড়া আমাদ দিওলো ও ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে ১টি করে গোল করেছেন। তবে তাদের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিওমান্দে। মাঝমাঠ থেকে একাই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করছেন এই তরুণ।

কাগজ-কলমে নরওয়ে (ফিফা র‍্যাঙ্কিং ২৩) আইভরি কোস্টের (ফিফা র‍্যাঙ্কিং ৩১) চেয়ে এগিয়ে থাকলেও লড়াইটা হবে সমানে সমানে। আইভরি কোস্টের প্রধান কাজই হবে ডি-বক্সের ভেতর হলান্ডকে বোতলবন্দি করা। আইভরি কোস্টের কোচ এমার্স ফায়ে নিজের দলের বৈচিত্র্য নিয়ে বলেন, “আমাদের শক্তির মূল জায়গা হলো, দলের যেকোনো খেলোয়াড় গোল করতে পারে। এটি প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার জন্য দারুণ কার্যকর। বেঞ্চ থেকে আসা খেলোয়াড়রাও ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারছে।”

নরওয়েকে সমীহ করে তিনি আরও বলেন, “ওরা খুবই গোছানো দল, ব্যক্তিগতভাবে সবাই দারুণ এবং সুযোগ পেলেই গোল করতে পারে। তবে আমাদেরও শারীরিক শক্তি আছে। আমরা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করব।”

আইভরি কোস্টের এই শারীরিক শক্তিকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন নরওয়ের কোচ স্তল সুলবাকেন। ম্যাচের আগে তিনি বলেন, “আমাদের ওদের শারীরিক শক্তির সঙ্গে টেক্কা দিতে হবে। কারণ ওরা টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল। ম্যাচটি খুব হাড্ডাহাড্ডি হবে, যে দল একটু ভাগ্যের সহায়তা পাবে তারাই জিতবে।”

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই প্রথম দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। ইতিহাস অবশ্য নরওয়ের পক্ষে, কারণ আফ্রিকান দেশগুলোর বিপক্ষে ১৯ ম্যাচের মাত্র ২টিতে হেরেছে নরওয়ে। এখন দেখার বিষয়, ডালাসের সবুজ গালিচায় আজ কার মুখে শেষ হাসি ফোটে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত