সংবাদ

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
কড়া নিরাপত্তায় আসামিদের আদালতে হাজির করা হচ্ছে। ছবি : সংবাদ

সিলেটের মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আরও ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় বাকি ৪ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে রনি ও অর্জুন লস্কর। খালাস পেয়েছেন আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী।

এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক মানুষের ভিড় থাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেট কারে করে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তাদের জিম্মি করে ৫-৬ জন তরুণ। তাদের ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে তাদের টাকা ও গাড়ি রেখে ছেড়ে দেয় হামলাকারীরা।

ঘটনার পর জানা যায়, অভিযুক্তরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ নিয়ে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করার পর পুলিশ ও র‍্যাব অভিযান চালিয়ে ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। ডিএনএ পরীক্ষায় ৬ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।

মামলাটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। মামলায় গৃহবধূ, তার স্বামী, চিকিৎসক ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ ৪ বছর পর আজ এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

সিলেটের মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আরও ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় বাকি ৪ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে রনি ও অর্জুন লস্কর। খালাস পেয়েছেন আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী।

এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক মানুষের ভিড় থাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেট কারে করে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তাদের জিম্মি করে ৫-৬ জন তরুণ। তাদের ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে তাদের টাকা ও গাড়ি রেখে ছেড়ে দেয় হামলাকারীরা।

ঘটনার পর জানা যায়, অভিযুক্তরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ নিয়ে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করার পর পুলিশ ও র‍্যাব অভিযান চালিয়ে ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। ডিএনএ পরীক্ষায় ৬ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।

মামলাটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। মামলায় গৃহবধূ, তার স্বামী, চিকিৎসক ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ ৪ বছর পর আজ এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত