সংবাদ

এইচএসসিতে ঝরে পড়ার উদ্বেগজনক চিত্র


প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

এইচএসসিতে ঝরে পড়ার উদ্বেগজনক চিত্র

এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ অংশ নিচ্ছেন না। দুই বছর আগে একাদশ শ্রেণীতে নিবন্ধন করা প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি ফরম পূরণ করেনি। গত বছর এই হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। এক বছরের ব্যবধানে অনুপস্থিতির হার বেড়েছে প্রায় সাত শতাংশ। 

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চিত্র আরও খারাপ। সেখানে ৫৪ শতাংশের বেশি নিয়মিত শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেননি। মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেও হার উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির প্রবণতা নতুন নয়। তবে এবারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। শিক্ষামন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে এটি খারাপ সূচক। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। 

শিক্ষা বিভাগ সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি। তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আগের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনুপস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ বাল্যবিয়ে, দারিদ্র্য ও পরীক্ষার প্রস্তুতির অভাবও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এসএসসির পর অনেক শিক্ষার্থী কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে পড়ে। নিবন্ধনের পর দুই বছরে অনেকে ধীরে ধীরে পড়াশোনা থেকে সরে যায়। 

শিক্ষা নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রধান হাতিয়ার। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অনুপস্থিতি শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। এই ঝরে পড়া কমাতে গবেষণা প্রয়োজন। বাল্যবিয়ে রোধ করা জরুরি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা আরও বিস্তৃত করা দরকার। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার মান উন্নয়নে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। 

ঝরে পড়া রোধে শিক্ষামন্ত্রী পদক্ষেপ নেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন আমরা তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমানো না গেলে জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত বাস্তবমুখী ও ধারাবাহিক উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


এইচএসসিতে ঝরে পড়ার উদ্বেগজনক চিত্র

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ অংশ নিচ্ছেন না। দুই বছর আগে একাদশ শ্রেণীতে নিবন্ধন করা প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি ফরম পূরণ করেনি। গত বছর এই হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। এক বছরের ব্যবধানে অনুপস্থিতির হার বেড়েছে প্রায় সাত শতাংশ। 

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চিত্র আরও খারাপ। সেখানে ৫৪ শতাংশের বেশি নিয়মিত শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেননি। মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেও হার উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির প্রবণতা নতুন নয়। তবে এবারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। শিক্ষামন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে এটি খারাপ সূচক। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। 

শিক্ষা বিভাগ সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি। তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আগের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনুপস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ বাল্যবিয়ে, দারিদ্র্য ও পরীক্ষার প্রস্তুতির অভাবও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এসএসসির পর অনেক শিক্ষার্থী কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে পড়ে। নিবন্ধনের পর দুই বছরে অনেকে ধীরে ধীরে পড়াশোনা থেকে সরে যায়। 

শিক্ষা নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রধান হাতিয়ার। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অনুপস্থিতি শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। এই ঝরে পড়া কমাতে গবেষণা প্রয়োজন। বাল্যবিয়ে রোধ করা জরুরি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা আরও বিস্তৃত করা দরকার। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার মান উন্নয়নে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। 

ঝরে পড়া রোধে শিক্ষামন্ত্রী পদক্ষেপ নেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন আমরা তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমানো না গেলে জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত বাস্তবমুখী ও ধারাবাহিক উদ্যোগ নেয়া জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত