মধ্যরাতে কুয়েত সিটির হাসাবিয়া-আব্বাসিয়া এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল সংখ্যক বৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে কুয়েতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েতে নানা জটিলতায় বিপাকে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিপদ আরো বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষের এই আকস্মিক অভিযান।
২০২৫ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কুয়েতে বর্তমানে বাংলাদেশির সংখ্যা ৩ লাখের বেশি। দেশটিতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা মূলত বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, প্রাইভেট কোম্পানি এবং গৃহকর্মী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মধ্য রাতে কুয়েত সিটির জিলিব আল-শুয়াইখ এলাকার হাসাবিয়া-আব্বাসিয়ায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পরিচালিত ওই অভিযানে এলাকাটি থেকে বিপুল সংখ্যক বৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সে সময় তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। যারা অভিযান এড়াতে সক্ষম হয়েছেন, তাদেরও অনেকে বাড়িঘরে ফিরতে এখন ভয় পাচ্ছেন।
হাসাবিয়া-আব্বাসিয়া এলাকায় বসবাসকারীরা বলছেন, এলাকার বাসিন্দাদের প্রায় নব্বই শতাংশই বাংলাদেশি। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মধ্যরাতে হঠাৎ বাড়িঘর ছাড়ার এমন নির্দেশ আসায় সবাই আতঙ্কিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, তড়িঘড়ি করে বের হয়ে আসা অনেক প্রবাসীকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আটকে রাখা হয়েছে। যেসব ভবনে এসব প্রবাসী বসবাস করছিলেন, সেগুলোর অধিকাংশেরই স্থানীয় আইন অনুযায়ী পরিত্যক্ত। ফলে এসব ভবন খালি করার জন্য প্রশাসন অভিযান চালাতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
প্রবাসীরা বলছেন, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, কাজের অভাব, ব্যবসায় মন্দা ও বিমানের টিকিটের বাড়তি দামের কারণে অনেকেই বিপাকে রয়েছেন। বিশেষ করে, ঢাকা-কুয়েত রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত থাকায় অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না।
বাংলাদেশ ফ্যামিলি ফোরাম কুয়েতের সভাপতি আব্দুল হাই ভূইয়া বলেন, “এখন আর কোনো কিছুই আগের মতো নেই। যুদ্ধের আতঙ্কে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আইনি কড়াকড়ির কারণে প্রবাসীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।”
এক প্রবাসী বাংলাদেশি জানান, আগে ইরান থেকে হামলার আশঙ্কা থাকলে সাইরেন বাজানো হতো। এখন ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এলেও সাইরেন বাজানো হয় না। হঠাৎ বড় কোনো হামলা হলে কোথায় আশ্রয় নেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম হাওলাদার বলেন, বর্তমানে প্রবাসীদের মূল দাবি বিমানের ঢাকা-কুয়েত ফ্লাইট দ্রুত চালু করা। ফ্লাইট চালু হলে টিকেটের দাম সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং জরুরি প্রয়োজনে সহজে দেশে ফিরতে পারবেন বলে তাদের আশা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছেন তারা।
এ বিষয়ে কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দূতাবাস দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।” সূত্র: বিডিনিউজ।

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
মধ্যরাতে কুয়েত সিটির হাসাবিয়া-আব্বাসিয়া এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল সংখ্যক বৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে কুয়েতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েতে নানা জটিলতায় বিপাকে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিপদ আরো বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষের এই আকস্মিক অভিযান।
২০২৫ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কুয়েতে বর্তমানে বাংলাদেশির সংখ্যা ৩ লাখের বেশি। দেশটিতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা মূলত বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, প্রাইভেট কোম্পানি এবং গৃহকর্মী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মধ্য রাতে কুয়েত সিটির জিলিব আল-শুয়াইখ এলাকার হাসাবিয়া-আব্বাসিয়ায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পরিচালিত ওই অভিযানে এলাকাটি থেকে বিপুল সংখ্যক বৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সে সময় তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। যারা অভিযান এড়াতে সক্ষম হয়েছেন, তাদেরও অনেকে বাড়িঘরে ফিরতে এখন ভয় পাচ্ছেন।
হাসাবিয়া-আব্বাসিয়া এলাকায় বসবাসকারীরা বলছেন, এলাকার বাসিন্দাদের প্রায় নব্বই শতাংশই বাংলাদেশি। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মধ্যরাতে হঠাৎ বাড়িঘর ছাড়ার এমন নির্দেশ আসায় সবাই আতঙ্কিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, তড়িঘড়ি করে বের হয়ে আসা অনেক প্রবাসীকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আটকে রাখা হয়েছে। যেসব ভবনে এসব প্রবাসী বসবাস করছিলেন, সেগুলোর অধিকাংশেরই স্থানীয় আইন অনুযায়ী পরিত্যক্ত। ফলে এসব ভবন খালি করার জন্য প্রশাসন অভিযান চালাতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
প্রবাসীরা বলছেন, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, কাজের অভাব, ব্যবসায় মন্দা ও বিমানের টিকিটের বাড়তি দামের কারণে অনেকেই বিপাকে রয়েছেন। বিশেষ করে, ঢাকা-কুয়েত রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত থাকায় অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না।
বাংলাদেশ ফ্যামিলি ফোরাম কুয়েতের সভাপতি আব্দুল হাই ভূইয়া বলেন, “এখন আর কোনো কিছুই আগের মতো নেই। যুদ্ধের আতঙ্কে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আইনি কড়াকড়ির কারণে প্রবাসীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।”
এক প্রবাসী বাংলাদেশি জানান, আগে ইরান থেকে হামলার আশঙ্কা থাকলে সাইরেন বাজানো হতো। এখন ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এলেও সাইরেন বাজানো হয় না। হঠাৎ বড় কোনো হামলা হলে কোথায় আশ্রয় নেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম হাওলাদার বলেন, বর্তমানে প্রবাসীদের মূল দাবি বিমানের ঢাকা-কুয়েত ফ্লাইট দ্রুত চালু করা। ফ্লাইট চালু হলে টিকেটের দাম সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং জরুরি প্রয়োজনে সহজে দেশে ফিরতে পারবেন বলে তাদের আশা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছেন তারা।
এ বিষয়ে কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দূতাবাস দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।” সূত্র: বিডিনিউজ।

আপনার মতামত লিখুন