‘মৃত্যুদণ্ড পাওয়া’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে ‘স্বাগত’ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা ফিরে এলে ‘সুবিচার নিশ্চিত করা হবে’।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘উনি আসার ব্যাপারে আমরা যেহেতু চেষ্টা করছি, উনি যদি আসেন আমরা তাকে স্বাগত জানাব। আমরা সুবিচার নিশ্চিত করতে চাই। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তিনি আসবেন, তিনি আসলে তাকে আমরা যদি প্রত্যর্পণ করে আনতে পারি, আমরা তো সেই চেষ্টাই করছি।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘উনি আসলে মামলা ফেস করবেন। মামলার জন্য আইসিটিতে এখন বিদেশি আইনজীবী আনারও সুযোগ আছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম আইনজীবী তিনি আনুন। তাকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করুন। ওখানে পর্যবেক্ষক রাখা যায়, ভিডিও ক্যামেরা রাখা যায়- এতটাই আধুনিক করা হয়েছে আইসিটি আইনকে। স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া চলবে।’
তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা তো আদালতে গেছি। আদালতে তিনি যদি প্রমাণ করতে পারেন তিনি অপরাধী নন, আদালত যদি শেষ পর্যন্ত তাকে অন্য কোনো শাস্তি দেয় অথবা খালাস দেয়, সেটাও হবে। সুতরাং সুবিচার এভাবেই হতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আছে বলে আমি মনে করি না। এমনকি যারা আওয়ামী লীগের প্রতি কিছু সহানুভূতিশীল, তারাও মনে করেন না যে ওনার কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে। সুতরাং এটাকে আমি কোনো চাপ বা সমস্যা বলে মনে করি না।’
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘যদি এমন হতো যে আমরা চাইছি উনি ওখানেই থাকুন, উনি এখন আসবেন বলে আমরা চাপে পড়ে গেছি—ব্যাপারটা সেরকম নয়। শুধু অন্তর্বর্তী সরকার না, এই সরকারও ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে।’
শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কেউ যদি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতায় বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আদালতের নির্দেশনা অমান্য না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোই সবার দায়িত্ব।’

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
‘মৃত্যুদণ্ড পাওয়া’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে ‘স্বাগত’ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা ফিরে এলে ‘সুবিচার নিশ্চিত করা হবে’।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘উনি আসার ব্যাপারে আমরা যেহেতু চেষ্টা করছি, উনি যদি আসেন আমরা তাকে স্বাগত জানাব। আমরা সুবিচার নিশ্চিত করতে চাই। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তিনি আসবেন, তিনি আসলে তাকে আমরা যদি প্রত্যর্পণ করে আনতে পারি, আমরা তো সেই চেষ্টাই করছি।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘উনি আসলে মামলা ফেস করবেন। মামলার জন্য আইসিটিতে এখন বিদেশি আইনজীবী আনারও সুযোগ আছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম আইনজীবী তিনি আনুন। তাকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করুন। ওখানে পর্যবেক্ষক রাখা যায়, ভিডিও ক্যামেরা রাখা যায়- এতটাই আধুনিক করা হয়েছে আইসিটি আইনকে। স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া চলবে।’
তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা তো আদালতে গেছি। আদালতে তিনি যদি প্রমাণ করতে পারেন তিনি অপরাধী নন, আদালত যদি শেষ পর্যন্ত তাকে অন্য কোনো শাস্তি দেয় অথবা খালাস দেয়, সেটাও হবে। সুতরাং সুবিচার এভাবেই হতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আছে বলে আমি মনে করি না। এমনকি যারা আওয়ামী লীগের প্রতি কিছু সহানুভূতিশীল, তারাও মনে করেন না যে ওনার কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে। সুতরাং এটাকে আমি কোনো চাপ বা সমস্যা বলে মনে করি না।’
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘যদি এমন হতো যে আমরা চাইছি উনি ওখানেই থাকুন, উনি এখন আসবেন বলে আমরা চাপে পড়ে গেছি—ব্যাপারটা সেরকম নয়। শুধু অন্তর্বর্তী সরকার না, এই সরকারও ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে।’
শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কেউ যদি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতায় বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আদালতের নির্দেশনা অমান্য না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোই সবার দায়িত্ব।’

আপনার মতামত লিখুন