সংবাদ

পিতৃশোক ছাপিয়ে বড় হলো দায়িত্ববোধ


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ এএম

পিতৃশোক ছাপিয়ে বড় হলো দায়িত্ববোধ
বাবা সীতেশ রঞ্জন দেবের আদর্শেই পথ চলছেন সজল। ছবি : সংবাদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও সেবায় এক নিবেদিত নাম সীতেশ রঞ্জন দেব। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুতে পরিবারে এখনো শোকের ছায়া। তবে ব্যক্তিগত শোকের চেয়ে দায়িত্বকেই বড় করে দেখলেন তার ছেলে ও বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন কুমার দেব সজল। বাবার মৃত্যুর মাত্র ৩ দিনের মাথায় লোকালয় থেকে ২ টি অজগর উদ্ধার করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শ্রীমঙ্গল শহরতলির একটি বাড়ির আঙিনায় খাবারের সন্ধানে আসা একটি বড় অজগর দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়েই শোকাতুর সজল সেখানে ছুটে যান এবং সাপটি উদ্ধার করেন। এর কিছুক্ষণ পরই খবর আসে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে সিন্দুরখান এলাকার হুগলীছড়া চা বাগানে আরেকটি অজগর দেখা গেছে। সেখানে একটি উঁচু গাছের ডাল থেকে কৌশলে দ্বিতীয় অজগরটি উদ্ধার করেন তিনি।

স্বপন কুমার দেব সজল বলেন, ‘বাবা সারাজীবন বন্য প্রাণী রক্ষা ও সেবার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। শোকের এই সময়ে ঘরে বসে থাকার সুযোগ থাকলেও বিপন্ন প্রাণীর জীবন রক্ষার ডাক উপেক্ষা করতে পারিনি। বাবার আদর্শ ধরে রাখাই এখন আমার প্রধান কাজ।’

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্ষাকালে আবাসস্থলের পরিবর্তন বা খাবারের খোঁজে অনেক সময় সাপ লোকালয়ে চলে আসে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়া দায়িত্বশীলতার পরিচয়। সজলের এই নিষ্ঠা বন্য প্রাণী সংরক্ষণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


পিতৃশোক ছাপিয়ে বড় হলো দায়িত্ববোধ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও সেবায় এক নিবেদিত নাম সীতেশ রঞ্জন দেব। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুতে পরিবারে এখনো শোকের ছায়া। তবে ব্যক্তিগত শোকের চেয়ে দায়িত্বকেই বড় করে দেখলেন তার ছেলে ও বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন কুমার দেব সজল। বাবার মৃত্যুর মাত্র ৩ দিনের মাথায় লোকালয় থেকে ২ টি অজগর উদ্ধার করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শ্রীমঙ্গল শহরতলির একটি বাড়ির আঙিনায় খাবারের সন্ধানে আসা একটি বড় অজগর দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়েই শোকাতুর সজল সেখানে ছুটে যান এবং সাপটি উদ্ধার করেন। এর কিছুক্ষণ পরই খবর আসে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে সিন্দুরখান এলাকার হুগলীছড়া চা বাগানে আরেকটি অজগর দেখা গেছে। সেখানে একটি উঁচু গাছের ডাল থেকে কৌশলে দ্বিতীয় অজগরটি উদ্ধার করেন তিনি।

স্বপন কুমার দেব সজল বলেন, ‘বাবা সারাজীবন বন্য প্রাণী রক্ষা ও সেবার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। শোকের এই সময়ে ঘরে বসে থাকার সুযোগ থাকলেও বিপন্ন প্রাণীর জীবন রক্ষার ডাক উপেক্ষা করতে পারিনি। বাবার আদর্শ ধরে রাখাই এখন আমার প্রধান কাজ।’

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্ষাকালে আবাসস্থলের পরিবর্তন বা খাবারের খোঁজে অনেক সময় সাপ লোকালয়ে চলে আসে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়া দায়িত্বশীলতার পরিচয়। সজলের এই নিষ্ঠা বন্য প্রাণী সংরক্ষণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত