সংবাদ

এবার ঢাকা বোর্ড ‘ঘেরাও’, ৪ জেলায় অবরোধ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

এবার ঢাকা বোর্ড ‘ঘেরাও’, ৪ জেলায় অবরোধ
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে ‘ভুল ও কঠিন’ প্রশ্ন রাখার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীসহ বগুড়া, বরিশাল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বিকেলে তারা ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন এবং ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগান দেন। একপর্যায়ে ইট ছোড়েন ও গেটে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এর আগে সকালে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে মিরপুর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২ থেকে ১৫টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এই অবরোধে অংশ নেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যান। ভিসি চত্বরের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দিলে নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। পরে পলাশী মোড় হয়ে ঢাকা বোর্ডের সামনে যান। বিকেলে বকশীবাজারে অবস্থান নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ দুটি- প্রথমত, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া। দ্বিতীয়ত, পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে ভুল ও অত্যন্ত কঠিন প্রশ্ন রাখা।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ‘পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটি প্রশ্নই ভুল করা হয়েছে। বাকি ছয়টি প্রশ্ন অনেক বেশি কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মতো প্রশ্ন করা হয়েছে।’

ঢাকা আইডিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি। আবার অনেকে পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে গেছেন। অ্যাডমিট কার্ড ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের দাবি, ‘যিনি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করতে পারেন না, আমরা এমন শিক্ষামন্ত্রী চাই না।'’

রাজধানীর বাইরে বগুড়া, বরিশাল, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ জেলাতেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। বগুড়ার সাতমাথা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, 'আমরা আর পরীক্ষা দেব না। যতদিন শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করবেন, ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাব।'

বরিশালে দুপুরে শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে দুই পাশে যানবাহন আটকে যায়, যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। স্থানীয় যাত্রীরা জানান, তারা দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকে আছেন। অনেকের জরুরি কাজ পড়ে আছে। অবরোধের কারণে খাবার-পানির সংকট দেখা দেয়।

কুমিল্লার কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে ‘কুমিল্লার সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’ ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা।  ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’, ‘তুমি কে আমি কে, মুরগি মুরগি’ স্লোগান দেন তারা। পরে শিক্ষাবোর্ড প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন।

ময়মনসিংহের টাউন হল এলাকায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে এই অবরোধ শুরু হয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন।

পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রব্বানী হোসেন জানান, রাজধানীতে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিয়েছে।যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঢাকা বোর্ডের সামনে উত্তেজনা দেখা দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


এবার ঢাকা বোর্ড ‘ঘেরাও’, ৪ জেলায় অবরোধ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে ‘ভুল ও কঠিন’ প্রশ্ন রাখার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীসহ বগুড়া, বরিশাল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বিকেলে তারা ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন এবং ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগান দেন। একপর্যায়ে ইট ছোড়েন ও গেটে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এর আগে সকালে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে মিরপুর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২ থেকে ১৫টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এই অবরোধে অংশ নেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যান। ভিসি চত্বরের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দিলে নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। পরে পলাশী মোড় হয়ে ঢাকা বোর্ডের সামনে যান। বিকেলে বকশীবাজারে অবস্থান নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ দুটি- প্রথমত, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া। দ্বিতীয়ত, পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে ভুল ও অত্যন্ত কঠিন প্রশ্ন রাখা।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ‘পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটি প্রশ্নই ভুল করা হয়েছে। বাকি ছয়টি প্রশ্ন অনেক বেশি কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মতো প্রশ্ন করা হয়েছে।’

ঢাকা আইডিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি। আবার অনেকে পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে গেছেন। অ্যাডমিট কার্ড ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের দাবি, ‘যিনি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করতে পারেন না, আমরা এমন শিক্ষামন্ত্রী চাই না।'’

রাজধানীর বাইরে বগুড়া, বরিশাল, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ জেলাতেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। বগুড়ার সাতমাথা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, 'আমরা আর পরীক্ষা দেব না। যতদিন শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করবেন, ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাব।'

বরিশালে দুপুরে শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে দুই পাশে যানবাহন আটকে যায়, যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। স্থানীয় যাত্রীরা জানান, তারা দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকে আছেন। অনেকের জরুরি কাজ পড়ে আছে। অবরোধের কারণে খাবার-পানির সংকট দেখা দেয়।

কুমিল্লার কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে ‘কুমিল্লার সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’ ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা।  ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’, ‘তুমি কে আমি কে, মুরগি মুরগি’ স্লোগান দেন তারা। পরে শিক্ষাবোর্ড প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন।

ময়মনসিংহের টাউন হল এলাকায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে এই অবরোধ শুরু হয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন।

পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রব্বানী হোসেন জানান, রাজধানীতে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিয়েছে।যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঢাকা বোর্ডের সামনে উত্তেজনা দেখা দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত