সংবাদ

গ্রামীণ উন্নয়ন ছাড়া টেকসই বাংলাদেশ সম্ভব নয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

গ্রামীণ উন্নয়ন ছাড়া টেকসই বাংলাদেশ সম্ভব নয়

​ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গ্রামগুলোর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, "গ্রামীণ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; জনগণের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে না।"
​ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর মন্ত্রী এবং অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন এবং সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে মিলনায়তন প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।
​দেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও বিগত দিনের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ হলেও সরকারের লক্ষ্য একটি দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্ত ভিত রচনা করেছিলেন।"
এ সময় তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "বিগত সময়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে (বিআরডিবি) কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিআরডিবিকে একটি আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এটি গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।"
​উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বার্থে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে 'না' বলতে হবে।"
​জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভার শুরুতে একটি বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সফল উদ্যোক্তারা তাদের জীবনসংগ্রাম, অভিজ্ঞতা এবং সরকারের সহায়তায় কীভাবে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, সেই সফলতার গল্প উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সমবায়ী এবং সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


গ্রামীণ উন্নয়ন ছাড়া টেকসই বাংলাদেশ সম্ভব নয়

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

​ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গ্রামগুলোর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, "গ্রামীণ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; জনগণের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে না।"
​ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর মন্ত্রী এবং অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন এবং সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে মিলনায়তন প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।
​দেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও বিগত দিনের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ হলেও সরকারের লক্ষ্য একটি দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্ত ভিত রচনা করেছিলেন।"
এ সময় তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "বিগত সময়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে (বিআরডিবি) কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিআরডিবিকে একটি আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এটি গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।"
​উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বার্থে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে 'না' বলতে হবে।"
​জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভার শুরুতে একটি বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সফল উদ্যোক্তারা তাদের জীবনসংগ্রাম, অভিজ্ঞতা এবং সরকারের সহায়তায় কীভাবে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, সেই সফলতার গল্প উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সমবায়ী এবং সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত