সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে: মন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে: মন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান বলেছেন, ‘দেশের সমৃদ্ধি ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে একাত্তরে যাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তাদের অকপটে সেই দায় স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, সমৃদ্ধ করতে চাই। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা বিষয়টিকে অকপট স্বীকার করে ক্ষমা না চাইলে পুরো জাতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া কষ্টকর।’

তিনি ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোতে অনুষ্ঠিত সভার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সভায় জেনারেল এম এ জি ওসমানী সভাপতিত্ব করেন। সভায় তৎকালীন মেজর জিয়া দুটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন- একটি হলো এই যুদ্ধের নাম হবে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ এবং অন্যটি যুদ্ধের নেতৃত্ব দেবেন জেনারেল ওসমানী। ওই সভার স্মৃতি সংরক্ষণে নামফলক স্থাপনের কাজ চলছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবদান ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা অখণ্ডতা রক্ষায় লড়াই করছেন, তাদেরও সম্মান জানানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘সম্মানটাই বড় কথা, টাকা বড় বিষয় নয়।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও পেশাদার করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে চাই। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজন ভুলে দেশ গড়ার স্বার্থে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে রাওয়া ক্লাবের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও অফিসাররা বক্তব্য দেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে: মন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান বলেছেন, ‘দেশের সমৃদ্ধি ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে একাত্তরে যাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তাদের অকপটে সেই দায় স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, সমৃদ্ধ করতে চাই। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা বিষয়টিকে অকপট স্বীকার করে ক্ষমা না চাইলে পুরো জাতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া কষ্টকর।’

তিনি ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোতে অনুষ্ঠিত সভার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সভায় জেনারেল এম এ জি ওসমানী সভাপতিত্ব করেন। সভায় তৎকালীন মেজর জিয়া দুটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন- একটি হলো এই যুদ্ধের নাম হবে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ এবং অন্যটি যুদ্ধের নেতৃত্ব দেবেন জেনারেল ওসমানী। ওই সভার স্মৃতি সংরক্ষণে নামফলক স্থাপনের কাজ চলছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবদান ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা অখণ্ডতা রক্ষায় লড়াই করছেন, তাদেরও সম্মান জানানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘সম্মানটাই বড় কথা, টাকা বড় বিষয় নয়।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও পেশাদার করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে চাই। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজন ভুলে দেশ গড়ার স্বার্থে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে রাওয়া ক্লাবের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও অফিসাররা বক্তব্য দেন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত