নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ‘পরিবেশবিধ্বংসী ও ব্যয়বহুল’ বলে অভিহিত করে অবিলম্বে সেটা বাতিলের দাবি জানিয়েছে কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন। তাদের যুক্তি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে। সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে ৪২.৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রতি মেগাওয়াটে খরচ পড়বে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশের নগর উন্নয়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও নগরজীবনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে নগরবর্জ্য।
আবার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করাও নানা কারুণে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্র্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগকে অগ্রাহ্য করা চলে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির মান, পরিবেশগত নিরাপত্তা, প্রকল্প ব্যয় নিয়ে ভাববার অবকাশ রয়েছে।
নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে কয়েকটি পরিবেশবাদী ও নাগরিক সংগঠন যে প্রশ্ন তুলেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি, বিদ্যুতের ক্রয়মূল্যও তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব, কার্বন নিঃসরণ, বায়ুদূষণ, জমি অধিগ্রহণ, স্থানীয় মানুষের পুনর্বাসন এবং অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।
উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই প্রকল্পটি বিশেষ আইনের আওতায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমরা বলতে চাই, রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত যেকোনো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কারণ একটি প্রকল্প শুধু বর্তমান নয়, দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দায়ও সৃষ্টি করতে পারে। যার ভার শেষ পর্যন্ত বইতে হয় জনগণকেই। তাই প্রকল্পের ব্যয়, সম্ভাব্য সুফল এবং ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। সরকারের উচিত প্রকল্পটি নিয়ে উত্থাপিত সব প্রশ্নের তথ্যভিত্তিক ও স্বচ্ছ জবাব দেয়া।

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ‘পরিবেশবিধ্বংসী ও ব্যয়বহুল’ বলে অভিহিত করে অবিলম্বে সেটা বাতিলের দাবি জানিয়েছে কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন। তাদের যুক্তি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে। সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে ৪২.৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রতি মেগাওয়াটে খরচ পড়বে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশের নগর উন্নয়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও নগরজীবনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে নগরবর্জ্য।
আবার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করাও নানা কারুণে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্র্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগকে অগ্রাহ্য করা চলে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির মান, পরিবেশগত নিরাপত্তা, প্রকল্প ব্যয় নিয়ে ভাববার অবকাশ রয়েছে।
নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে কয়েকটি পরিবেশবাদী ও নাগরিক সংগঠন যে প্রশ্ন তুলেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি, বিদ্যুতের ক্রয়মূল্যও তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব, কার্বন নিঃসরণ, বায়ুদূষণ, জমি অধিগ্রহণ, স্থানীয় মানুষের পুনর্বাসন এবং অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।
উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই প্রকল্পটি বিশেষ আইনের আওতায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমরা বলতে চাই, রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত যেকোনো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কারণ একটি প্রকল্প শুধু বর্তমান নয়, দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দায়ও সৃষ্টি করতে পারে। যার ভার শেষ পর্যন্ত বইতে হয় জনগণকেই। তাই প্রকল্পের ব্যয়, সম্ভাব্য সুফল এবং ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। সরকারের উচিত প্রকল্পটি নিয়ে উত্থাপিত সব প্রশ্নের তথ্যভিত্তিক ও স্বচ্ছ জবাব দেয়া।

আপনার মতামত লিখুন