সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় করা বহুল আলোচিত মামলায় তদন্ত শেষে ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
তবে মামলার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, এজাহারে নাম থাকা তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাকাব উদ্দিনসহ ১০ জনের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপে উল্লেখিত বিএনপি নেতার নাম অভিযোগ পত্র থেকে বাদ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার এজাহারে রাকাব উদ্দিনসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাকাব উদ্দিনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের নাম অভিযোগপত্রে রাখা হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফতাব উদ্দিন, বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খাজা মাইনুদ্দিন, মোশাহিদ আলম ওরফে রানু মেম্বার, জামাল মিয়া, বিল্লাল মিয়া, বোরহান উদ্দিনসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ৬ থেকে ১১ অক্টোবর তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীর কেটে নৌকা ও বাল্কহেড ব্যবহার করে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতাসহ ১০ জনের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে কাউকে আসামি করা হয়নি। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলেনি, তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
যাদুকাটা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা হলে নদী রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির যে যুগ্ম সম্পাদকের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তার নেপথ্যে রয়েছেন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। যদিও উল্লেখিত ওই বিএনপি নেতা একসময় স্থানীয় আনিসুল হকের গ্রুপ করতেন, কিন্তু পরবর্তীতে কামরুল সংসদ সদস্য হওয়ার পরে স্বাভাবিকভাবেই তার ছত্রছায়ায় চলে আসেন। এরপরেই তারা সম্মিলিতভাবে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এক পর্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলো তিনি সাড়া দেননি।

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় করা বহুল আলোচিত মামলায় তদন্ত শেষে ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
তবে মামলার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, এজাহারে নাম থাকা তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাকাব উদ্দিনসহ ১০ জনের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপে উল্লেখিত বিএনপি নেতার নাম অভিযোগ পত্র থেকে বাদ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার এজাহারে রাকাব উদ্দিনসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাকাব উদ্দিনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের নাম অভিযোগপত্রে রাখা হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফতাব উদ্দিন, বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খাজা মাইনুদ্দিন, মোশাহিদ আলম ওরফে রানু মেম্বার, জামাল মিয়া, বিল্লাল মিয়া, বোরহান উদ্দিনসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ৬ থেকে ১১ অক্টোবর তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীর কেটে নৌকা ও বাল্কহেড ব্যবহার করে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতাসহ ১০ জনের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে কাউকে আসামি করা হয়নি। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলেনি, তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
যাদুকাটা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা হলে নদী রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির যে যুগ্ম সম্পাদকের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তার নেপথ্যে রয়েছেন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। যদিও উল্লেখিত ওই বিএনপি নেতা একসময় স্থানীয় আনিসুল হকের গ্রুপ করতেন, কিন্তু পরবর্তীতে কামরুল সংসদ সদস্য হওয়ার পরে স্বাভাবিকভাবেই তার ছত্রছায়ায় চলে আসেন। এরপরেই তারা সম্মিলিতভাবে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এক পর্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলো তিনি সাড়া দেননি।

আপনার মতামত লিখুন