সংবাদ

স্থায়ী বন্ধু নেই: ক্ষমতা আর সংখ্যার অঙ্কেই আটকে ভারতের রাজনীতি


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

স্থায়ী বন্ধু নেই: ক্ষমতা আর সংখ্যার অঙ্কেই আটকে ভারতের রাজনীতি

ভারতের রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান, জোটের সমীকরণ, এমনকি নেতাদের ব্যক্তিগত অবস্থান—সবকিছুই যেন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। একসময় যেখানে আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে রাজনীতি পরিচালিত হতো, সেখানে এখন সংখ্যার অঙ্ক, ক্ষমতার সমীকরণ এবং রাজনৈতিক টিকে থাকার কৌশলই প্রধান হয়ে উঠেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই মুহূর্তে ভারতীয় রাজনীতিতে কি কোনও স্থায়িত্ব আছে? নাকি সবই কেবল পরিস্থিতিনির্ভর অবস্থান?

এই অনিশ্চয়তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। শারদ পাওয়ার-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি ইতিমধ্যেই বিভক্ত। অজিত পাওয়ার-এর নেতৃত্বে একাংশ শাসক শিবিরের দিকে ঝুঁকেছে, অন্যদিকে শরদ পাওয়ার ও তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া শুলে বিরোধী জোটের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছেন। ফলে “কংগ্রেসের সঙ্গে ডিল” বা “বিজেপি -র দিকে ঝোঁকা”—দুটো সম্ভাবনাই একসঙ্গে টিকে আছে। অর্থাৎ, এখানে আদর্শের চেয়ে কৌশলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একইভাবে রাহুল গান্ধীi-এর নেতৃত্বে বিরোধী শিবির নিজেদের শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই জোটের মধ্যেও পারস্পরিক সন্দেহ এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। কে কতটা আসন পাবে, কে নেতৃত্ব দেবে—এই প্রশ্নগুলোই জোট রাজনীতির ভিতকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ফলে বাইরে থেকে ঐক্যবদ্ধ দেখালেও ভিতরে ভিতরে এই জোটগুলোর মধ্যে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে।

অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক দলগুলিকে নিজেদের দিকে টানার কৌশল নিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তথাকথিত 'অপারেশন লোটাস'-এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে দলভাঙানো, বিধায়ক বা সাংসদদের শিবির বদল করানো—এসব এখন রাজনৈতিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এটাও ঠিক যে, অনেক ক্ষেত্রেই নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে স্বেচ্ছায় দল পরিবর্তন করছেন। ফলে এখানে একতরফা দোষারোপ করা কঠিন।

এই পুরো পরিস্থিতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো সংখ্যার রাজনীতি। মহিলা সংরক্ষণ বিল, Delimitation বিল, One Nation One Vote সহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে পেশ কড়া হবে, যার মূল দৃষ্টি ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাশ করানো আর তা করাতে হলে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, তা বিজেপির হাতে এই মুহূর্তে নেই। এই পয়েন্টটাই মূল—তাই সংসদে সংখ্যার জোর বাড়ানোই এখন তাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য। কারণ এই ধরনের সাংবিধানিক ও নীতিগত বিল পাশ করাতে হলে শুধু সরকারে থাকা যথেষ্ট নয়, সংসদে নিরঙ্কুশ বা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাও নিশ্চিত করতে হয়। সেই বাস্তবতাই বিজেপিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে, নতুন সমীকরণ গড়তে এবং সম্ভাব্য সমর্থন আগেভাগেই সুরক্ষিত করতে বাধ্য করছে।

এই অস্থিরতা শুধু মহারাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা—প্রায় সব রাজ্যেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দলবদল, জোট ভাঙা-গড়া, নতুন সমীকরণ—এসব এখন নিয়মিত ঘটনা। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। “সকালে এক দল, বিকেলে অন্য দল”—এই প্রবণতা রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতীয় রাজনীতিতে এখন একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড চলছে। এই সময়ে স্থায়ী কোনও জোট বা অবস্থান তৈরি হওয়া কঠিন। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী দল ও নেতারা নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছেন। এই প্রবণতা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আরও বাড়তে পারে।

বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন  বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুহাস পালশিকার বলেন, “ভারতের রাজনীতি এখন ‘কোয়ালিশন অফ কনভেনয়েন্স’-এর দিকে এগোচ্ছে, যেখানে আদর্শ নয়, প্রয়োজনই জোট নির্ধারণ করছে।”

রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ যোগেন্দ্র যাদব-এর মতে, “এই মুহূর্তে দলবদল আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি প্যাটার্ন—যেখানে ক্ষমতার কাছে পৌঁছানোই প্রধান লক্ষ্য।”

ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেন, “গণতান্ত্রিক কাঠামো অটুট থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়েছে।”

অন্যদিকে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ প্রদীপ গুপ্ত মন্তব্য করেন, “ভোটাররা এখন দল নয়, স্থায়িত্ব ও নেতৃত্ব খুঁজছে—কিন্তু রাজনীতিতে সেই স্থায়িত্বই সবচেয়ে কম।”

এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যগুলোই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে—যেখানে কৌশল, সংখ্যা ও ক্ষমতার অঙ্কই এখন রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।

সবশেষে বলা যায়, বর্তমান ভারতীয় রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো—অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাস। এখানে আর কোনও সম্পর্ক স্থায়ী নয়, কোনও জোট চিরস্থায়ী নয়। রাজনীতির ময়দানে এখন একটাই বাস্তবতা—সংখ্যা এবং ক্ষমতা। আদর্শের জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, আর রাজনৈতিক কৌশলই হয়ে উঠছে শেষ কথা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


স্থায়ী বন্ধু নেই: ক্ষমতা আর সংখ্যার অঙ্কেই আটকে ভারতের রাজনীতি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান, জোটের সমীকরণ, এমনকি নেতাদের ব্যক্তিগত অবস্থান—সবকিছুই যেন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। একসময় যেখানে আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে রাজনীতি পরিচালিত হতো, সেখানে এখন সংখ্যার অঙ্ক, ক্ষমতার সমীকরণ এবং রাজনৈতিক টিকে থাকার কৌশলই প্রধান হয়ে উঠেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই মুহূর্তে ভারতীয় রাজনীতিতে কি কোনও স্থায়িত্ব আছে? নাকি সবই কেবল পরিস্থিতিনির্ভর অবস্থান?

এই অনিশ্চয়তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। শারদ পাওয়ার-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি ইতিমধ্যেই বিভক্ত। অজিত পাওয়ার-এর নেতৃত্বে একাংশ শাসক শিবিরের দিকে ঝুঁকেছে, অন্যদিকে শরদ পাওয়ার ও তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া শুলে বিরোধী জোটের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছেন। ফলে “কংগ্রেসের সঙ্গে ডিল” বা “বিজেপি -র দিকে ঝোঁকা”—দুটো সম্ভাবনাই একসঙ্গে টিকে আছে। অর্থাৎ, এখানে আদর্শের চেয়ে কৌশলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একইভাবে রাহুল গান্ধীi-এর নেতৃত্বে বিরোধী শিবির নিজেদের শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই জোটের মধ্যেও পারস্পরিক সন্দেহ এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। কে কতটা আসন পাবে, কে নেতৃত্ব দেবে—এই প্রশ্নগুলোই জোট রাজনীতির ভিতকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ফলে বাইরে থেকে ঐক্যবদ্ধ দেখালেও ভিতরে ভিতরে এই জোটগুলোর মধ্যে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে।

অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক দলগুলিকে নিজেদের দিকে টানার কৌশল নিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তথাকথিত 'অপারেশন লোটাস'-এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে দলভাঙানো, বিধায়ক বা সাংসদদের শিবির বদল করানো—এসব এখন রাজনৈতিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এটাও ঠিক যে, অনেক ক্ষেত্রেই নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে স্বেচ্ছায় দল পরিবর্তন করছেন। ফলে এখানে একতরফা দোষারোপ করা কঠিন।

এই পুরো পরিস্থিতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো সংখ্যার রাজনীতি। মহিলা সংরক্ষণ বিল, Delimitation বিল, One Nation One Vote সহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে পেশ কড়া হবে, যার মূল দৃষ্টি ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাশ করানো আর তা করাতে হলে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, তা বিজেপির হাতে এই মুহূর্তে নেই। এই পয়েন্টটাই মূল—তাই সংসদে সংখ্যার জোর বাড়ানোই এখন তাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য। কারণ এই ধরনের সাংবিধানিক ও নীতিগত বিল পাশ করাতে হলে শুধু সরকারে থাকা যথেষ্ট নয়, সংসদে নিরঙ্কুশ বা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাও নিশ্চিত করতে হয়। সেই বাস্তবতাই বিজেপিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে, নতুন সমীকরণ গড়তে এবং সম্ভাব্য সমর্থন আগেভাগেই সুরক্ষিত করতে বাধ্য করছে।

এই অস্থিরতা শুধু মহারাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা—প্রায় সব রাজ্যেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দলবদল, জোট ভাঙা-গড়া, নতুন সমীকরণ—এসব এখন নিয়মিত ঘটনা। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। “সকালে এক দল, বিকেলে অন্য দল”—এই প্রবণতা রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতীয় রাজনীতিতে এখন একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড চলছে। এই সময়ে স্থায়ী কোনও জোট বা অবস্থান তৈরি হওয়া কঠিন। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী দল ও নেতারা নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছেন। এই প্রবণতা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আরও বাড়তে পারে।

বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন  বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুহাস পালশিকার বলেন, “ভারতের রাজনীতি এখন ‘কোয়ালিশন অফ কনভেনয়েন্স’-এর দিকে এগোচ্ছে, যেখানে আদর্শ নয়, প্রয়োজনই জোট নির্ধারণ করছে।”

রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ যোগেন্দ্র যাদব-এর মতে, “এই মুহূর্তে দলবদল আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি প্যাটার্ন—যেখানে ক্ষমতার কাছে পৌঁছানোই প্রধান লক্ষ্য।”

ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেন, “গণতান্ত্রিক কাঠামো অটুট থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়েছে।”

অন্যদিকে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ প্রদীপ গুপ্ত মন্তব্য করেন, “ভোটাররা এখন দল নয়, স্থায়িত্ব ও নেতৃত্ব খুঁজছে—কিন্তু রাজনীতিতে সেই স্থায়িত্বই সবচেয়ে কম।”

এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যগুলোই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে—যেখানে কৌশল, সংখ্যা ও ক্ষমতার অঙ্কই এখন রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।

সবশেষে বলা যায়, বর্তমান ভারতীয় রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো—অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাস। এখানে আর কোনও সম্পর্ক স্থায়ী নয়, কোনও জোট চিরস্থায়ী নয়। রাজনীতির ময়দানে এখন একটাই বাস্তবতা—সংখ্যা এবং ক্ষমতা। আদর্শের জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, আর রাজনৈতিক কৌশলই হয়ে উঠছে শেষ কথা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত